সিলিগুড়ির হোটেল মালিকদের ঘোষণা বাংলাদেশিদের ‘না’
অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক উজ্জ্বল ঘোষ ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে বলেন, এই সিদ্ধান্তটি আসলে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আরোপিত প্রথম নিষেধাজ্ঞার বিস্তৃত সংস্করণ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আমাদের সদস্যরা বাংলাদেশি নাগরিকদের থাকার সুযোগ দেয়া বন্ধ করেছিলেন। তবে মানবিক বিবেচনায় শিক্ষার্থী ও চিকিৎসা ভিসায় ভারতে আগত রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছিল। উজ্জ্বল ঘোষ আরও জানান, বর্তমানে চলমান সহিংসতা এবং ছড়িয়ে পড়া ‘বিরোধী-ভারত বক্তব্যে’র কারণে অ্যাসোসিয়েশন এবার সব বাংলাদেশির ওপরই নিষেধাজ্ঞা জারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, শিলিগুড়ি ও আশপাশের এলাকায় অ্যাসোসিয়েশনের অধীনে ১৮০টি হোটেল রয়েছে। প্রত্যেকটি হোটেলই কঠোরভাবে এ নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সময় সময় নিষেধাজ্ঞাটি পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং ‘পরিস্থিতি নিরাপদ ও সম্মানজনক বলে বিবেচিত হলে পুনরায় থাকার সুযোগ চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে।’ বাংলাদেশ সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত শিলিগুড়ি হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ, যেখান দিয়ে পর্যটন, চিকিৎসা ও ছাত্র ভিসায় বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে যাতায়াত করেন। ১৮ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতার সূচনা ঘটে ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের নেতা ও ইনকিলাব মঞ্চ সাংস্কৃতিক সংগঠনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। তিনি গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর পর সারা দেশে বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনাও ছিল। এছাড়া ধর্ম অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় ভারতে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনাপ্রবাহে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সম্পর্ক আগে থেকেই টানাপোড়েনের মধ্যে ছিল।
বাংলাদেশ সরকার ভারতকে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। কারণ দেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ করেছে, তার সরকারবিরোধী আন্দোলনে ‘নৃশংস দমনপীড়ন’ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাসিনা।

No comments