‘ক্রসরোডে’ বাংলাদেশের রাজনীতি
স্মৃতি এস পট্টনায়েক আরও লিখেছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর উদীয়মান ছাত্রদের দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)’তে বড় পরিবর্তন এসেছে। তারা হঠাৎ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোটে যোগ দেয়। শুরু থেকেই যাকে অনেকে ‘জামায়াতের বি-দল’ বলছিলেন, সেই অভিযোগ এবার বাস্তবে রূপ নেয়। দল গঠনের সময় শিবিরপন্থী নেতাদের শীর্ষ পদ না দিয়ে যে আদর্শিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছিল, তা ভেঙে যায়। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের অন্তত ৩০ জন দল থেকে পদত্যাগ করেন। কিছু নারী নেত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে যাচ্ছেন। অভিযোগ আছে, শেষ মুহূর্তে এ জোটে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়, যাতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিকল্প ভাবার সুযোগ না থাকে।
এনসিপির অন্যতম নারী নেত্রী তাসনিম জারা নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক ভাগ নিবন্ধিত ভোটারের স্বাক্ষর জোগাড় করে স্বতন্ত্রভাবে মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করছেন এবং এটা ঘটছে এমন এক সময়ে যখন ইসির সার্ভার বিভ্রাট চলছিল।
দলটি ‘নতুন রাজনীতি’র অঙ্গীকার দিয়েও, জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বহু সমর্থককে হতাশ করেছে। এনসিপি ও বিএনপি উভয়েই যুক্তি দিচ্ছে- এটি কৌশলগত জোট, মতাদর্শিক নয়। তবে এনসিপি বড় দল ছাড়া নির্বাচন জেতার সম্ভাবনা না থাকায়- এ জোটকে অনেকেই রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা হিসেবে দেখছেন।
ওই নিবন্ধে আরও বলা হয়, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হলেও এটাই বাংলাদেশের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করবে। এটি হবে তারেক রহমানের নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা। আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত থাকায় বিএনপির রাজনৈতিক বয়ান অনেকাংশে জামায়াতের দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। অতীতের প্রচলিত ‘ইসলাম প্রসঙ্গ’ বা ‘সার্বভৌমত্ব হুমকিতে’ ধরনের স্লোগান- সম্ভবত জামায়াত আবার সামনে আনবে।
ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারেক রহমানকে ‘ভারতের ঘনিষ্ঠ’- এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা তার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তবু জুলাইপরবর্তী উত্তাল রাজনৈতিক বাস্তবতায় তার নেতৃত্বই বিএনপিকে এগিয়ে নিতে পারে- এমন প্রত্যাশা রয়ে গেছে।

No comments