ডিভোর্সি স্ত্রীর সঙ্গে প্রেম, অতঃপর...

বিয়ের পর বনিবনা না হওয়ায় স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন শাহীন। ডিভোর্সের পর স্ত্রী রত্না বিয়ে করেছিলেন অন্য একজনকে। দ্বিতীয় বিয়ের পর রত্না ফের আগের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। আর এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় শাহীনের জন্য। রত্নার স্বামীর হাতে খুন হতে হয় শাহীনকে। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে  মোবাইল ফোনে কথা বলতেন শাহীন। তাদের এই যোগাযোগ ধরে ফেলেন রত্নার স্বামী টুটুল। এরপরই টুটুল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শাহীনের ওপর। স্ত্রীর সঙ্গে শাহীনের এই সম্পর্ক সহ্য করতে না পেরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে শাহীনকে। রাজধানীর খিলগাঁও ৭৬ নম্বর মেরাদিয়া হিন্দুপাড়া এলাকায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সেদিন টুটুল শাহীনের বাসায় গিয়ে তাকে ডেকে বাইরে নিয়ে আসে। অন্য বাসার ছাদে পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে অনেক সময় বাগবিত-া চলে। একপর্যায়ে শাহীন বিষয়টিকে শান্ত করার জন্য টুটুলকে বলে তার রুমে চলে যান। তবে টুটুল শাহীনের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। শাহীন বাঁচার জন্য নিজেই ঘরের দরজা খুলে বের হয়ে এলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টার দিকে মৃত্যু হয় তার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ মোবাইল ফোনে তাদের পরকীয়া চলছিল। আর এই ঘটনা টুটুল হাতেনাতে ধরে ফেলে। সবার অগোচরে চালিয়ে যাওয়া প্রেম টুটুলের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। নিহত শাহীনের স্ত্রী রুবি জানান, ১১ বছর আগে রত্নার সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল শাহীনের। বছর যেতে না যেতেই তাদের সংসার ভেঙে যায়। এর কারণ হলো শাহীনের পরিবার ও রত্নার পরিবার তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেয়নি। রত্নার পারিবারিক অবস্থা অনেক ভাল ছিল আর শাহীনের তেমন কিছুই ছিল না। বিলবোর্ডের কাজ করে সংসার চালাতো। একদিন কাজ করলে ১০ দিন বসে থাকতো। এসবের কারণে তাদের দুই পরিবারর মধ্যে অনেক ঝগড়া হতো। অনেক বিচারও হয়েছে। এসবের একপর্যায়ে রত্নার পরিবার ডির্ভোস করিয়ে নেয়। এরপর তাদের মধ্যে কোন ধরনের যোগাযোগ হয়নি। তখন আমার সঙ্গে পরিচয় হয় শাহীনের। আমি গার্মেন্টে কাজ করতাম। দুজনের বাসা ছিল পাশাপাশি। এই সুবাদে প্রতিদিন দেখা হতো। এই দেখা থেকেই পরিচয়, প্রেম ও পরিণয়। সেই সময় রত্নারও টুটুলের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায়। ভালই চলছিল দুজনের সংসার। রত্নাদের বাসাও ছিল আমাদের পাশে। প্রতিদিন দেখা হতো আমাদের দুই পরিবারের। রুবি বলেন, রত্নার স্বামী টুটুলের সঙ্গেও আমার বাবার বাড়ির সবার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল। প্রায় দিনই সেই বাসায় বেড়াতে আসতো। আমিও তার সঙ্গে কথা বলতাম। তবে আমার স্বামী ও রত্নার মধ্যে যে আবার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে তা আমি জানতাম না; এমনকি কোনদিন বুঝতেও পারিনি। রুবি বলেন, ওই রত্নাই নিজ থেকে শাহীনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সে এলাকার ফ্লেক্সিলোডের দোকান থেকে শাহিনের নাম্বার সংগ্রহ করে। এরপর প্রায়ই অপরিচিত হিসেবে শাহীনকে ফোন দিতো আর বলতো আপনি আমাকে চিনবেন না আমি আপনাকে খুব ভালভাবে চিনি। তাদের প্রেমের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত সোমবার এসব কথা আমাকে শাহীন নিজেই বলেছিল। এই কথাগুলো শুনার পর আমি শাহীনের ওপর রাগ করে আমার চাচার বাসা মহাখালীতে চলে যাই। তবে আমার জানা মতে এখানে শাহীনের কোন দোষ ছিল না। রত্না নিজে থেকেই এই ঘটনাগুলো করেছে। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার এসআই সাব্বির বলেন, পরকীয়ার কারণেই এই হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটেছে। শাহীন ১০ বছর আগে ডির্ভোস দেয়া স্ত্রীর সঙ্গে পুনরায় প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি রত্নার বর্তমান স্বামী জানতে পেরে শাহীনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে যান। যার ফলে গত বুধবার রাতে টুটুল এই হত্যাকা- ঘটনায়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় শাহীনের স্ত্রী বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় একটি হত্যামামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি।

No comments

Powered by Blogger.