ইরানে হামলার নানা বিকল্প নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফিং
যদিও এখনো ইরানে হামলার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে নিউইয়র্ক টাইমসকে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমনে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর কঠোর পদক্ষেপের জবাবে সীমিত আকারে হামলার অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কর্মকর্তাদের মতে, তাকে যে বিকল্পগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, তার মধ্যে তেহরানের বেসামরিক স্থাপনায় লক্ষ্যভিত্তিক হামলার প্রস্তাবও রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হালকাভাবে নেবেন না। তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন।
এরই মধ্যে তেহরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরাইল বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। এ সময় সংসদ সদস্যরা ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ বলে স্লোগান দেন।
কালিবাফ বলেন, ইরানের ওপর হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরাইল) এবং এই অঞ্চলে অবস্থিত সব মার্কিন সামরিক কেন্দ্র, ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে। আমরা শুধু হামলার পর প্রতিক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকব না, হুমকির যেকোনো লক্ষণ দেখলেই ব্যবস্থা নেব।
বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেট ও ফোন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র জানা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত বহু মানুষ নিহত এবং প্রায় ২ হাজার ৬০০ জন আটক হয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তাদের বাহিনী, অংশীদার ও মিত্রদের সুরক্ষায় পূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছে। গত জুনে ইরান কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। এ ছাড়া বাহরাইনে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর।
এদিকে ইসরাইলও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক কর্মকর্তা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ইরান ইস্যুতে ফোনে আলোচনা করেছেন।

No comments