ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের আড়াই দশক
১৯৯৯ সাল: হুগো চাভেজ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর তিনি আলোচিত ‘বলিভিয়ারা বিপ্লব’ শুরু করেন। ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতাসংগ্রামের নেতা সিমন বলিভারের নামে এ বিপ্লব বা আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছিল। বলিভিয়ারা বিপ্লবের অংশ হিসেবে সংবিধান সংস্কার ও তেল খাতের জাতীয়করণ করেন। তখন থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কারাকাসের সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হতে শুরু করে।
২০০০ সাল: চাভেজ রাশিয়া, চীন ও ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেন। তাঁর সরকার যুক্তরাষ্ট্র–সমর্থিত এনজিও ও কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে। যুক্তরাষ্ট্র চাভেজের বিরুদ্ধে স্বৈরাচার ও সংবামাধ্যমের ওপর কড়াকড়ি আরোপের অভিযোগ আনে।
২০০২ সাল: একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার জন্য চাভেজকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এ অভ্যুত্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে ভেনেজুয়েলা। কিন্তু ওয়াশিংটন এ অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর দুদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি অবিশ্বাস গড়ে ওঠে।
২০১৩ সাল: হুগো চাভেজের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসেন মাদুরো। তিনি চাভেজের নীতিগুলোই এগিয়ে নেন। তাঁর শাসনের সময় থেকে অর্থনৈতিক দুরবস্থা শুরু হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে।
২০১৪–১৫ সাল: যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও ভিসা সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ফলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ে।
২০১৭–১৯ সাল: ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলার আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে প্রবেশ বন্ধ করে এবং তেলের কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করে। ফলে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি দ্রুত বেড়ে যায়।
২০১৮ সাল: মাদুরোর পুনর্নির্বাচন ব্যাপকভাবে বিতর্কিত হয়। বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদো নিজেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পান।
২০২৪ সাল: এদমুন্দো গোনসালেসকে হারিয়ে মাদুরো বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হন। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সরকার নির্বাচনী ফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
২০২৫ সাল: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার ওপর চাপ নতুন করে বাড়ান। ক্যারিবীয় সাগরে ব্যাপক সেনা ও রণতরি মোতায়েন করেন।
২০২৬ সাল: কারাকাসে ব্যাপক বিস্ফোরণ ও মাদুরোকে সস্ত্রীক তুলে নেওয়া হয়।
![]() |
| হুগো চাভেজ। ফাইল ছবি রয়টার্স |

No comments