ভেনেজুয়েলার নতুন নেত্রীকে ট্রাম্পের সতর্কতা, মাদুরোর চেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়েই ক্ষান্ত হননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। দেশটিতে আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা ডেলসি রদ্রিগেজকে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, তিনি যদি সঠিক কাজ না করেন, তবে তাকে ‘খুব বড় মূল্য দিতে হবে- সম্ভবত মাদুরোর চেয়েও বড় হবে তা’। মার্কিন সাময়িকী দ্য অ্যাটলান্টিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, মাদক পাচার ও অস্ত্র সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থেকে মাদুরো একটি ‘নার্কো-সন্ত্রাসী শাসন’ পরিচালনা করছিলেন। মাদুরো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, কারাকাসে শনিবারের বিমান হামলার পর মাদুরো ও তার স্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে এলেও, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় নেই। যদিও কিছু ডেমোক্রেট নেতার ভাষ্য, এই অভিযান ছিল ‘যুদ্ধ ঘোষণার সামিল’। রবিবার দ্য অ্যাটলান্টিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে রদ্রিগেজের উদ্দেশ্যে ট্রাম্প বলেন, তিনি যদি সঠিক কাজ না করেন, তবে তাকে খুব বড় মূল্য দিতে হবে। সম্ভবত মাদুরোর থেকেও বড় হবে তা।
ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘রেজিম-চেঞ্জ- আপনি যা-ই বলুন না কেন- এখনকার পরিস্থিতির চেয়ে ভালোই হবে। এর চেয়ে খারাপ আর হতে পারে না।’ শনিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপদ, যথাযথ ও সুবিবেচিত রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির অবকাঠামো মেরামতে কাজ করবে এবং দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। তবে ট্রাম্পের এমন ঘোষণার মাঝেও মাদুরোর মিত্ররা এখনো ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তার করছে।
কিউবা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ৩২ জন সাহসী কিউবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক মিত্র হিসেবে দেশটি দু’দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। রবিবার একাধিক টিভি সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, এই সামরিক অভিযান যুদ্ধ নয়, বরং মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান। তিনি বলেন, আমরা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নয়, মাদক চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে ‘কোয়ারেন্টাইন’ দিয়েছে, সেটিও চাপ বজায় রাখার কৌশলের অংশ।
মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দল দমন ও সহিংসতা ব্যবহারের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বহু দেশ তার ২০২৪ সালের নির্বাচনী জয়কে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। এরপর তাদের অস্ত্র ও মাদক মামলায় অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদুরো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ও ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো দাবি করেছেন, অভিযানে মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর বড় অংশ, পাশাপাশি সামরিক সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। রুবিও বলেছেন, এ অভিযান আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপারেশন। তাই কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন ছিল না। তিনি বলেন, এ ধরনের গোপন অভিযানের ব্যাপারে কংগ্রেসকে জানানো যায় না। কারণ তাতে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এখন অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান। সেনাবাহিনীও তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সোমবার কারাকাসে তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পড়ানোর কথা।
মার্কিন গণমাধ্যম রুবিও’র কাছে জানতে চায়, যুক্তরাষ্ট্র কি রদ্রিগেজকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়? তিনি উত্তরে বলেন, এটা বৈধতা নিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্র পুরো শাসনকেই অবৈধ মনে করে। ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা অভিযানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, এ অভিযান ছিল শুধু মাদকবিরোধী অপারেশন নয়। এটা ছিল যুদ্ধের কর্মসূচি। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে আরেকটি আইনভঙ্গকে সমর্থন করা যায় না। এমন রেজিম-চেঞ্জের অভিজ্ঞতা আমেরিকানদের রক্ত ও অর্থ- দুই দিকেই ক্ষতি করেছে।
তারা কংগ্রেসে এমন প্রস্তাব আনার ঘোষণা দেন যাতে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ভেনেজুয়েলা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে না পারে হোয়াইট হাউস। ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত, যা আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তারা শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘রেজিম-চেঞ্জ- আপনি যা-ই বলুন না কেন- এখনকার পরিস্থিতির চেয়ে ভালোই হবে। এর চেয়ে খারাপ আর হতে পারে না।’ শনিবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি নিরাপদ, যথাযথ ও সুবিবেচিত রাজনৈতিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো দেশটির অবকাঠামো মেরামতে কাজ করবে এবং দেশের জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। তবে ট্রাম্পের এমন ঘোষণার মাঝেও মাদুরোর মিত্ররা এখনো ক্ষমতায় প্রভাব বিস্তার করছে।
কিউবা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ৩২ জন সাহসী কিউবান যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের সমাজতান্ত্রিক মিত্র হিসেবে দেশটি দু’দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। রবিবার একাধিক টিভি সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, এই সামরিক অভিযান যুদ্ধ নয়, বরং মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান। তিনি বলেন, আমরা ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নয়, মাদক চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। তিনি আরও জানান, ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে ‘কোয়ারেন্টাইন’ দিয়েছে, সেটিও চাপ বজায় রাখার কৌশলের অংশ।
মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী দল দমন ও সহিংসতা ব্যবহারের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বহু দেশ তার ২০২৪ সালের নির্বাচনী জয়কে অবৈধ বলে ঘোষণা করে। শনিবার ভোরে রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত বিশেষ বাহিনীর অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। এরপর তাদের অস্ত্র ও মাদক মামলায় অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মাদুরো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ও ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।
ভেনেজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো দাবি করেছেন, অভিযানে মাদুরোর নিরাপত্তা বাহিনীর বড় অংশ, পাশাপাশি সামরিক সদস্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। রুবিও বলেছেন, এ অভিযান আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অপারেশন। তাই কংগ্রেসের অনুমতি প্রয়োজন ছিল না। তিনি বলেন, এ ধরনের গোপন অভিযানের ব্যাপারে কংগ্রেসকে জানানো যায় না। কারণ তাতে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।
মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এখন অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান। সেনাবাহিনীও তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। সোমবার কারাকাসে তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ পড়ানোর কথা।
মার্কিন গণমাধ্যম রুবিও’র কাছে জানতে চায়, যুক্তরাষ্ট্র কি রদ্রিগেজকে বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয়? তিনি উত্তরে বলেন, এটা বৈধতা নিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্র পুরো শাসনকেই অবৈধ মনে করে। ডেমোক্রেট আইনপ্রণেতারা অভিযানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, এ অভিযান ছিল শুধু মাদকবিরোধী অপারেশন নয়। এটা ছিল যুদ্ধের কর্মসূচি। সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার বলেন, আইনভঙ্গের বিরুদ্ধে আরেকটি আইনভঙ্গকে সমর্থন করা যায় না। এমন রেজিম-চেঞ্জের অভিজ্ঞতা আমেরিকানদের রক্ত ও অর্থ- দুই দিকেই ক্ষতি করেছে।
তারা কংগ্রেসে এমন প্রস্তাব আনার ঘোষণা দেন যাতে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া ভেনেজুয়েলা সংক্রান্ত ভবিষ্যৎ কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে না পারে হোয়াইট হাউস। ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত, যা আন্তর্জাতিক আইন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তারা শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

No comments