গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইউরোপের সেনারা
দ্বীপটির নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বস্ত করতে ডেনমার্ক ও তার মিত্ররা এ পদক্ষেপ নিয়েছে। এই দলে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সেনারা রয়েছেন।
সুমেরু অঞ্চলের এই দ্বীপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের মধ্যে গতকাল বুধবার একটি বৈঠক হয়। এ সময় ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকে সমস্যা সমাধানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বেশ কিছুদিন ধরে ট্রাম্প বলে আসছেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য খুবই জরুরি। রাশিয়া কিংবা চীন যাতে এটি দখল করতে না পারে, সে জন্য এর মালিকানা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা দরকার। এই ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব বিকল্প তাঁর বিবেচনায় আছে। তাঁর দাবি, সুমেরু অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকাতে ডেনমার্ক সক্ষম নয়।
তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক বারবার বলে আসছে, দ্বীপটি বিক্রির জন্য নয়। যেকোনো ধরনের হুমকি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ মিত্রদের মধ্যে আলোচনা করেই সমাধান করা উচিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ডেনমার্কের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ইউরোপের অনেক নেতা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অভিযান চালিয়ে দ্বীপটি দখলে নেয়, তাহলে কার্যত ন্যাটোর সমাপ্তি হতে পারে।
গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক জানিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ড ও এর চারপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো শুরু করেছে। প্রতিরক্ষা জোরদারের প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ন্যাটো মিত্রদের সহযোগিতায় এ পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা।
জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, নরওয়েসহ ইউরোপীয় মিত্ররা বলেছে, চলতি বছরের শেষ দিকে বড় ধরনের মহড়ার প্রস্তুতি নিতে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক বাহিনীর সদস্য পাঠাচ্ছে তারা।
ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সুমেরু ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে শিগগিরই যৌথভাবে যাচাই করে দেখবে যে ওই অঞ্চলে বাস্তবে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং মহড়া কার্যক্রম কীভাবে কার্যকর করা যায়।
ট্রাম্পকে সমর্থন প্রতি পাঁচজনের একজন আমেরিকানের
রয়টার্স/ইপসোসের একটি জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ১৭ শতাংশ আমেরিকান ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টাকে সমর্থন করেন। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দলের উল্লেখযোগ্য অংশ দ্বীপটি দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিরোধী। গত মঙ্গলবার দুই দিনব্যাপী জরিপটি শেষ হয়। জরিপে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন বলেছেন, তাঁরা গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার কথা শোনেননি।
![]() |
| ডেনমার্ক বিমানবাহিনীর একটি বিমানে গ্রিনল্যান্ডের রাজধানীতে পৌঁছান ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারা। ছবি: রয়টার্স |

No comments