কে এই এরফান, ইরানে মাত্র ২ দিনের বিচারে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হলো তাঁর
২৬ বছর বয়সী এরফানের গ্রেপ্তার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের সাজার খবর গত সোমবার নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রথম প্রকাশ করেছে নরওয়েভিত্তিক হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস। প্রতিষ্ঠানটি ইরান ও কুর্দিস্তানের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করে।
প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, এত দ্রুত কোনো মামলার বিচার হতে তাঁরা আগে কখনো দেখেননি।
এরফানের বাড়ি ইরানের রাজধানী তেহরানের উত্তর–পশ্চিমের শহর কারাজের ফারদিসে। গত বৃহস্পতিবার বাড়ি থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার আগে তখন শহরটিতে বিক্ষোভ তুঙ্গে ছিল।
হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন অধিকার সংগঠন ও সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হওয়া এরফানের পরিবারের সদস্যদের গত রোববার জানানো হয়, বিচার শেষ হয়ে গেছে। এরফান মৃত্যুদণ্ডের সাজা পেয়েছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ফাঁসির সাজা কার্যকর করা হবে।
এ বিষয়ে এরফানের এক স্বজন বিবিসি ফারসিকে বলেন, একটি আদালত ‘অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে’ এরফানের বিচার করেছেন। মাত্র দুই দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া হয়েছে। তবে ওই স্বজনের নাম–পরিচয় প্রকাশ করেনি বিবিসি।
সাজা ঘোষণার পর এরফানের সঙ্গে শেষবারের জন্য দেখা করতে পরিবারের সদস্যদের মাত্র ১০ মিনিট সময় দিয়েছে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ভারতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এরফানের বোন নিজেও ইরানের একজন নিবন্ধিত আইনজীবী। তিনি ভাইয়ের হয়ে আইনি লড়াই চালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাঁকে এ মামলার নথিপত্র পেতে বাধা দিয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র আওয়ার শেখি বলেন, এ মামলা প্রমাণ করছে, ‘ইরানের সরকার দেশটির মানুষকে দমন করতে ও ভয় ছড়িয়ে দিতে তাদের জানা প্রতিটি কৌশল ব্যবহার করছে।’
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ইরানে। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১ দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ও ১২ শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ আজ ভোরে নিহতের এ সংখ্যা জানায়।
বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে প্রায় পাঁচ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে ইরানের বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিক্ষোভে ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে ইরান সরকার।
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া নিয়ে ইরানকে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তবে সেই ব্যবস্থা প্রকৃতপক্ষে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
![]() |
| এরফান সোলতানি। ছবি: হেনগো অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের ওয়েবসাইট |

No comments