মিয়ানমারের নির্বাচনে ছায়া ফেলছেন সু চি
আশির কোঠায় পৌঁছানো এই নেত্রী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনের সময়ও বন্দি অবস্থায়ই থাকবেন। এই নির্বাচন দিয়ে জান্তা ২০২০ সালের ভোটকে মুছে দিতে চায়। রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তার সরকারের ভূমিকার কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সু চির সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মিয়ানমারের বহু সমর্থকের কাছে তার নাম এখনো গণতন্ত্রের প্রতিশব্দ। ব্যালটে তার অনুপস্থিতিই তাদের কাছে প্রমাণ যে এই নির্বাচন অবাধ বা সুষ্ঠু হবে না। সু চি জীবনের প্রায় দুই দশক সেনাদের অধীনে আটকাবস্থায় কাটিয়েছেন। অথচ এক বিস্ময়কর বৈপরীত্য হলো, তিনি মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতার কন্যা। তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৫ সালের ১৯ জুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ সপ্তাহগুলোতে জাপানি দখলদারত্বের অধীনে থাকা ইয়াঙ্গুনে। তার বাবা অং সান দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে বৃটিশ ও জাপানি উভয় উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধেই লড়াই করেন। স্বাধীনতা অর্জনের কয়েক মাস আগেই ১৯৪৭ সালে তিনি নিহত হন। এরপর সু চি তার শৈশবের বড় অংশ মিয়ানমারের বাইরে কাটান। প্রথমে ভারতে, সেখানে তার মা রাষ্ট্রদূত ছিলেন। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে, সেখানে তিনি তার বৃটিশ স্বামীর সঙ্গে পরিচিত হন। ১৯৬২ সালে জেনারেল নে উইন পূর্ণ ক্ষমতা দখল করে নিজের সমাজতান্ত্রিক শাসন চাপিয়ে দেন। এর ফলে একসময় এশিয়ার চালের ঝুড়ি হিসেবে পরিচিত দেশটি বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র ও বিচ্ছিন্ন দেশে পরিণত হয়।
সু চির গণতন্ত্রের প্রতীক হয়ে ওঠা অনেকটাই ছিল আকস্মিক। ১৯৮৮ সালে তিনি মৃত্যুপথযাত্রী মাকে সেবাযত্ন করতে দেশে ফিরে আসেন। আর সেখান থেকেই তার রাজনৈতিক উত্থানের সূচনা ঘটে।

No comments