পবিত্র কোরআনের আলো-মদিনায় শান্তি প্রতিষ্ঠা জরুরি ছিল

৮৫. ছুম্মা আনতুম হাউলায়ি তাক্বতুলূনা আন্ফুসাকুম ওয়া তুখ্রিজূনা ফারিক্বাম মিনকুম মিন দিয়ারিহিম; তাজহারূনা 'আলাইহিম বিল ইছ্মি ওয়াল 'উদওয়ানি; ওয়া ইয়্যাঁতূকুম উসারা তুফাদূহুম ওয়াহুয়া মুহার্রামুন 'আলাইকুম ইখ্রাজুহুম; আফাতু'মিনূনা বিবা'দ্বিল কিতাবি ওয়াতাক্ফুরূনা বিবা'দিন; ফামা জাযাউ মাইঁয়াফ্'আলু যালিকা মিনকুম ইল্লা খিয্ইউন


ফিল হাইয়াতিদ দুন্ইয়া; ওয়া ইয়াওমাল কি্বয়ামাতি ইউরাদ্দূনা ইলা আশাদ্দিল 'আযাবি; ওয়ামাল্লাহু বিগাফিলিন 'আম্মা তা'মালূন।
৮৬. উলায়িকাল লাযিনাশ্তারাউল হাইয়াতাদ দুন্ইয়া বিল আখিরাতি; ফালা ইউখাফ্ফাফু 'আন্হুমুল 'আযাবু ওয়ালাহুম ইউন্সারূন।
৮৭. ওয়ালাক্বাদ আতাইনা মূসাল কিতাবা ওয়া কাফ্ফাইনা মিম বা'দিহি বির্রুসুলি; ওয়া আতাইনা 'ইসাব্না মার্ইয়ামাল বায়্যিনাতি ওয়া আইয়্যাদ্নাহু বিরূহিল কুদুসি; আফাকুল্লামা জাআকুম রুসুলুম বিমা লা-তাহ্ওয়া আনফুসুকুমুস তাক্বার্তুম; ফাফারিক্বান কায্যাব্তুম; ওয়া ফারিক্বান তাক্বতুলূন।
৮৮. ওয়া ক্বালূ ক্বুলূবুনা গুল্ফুন; বাল লা'আনাহুমুল্লাহু বিকুফ্রিহিম ফাক্বালীলাম মা ইউ'মিনূন। (সুরা বাকারা : আয়াত ৮৫-৮৮)

অনুবাদ : ৮৫. এরপর এই তো হচ্ছ তোমরা! একে অপরকে তোমরা হত্যা করতে লাগলে, তোমাদের একদল অন্য দলকে ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করে দিতে লাগলে, অন্যায় ও জুলুমের পৃষ্ঠপোষকতা করতে থাকলে। কোনো লোক যুদ্ধবন্দি হয়ে তোমাদের কাছে এলে তোমরা তাদের কাছে মুক্তিপণ দাবি করো, অথচ তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করাটাই ছিল তোমাদের জন্য অন্যায় কাজ। তোমরা কি আল্লাহর কিতাবের একাংশ বিশ্বাস করো এবং আরেক অংশ অবিশ্বাস করো? তোমরা যারা (জাতি বা ব্যক্তি) এ রকম আচরণ করো, তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কী হবে যে পার্থিব জীবনে তাদের লাঞ্ছনা ভোগ করতে হবে এবং পরকালেও কঠিনতম আজাবের মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে। তোমরা যা করছ, সেগুলো সম্পর্কে আল্লাহ মোটেও বেখবর নন।
৮৬. এরা আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়া ক্রয় করে নিয়েছে। তাই তাদের আজাব মোটেও হালকা করা হবে না। আর তাদের কোনো প্রকার সাহায্যও করা হবে না।
৮৭. আমি মুসাকে কিতাব দিয়েছি, তারপর আরো অনেক নবী পাঠিয়েছি। আর সুস্পষ্ট নিদর্শন দিয়ে মারইয়াম পুত্র ঈসাকে পাঠিয়েছি; আমার বাণী ও পবিত্র আত্মার মাধ্যমে আমি তাকে সাহায্য করেছি। যখনই তোমাদের কাছে কোনো নবী আসত, তোমাদের মনঃপূত না হলে তোমরা অহঙ্কারের বশবর্তী হয়ে তাদের অস্বীকার করেছ, তাদের কাউকে তোমরা মিথ্যাবাদী বলেছ, আবার কাউকে হত্যা করেছ।
৮৮. তারা বলে, আমাদের অন্তঃকরণ আবদ্ধ। আসলে সত্যকে বারবার অস্বীকার করার কারণে আল্লাহ তাদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন। অতঃপর তাদের অল্পসংখ্যকই ইমান এনেছে।

ব্যাখ্যা : আগের আয়াতের সূত্র ধরে এখানে বনি ইসরাইলকে যুদ্ধবিগ্রহ পরিহার করে শান্তির পথে আসার যে অঙ্গীকার করানো হয়েছিল, এর ব্যত্যয় ঘটানোর পরিণতি সম্পর্কে হুঁশিয়ার করা হচ্ছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন, তাওরাত কিতাবে বনি ইসরাইলিদের প্রতি এ ব্যাপারে তিনটি হুকুম ওয়াজিব ছিল_ ১. রক্তপাত না করা। ২. কাউকে উচ্ছেদ না করা। ৩. স্বীয় সম্প্রদায়ভুক্ত কেউ বন্দি হলে তাকে অর্থ ব্যয়ে মুক্ত করে আনা। ইহুদিরা তৃতীয় হুকুমটি গুরুত্বসহকারে পালন করত, কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয়টি পালন করত না। তারা সাম্প্রদায়িকতাটা বুঝত; শান্তি ও ন্যায়ের প্রশ্নটি ঠিকমতো বুঝত না। ৮৫ নম্বর আয়াতে তাদের এই দিকটির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে। যারা স্বার্থবুদ্ধিতে অন্ধ হয়ে সত্য ও ন্যায়কে বুঝতে চায় না, তারা আসলে উপস্থিত সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে পরকালের বৃহৎ স্বার্থকে বিক্রি করে দেয়। ওদের পরিণতি শেষ পর্যন্ত ভালো হয় না। এ আয়াতগুলো নাজিলের পটভূমিতে রয়েছে মদিনার আওস ও খাযরাজ গোত্রের মধ্যকার যুদ্ধবিগ্রহ এবং এর সঙ্গে ইহুদি বনি নজর ও বনি কুরাইযা গোত্রের সম্পৃক্ততা। ইহুদি গোত্রগুলো আওস ও খাযরাজ গোত্রের পক্ষে বিভক্ত হয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ত। উল্লেখ করা প্রয়োজন, তখন মদিনায় শান্তি রক্ষার প্রয়োজনে ইহুদি গোত্রগুলোর ঐক্য এবং তাদের কিতাবের প্রকৃত অনুশীলন খুবই জরুরি ছিল।
গ্রন্থনা : মাওলানা হোসেন আলী

No comments

Powered by Blogger.