জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষার উদ্যোগ -উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিতে অধ্যাদেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করতে আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে আজ সোমবার এ সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দেওয়া তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গত ২৫ ডিসেম্বর এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের একদিন পর মাহদী ও ১১ দিন পর সুরভী জামিন পান।

দায়মুক্তি কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্র জানিয়েছে, এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে কয়বার দায়মুক্তি দিয়ে আইন ও অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়পর্বের ঘটনার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, জুলাই যোদ্ধাদের সেভাবেই দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা যেতে পারে।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৪ জানুয়ারি তিন দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সৈনিকেরা জীবনবাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছে। তাঁরা অবশ্যই দায়মুক্তির অধিকার রাখে। আমরা আগে থেকেই এ বিষয়ে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানে জনধিক্কৃত সরকারগুলোর পতনের পর যেসব দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে, সেসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এবং অতীতে বাংলাদেশে করা এ ধরনের একটি আইন পর্যালোচনা করে আইন মন্ত্রণালয় খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উপদেষ্টা মণ্ডলীর বৈঠকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মামলা ও গ্রেপ্তার না করতে গত বছর ১৪ অক্টোবর একটি বিবৃতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন বলা হয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানকে সাফল্যমণ্ডিত করতে ছাত্র-জনতা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের মাঠে থেকে কাজ করেছে।

এ ছাড়া গত বছরের ৫ আগস্ট জারি করা জুলাই ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।’

‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না’

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, সভায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক নিরাপত্তা প্রস্তুতি, জুলাইয়ের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অগ্রগতি, অপারেশন ডেভিল হান্টের দ্বিতীয় পর্যায়, অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ৭ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি: পিআইডি

No comments

Powered by Blogger.