গ্রিনল্যান্ড আমরা রক্ষা করব’- যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধ্বংসাত্মক’ ন্যাটো যুদ্ধের সতর্কবার্তা ডেনমার্কের

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হামলা চালায়, তবে ডেনমার্ককে আত্মরক্ষা করতে হবে। এমন মন্তব্য করেছেন ডেনমার্কের সংসদ সদস্য ও পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান রাসমুস জারলোভ। তিনি স্বীকার করেন, ডেনমার্কের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্রকে থামাতে সক্ষম না হলেও এমন কোনো হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এনডিটিভিকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জারলোভ বলেন, আমরা স্পষ্ট করে জানাতে চাই আমাদের ওপর সামরিক হামলা চালানো গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ন্যাটোর দুই সদস্য দেশের মধ্যে একেবারেই অযৌক্তিক ও বিপর্যয়কর যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হবে, যা সম্পূর্ণ ধ্বংসাত্মক, অত্যন্ত বোকামিপূর্ণ এবং অপ্রয়োজনীয়।

জারলোভ বলেন, গ্রিনল্যান্ডে হামলা চালানোর মতো কোনো হুমকি, শত্রুতা বা যুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নেই। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার ভোগ করে এবং দুই দেশের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় খনিজ অনুসন্ধানসহ নানা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ আছে। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, এর একেবারেই কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা আশা করি বিষয়টি আবার সঠিক পথে ফিরবে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হবে না।

গ্রিনল্যান্ড বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না
ডনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম প্রেসিডেন্সির সময়ে ২০১৯ সালে গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তখনই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, এই দ্বীপ বিক্রির জন্য নয়। ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড কেনার সেই পুরোনো প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা ফের প্রত্যাখ্যান করা হয়। এ প্রসঙ্গে জারলোভ বলেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির বিষয়টি দামের প্রশ্ন নয়। তার ভাষায়, আমরা ৫৭ হাজার ড্যানিশ নাগরিককে বিক্রি করে আমেরিকান বানাতে পারি না। গ্রিনল্যান্ডের জনগণ এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে।

‘মার্কিন সামরিক হামলা হলে ন্যাটোর অবসান’
এদিকে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক হামলা চালায়, তাহলে ৭৬ বছরের পুরোনো পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে জারলোভ বলেন, নিশ্চিতভাবেই সামরিক হামলা হলে সেটাই হবে ন্যাটোর শেষ। কারণ তখন ডেনমার্ককে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫  কার্যকর করতে হবে। এই ধারাটি সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার দেয়। তখন যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশ বাধ্য হবে ডেনমার্ককে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেই রক্ষা করতে। অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র এতে ভেটো দেবে, আর সেখানেই ন্যাটোর মৃত্যু ঘটবে।

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য তারা ‘বিভিন্ন বিকল্প’ বিবেচনা করছে। ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি। লিভিট জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার অগ্রাধিকার এবং আর্কটিক অঞ্চলে প্রতিপক্ষদের ঠেকাতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করার পরিকল্পনা করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুবিও স্পষ্ট করেছেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কিনতে চান, সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে চান না।
ডেনমার্ক সরকারও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এই বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে এবং একে ‘প্রয়োজনীয় সংলাপ’ বলে অভিহিত করেছে।

mzamin

No comments

Powered by Blogger.