নাইজেরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবিরোধী’ হামলা
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, প্রধান সেনাপতি হিসেবে আমার নির্দেশে আজ রাতে যুক্তরাষ্ট্র উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় আইএস সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে। তারা নিরীহ খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছিল। যা বহু বছর, এমনকি শতাব্দীর মধ্যে দেখা যায়নি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড জানিয়েছে, নাইজেরিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয় এবং এতে একাধিক আইএস সন্ত্রসী নিহত হয়েছে।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ মাইতামা তুগ্গার বৃটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, এই হামলা একটি যৌথ অভিযান এবং এর লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসীরা। এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিষয় জড়িত নয়। আইএসের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, এই অভিযান অনেক দিন ধরেই পরিকল্পিত ছিল এবং এতে নাইজেরিয়ার দেওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও হামলা হতে পারে কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, তা দুই দেশের নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
গত অক্টোবরের শেষ দিকে ট্রাম্প দাবি করেন, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান সম্প্রদায় অস্তিত্বগত হুমকির মুখে রয়েছে এবং সহিংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে সতর্ক করেন। এর আগে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বরের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বিমান উড়িয়েছে।
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্সে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা সহযোগিতার অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও কৌশলগত সমন্বয় রয়েছে। পেন্টাগনের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, পরিচিত আইএস ঘাঁটিতে থাকা একাধিক সন্ত্রাসীকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্স বার্তায় নাইজেরিয়া সরকারকে সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে লেখেন, আরও আসছে।
নাইজেরিয়া সরকার বরাবরই বলে আসছে, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মুসলিম ও খ্রিস্টানÑ উভয় সম্প্রদায়কেই লক্ষ্য করে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কেবল খ্রিস্টান নিপীড়নের ওপর জোর দেওয়া দেশটির জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। তবে সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে নাইজেরিয়া। দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশ উত্তরাঞ্চলে বসবাসরত মুসলিম এবং দক্ষিণাঞ্চলে খ্রিস্টান অধ্যুষিত।
এদিকে বৃহস্পতিবার নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি মসজিদে আত্মঘাতী হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত ও ৩৫ জন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ওই অঞ্চলটিও দীর্ঘদিন ধরে ইসলামপন্থী বিদ্রোহীদের সহিংসতায় জর্জরিত।
ক্রিসমাস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু ধর্মীয় সম্প্রীতির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশেষ করে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং খ্রিস্টান, মুসলিমসহ সব নাগরিককে সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। উল্লেখ্য, ক্রিসমাসের দিন ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবে অবস্থানকালে ট্রাম্প এই হামলা নিয়ে বক্তব্য দেন। একই সময়ে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াতেও আইএসের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় পরিসরের হামলা চালায়।

No comments