বিশ্বের কোথায় সবচেয়ে বেশি ভেনেজুয়েলান অভিবাসন?

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ৩ জানুয়ারি অপহরণের ঘটনার পর দেশটির রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রতিবেশী দেশগুলো। কলম্বিয়া ও পেরুসহ যেসব দেশে বিপুল সংখ্যক ভেনেজুয়েলান বসবাস করছেন, তারা নতুন করে শরণার্থীর ঢল নামার সতর্কতা দিয়েছে।

আল জাজিরার এক ভিজ্যুয়াল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত ভেনেজুয়েলানের সংখ্যা কমপক্ষে ৭৯ লাখ। প্রায় এক দশক ধরে চলা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই এই বিশাল প্রবাসী জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে।

কোন কোন দেশে সবচেয়ে বেশি ভেনেজুয়েলার নাগরিক?
ভেনেজুয়েলা থেকে অভিবাসনের সূচনা হয় ১৯৯৯ সালে বামপন্থী নেতা হুগো শাভেজ ক্ষমতায় আসার পর। সে সময় মূলত পেশাজীবীদের একটি ছোট অংশ দেশ ছাড়ে। শাভেজ দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তেলখাতের আয় ব্যবহার করে সরকারি ব্যয় বাড়ান এবং কোটি মানুষকে চরম দারিদ্র্য থেকে তুলে আনেন।
২০১৩ সালে শাভেজের মৃত্যুর পর নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতায় এসে উচ্চ ঋণ ও বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতির ভার বহন করেন। ২০১৪ সালে তেলের দাম ধসে পড়লে অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়ে। গভীর মন্দা ও লাগামছাড়া মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাপন দুর্বিষহ করে তোলে। এর ফলেই লক্ষাধিক মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, যাদের বড় অংশ দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দেশগুলোতে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমায়।
জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, জুন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ লাখ ভেনেজুয়েলান শরণার্থী ও অভিবাসী হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৭ লাখ বা ৮৫ শতাংশ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থান করছে। সবচেয়ে বেশি ভেনেজুয়েলান আশ্রয় নিয়েছে কলম্বিয়ায়- যার সংখ্যা প্রায় ২৮ লাখ।

কী ধরনের সুরক্ষা পাচ্ছেন ভেনেজুয়েলার নাগরিকরা?
মানবিক সংকটের কারণে ইউএনএইচসিআর ভেনেজুয়েলানদের একটি বিশেষ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর ফলে তারা স্বাগতিক দেশগুলোতে আইনি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও আশ্রয়সহ মৌলিক সুবিধা পেতে পারেন।

কলম্বিয়ায় ‘টেম্পোরারি প্রোটেকশন স্ট্যাটিউট’-এর আওতায় ভেনেজুয়েলানদের ১০ বছরের আবাসিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫ সালের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলানদের জন্য দেয়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) প্রত্যাহার করে নেয়। এতে ছয় লাখের বেশি ভেনেজুয়েলানের বসবাস ও কাজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই সময়ে শত শত ভেনেজুয়েলানকে বহিষ্কার করা হয়, যাদের কয়েকজনকে এল সালভাদরের কুখ্যাত কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সেখানে অনেকেই নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, দেশত্যাগী ভেনেজুয়েলানদের প্রায় অর্ধেক অনানুষ্ঠানিক ও কম মজুরির কাজে নিয়োজিত। ৪২ শতাংশ পর্যাপ্ত খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন এবং ২৩ শতাংশ গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।

ভেনেজুয়েলার পাসপোর্ট কতটা শক্তিশালী?
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার পাসপোর্ট এখনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী। ২০২৬ সালের পাসপোর্ট সূচকে এটি ৪২তম অবস্থানে রয়েছে। এই পাসপোর্টধারীরা ১২৪টি দেশে ভিসামুক্ত, ভিসা-অন-অ্যারাইভাল বা ই-ভিসার সুবিধা পান।

ভেনেজুয়েলার সঙ্গে শেনজেন অঞ্চলের দীর্ঘদিনের ভিসা অব্যাহতি চুক্তি রয়েছে। যার ফলে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশে ৯০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায়। পাশাপাশি আঞ্চলিক চলাচল চুক্তির কারণে দক্ষিণ আমেরিকার অনেক দেশে ভেনেজুয়েলানরা প্রবেশ ও কাজ করার সুযোগ পান।
(আল জাজিরা থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত)

mzamin

No comments

Powered by Blogger.