এবার বল হাতে মালিঙ্গা-ঝড়

৪ বলে দরকার ৪৭ রান, হাতে ৩ উইকেট। সেই সময়ই ১৮ বলে ৩৭ রানের ঝড়ো ইনিংস লাসিথ মালিঙ্গার। তাতেই চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সুপার কিংসের হার। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর বিপক্ষেও হেসেছিল এই লঙ্কানের ব্যাট। ৮ বলে ১৫ করে শেষ বলের নাটকীয় জয়ে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তবে নিজের আসল কাজটা যে বোলিং, তা ভোলেননি মালিঙ্গা। বল হাতে জ্বলেও উঠলেন আবার সঠিক সময়ে।

পরশু চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে ২০ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ফাইনালেও তুলেছেন তিনি। মুম্বাইয়ের ৫ উইকেটে ১৬০ রানের জবাবে সমারসেটের ইনিংস থামে ৭ উইকেটে ১৫০-এ। আর ম্যাচসেরার পুরস্কারটাও পান মালিঙ্গা। তাই ভীষণ খুশি শ্রীলঙ্কার এই পেসার, 'শেষ ওভারে ১৫ রান দরকার ছিল ওদের। জানতাম, কাজটা কঠিন। সেই ওভারে আমি ২ উইকেট নেওয়ায় ওরা আর পেরে ওঠেনি। বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেছিলাম। কৌশলটা কাজে এসেছে বলে খুশি আমি।'
ফাইনালের আগে ৫ ম্যাচে মালিঙ্গার উইকেট ছিল ৮টি, যা এবারকার চ্যাম্পিয়নস লিগে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ফাইনালের আগ পর্যন্ত ৬ ম্যাচে এই আসরের সবচেয়ে বেশি ১২ উইকেট ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর রবি রামপালের। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০ উইকেটও তাঁরই সতীর্থ সুনীল নারায়ণের। তবে তাঁরা কেউ দলকে শেষ-৪ চারেও তুলতে পারেননি। মালিঙ্গার কৃতিত্বে মুম্বাই কিন্তু প্রথমবারের মতো ফাইনালে। তাই অধিনায়ক হরভজন সিংও খুব খুশি। শচীন টেন্ডুলকার ও রোহিত শর্মাসহ সেরা একাদশের অর্ধেকের মতো খেলোয়াড় না থাকা সত্ত্বেও ফাইনাল পর্যন্ত ওঠার অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি উল্লেখ করলেন প্রথম ম্যাচে ধোনিদের হারানোর কথা। সেই সঙ্গে মালিঙ্গার তুমুল প্রশংসা তো ছিলই, 'পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ ছিল মালিঙ্গা। সেমিফাইনালে ওকে সামলাতেই পারেনি সমারসেটের ব্যাটসম্যানরা। প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলছি বলে দলের সবাই খুশি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আগের বারের চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইকে হারানোর পর সবাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিলাম। কেননা, ওরাই ছিল এই আসরের সবচেয়ে শক্তিশালী দল।'
মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স-রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ফাইনালটা হয়ে গেছে গতকালই। দুই দলেরই চ্যাম্পিয়নস লিগে এটা প্রথম ফাইনাল। তা ছাড়া এবারই প্রথম ফাইনাল খেলল ভারতের দুটি দল। ২০০৯ সালের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে ৪১ রানে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোকে। গত আসরে ভারতের চেন্নাই সুপার কিংস ৮ উইকেটের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে। এই ৪ দলের মধ্যে কেবল নিউ সাউথ ওয়েলসই সেমিফাইনালে পেঁৗছতে পেরেছিল এবার। তাদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফাইনালের টিকিট পায় বেঙ্গালুরু। বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ড্যানিয়েল ভেট্টরি অবশ্য ফাইনালের আগে অভিনন্দনই জানিয়েছেন মুম্বাইকে, 'সেরা কয়েকজন খেলোয়াড়কে হারিয়েও অসাধারণ খেলেছে মুম্বাই। বি্লজার্ড-পোলার্ড-মালিঙ্গারা একাই গড়ে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য।'
পরশু সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বি্লজার্ডের ৩৯ বলে ৫ বাউন্ডারি ৩ ছক্কায় ৫৪, পোলার্ডের ১৮ বলে ২ বাউন্ডারিতে ২৪ আর সতীশের ১২ বলে ২৫ রানের সুবাদে ৫ উইকেটে ১৬০ করেছিল মুম্বাই। জবাবে দ্বিতীয় বলেই মালিঙ্গা ট্রেগোকে বোল্ড করলেও কিসওয়েটারের ৬২ আর হিল্ডরেচের ৩৯-এ ভালোভাবেই লড়াইয়ে ছিল সমারসেট। ১৮ বলে জয়ের জন্য তাদের দরকার ছিল ২৮ রান, হাতে তখনো ৭ উইকেট। কিন্তু ১৯তম ওভারে ফ্র্যাংকলিন আর শেষ ওভারে মালিঙ্গা ২টি করে উইকেট নেওয়ায় মুম্বাই-ই হাসে শেষ হাসি। ওয়েবসাইট


No comments

Powered by Blogger.