সোমালিল্যান্ডে যে কোনো ইসরাইলি উপস্থিতিই হবে লক্ষ্যবস্তু: হুতি নেতা
শুক্রবার ইসরাইল ঘোষণা করে যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিচ্ছে। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে একতরফা বিচ্ছিন্নতার ঘোষণা দেয়ার পর এটিই হলো স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রটির জন্য প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। হুতি নেতা সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। তার ভাষায়, এই স্বীকৃতি হলো ‘সোমালিয়া ও তার আফ্রিকান পরিবেশ, তেমনি ইয়েমেন, লোহিত সাগর এবং লোহিত সাগরের উভয় তীরবর্তী দেশগুলোর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক অবস্থান।’
দশক ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য চাপ দিয়ে আসা সোমালিল্যান্ডের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আদেন উপসাগরের তীরে অবস্থিত এবং তাদের নিজস্ব মুদ্রা, পাসপোর্ট ও সেনাবাহিনী রয়েছে। আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ইসরাইলের জন্য লোহিত সাগরে আরও শক্তিশালী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে। ফলে তারা ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান চালাতে পারবে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের বিধ্বংসী হামলা শুরু হওয়ার পর হুতি গোষ্ঠী ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল একাধিকবার ইয়েমেনে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। হুতিরা বলেছিল, এই হামলাগুলো গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতির অংশ। তবে গাজায় অক্টোবর থেকে যে নাজুক যুদ্ধবিরতি চলছে, তার পর থেকে হুতিরা তাদের হামলা স্থগিত রেখেছে।
সোমালিল্যান্ড ১৯৯১ সালের একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মূলত বিচ্ছিন্নই রয়ে গেছে। যদিও সোমালিয়ার তুলনায় অঞ্চলটি তুলনামূলক বেশি স্থিতিশীল, সেখানে রাজধানী মোগাদিশুতে আল-শাবাব জঙ্গিরা প্রায়ই হামলা চালায়।
ইসরাইলের এই স্বীকৃতির সমালোচনা করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, মিশর, তুরস্ক, ছয় জাতির উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) এবং সৌদি আরবভিত্তিক ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। ইউরোপীয় ইউনিয়নও জোর দিয়ে বলেছে, সোমালিয়ার সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাতেই হবে।

No comments