টাইম ম্যাগাজিনের পারসন অব দ্য ইয়ার ‘আর্কিটেক্টস অব এআই’
ম্যাগাজিনের কভারের একটিতে রয়েছে ১৯৩২ সালের বিখ্যাত নিউ ইয়র্ক সিটির উঁচু বিমে বসে খাওয়া শ্রমিকদের ছবির প্রতি শ্রদ্ধা। টাইম-এর তৈরি সেই চিত্রে শহরকে ছাপিয়ে বসে আছেন মেটা’র মার্ক জাকারবার্গ, এএমডি প্রধান লিসা সু, মাস্ক, হুয়াং, অল্টম্যান, গুগলের এআইপ্রধান ডেমিস হাসাবিস, অ্যানথ্রপিকের ডারিও আমোডেই এবং স্ট্যানফোর্ড অধ্যাপক ফেই-ফেই লি। টাইম লিখেছে, একদিকে একসঙ্গে দৌড়াতে দৌড়াতে আবার একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা করতে করতে তারা বহু বিলিয়ন ডলারের বাজি ধরেছেন মানব ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি অবকাঠামো প্রকল্পের ওপর। তারা সরকারি নীতি বদলে দিয়েছেন, ভূরাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুনভাবে গড়েছেন, আর রোবটকে মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। পারমাণবিক অস্ত্র আবিষ্কারের পর থেকে মহাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর প্রতিযোগিতায় এআই-ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
চ্যাটজিপিটি ও ক্লদ-এর মতো জনপ্রিয় এআই মডেলের পাশাপাশি টাইম বিনিয়োগকারীদের ভূমিকার কথাও স্বীকার করেছে। বিশেষ করে সফটব্যাঙ্কের সিইও মাসায়োশি সন। তিনি এই প্রযুক্তিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। টাইম-এর পারসন অব দ্য ইয়ার কোনও ব্যক্তিকে সেই বছরে বিশ্বের ওপর তার প্রভাবের ভিত্তিতে দেয়া সম্মান। গত বছর এই খেতাব পেয়েছিলেন তখনকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডনাল্ড ট্রাম্প। আগের তালিকায় ছিলেন গায়িকা টেলর সুইফট ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও।
ম্যাগাজিনটির মালিক সিলিকন ভ্যালির বিলিয়নিয়ার মার্ক বেনিওফ। তিনি বলেছে, ২০২৫ সালেই এআই প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবে পরিণত হয়েছে এবং চ্যাটজিপিটির ব্যবহার দ্বিগুণ বেড়ে বিশ্বের ১০ ভাগ মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানি
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বলেছেন, এটাই আমাদের সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, এআই বিশ্ব অর্থনীতিকে ১০০ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ ট্রিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাবে।
তবে টাইম এআই-এর অন্ধকার দিকের কথাও তুলে ধরেছে। মার্কিন কয়েকটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, চ্যাটবট মানুষের মানসিক চাপ বাড়িয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্তেও ভূমিকা রেখেছে।
‘চ্যাটবট সাইকোসিস’- এমন বিতর্কও উঠেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা ভ্রম বা প্যারানয়িয়ায় ভুগতে শুরু করে। এক ঘটনায় ১৬ বছর বয়সী অ্যাডাম রেইন আত্মহত্যা করার পর তার পরিবার ওপেনএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অভিযোগ- চ্যাটজিপিটি তাকে আত্মহত্যার পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য দিয়েছিল।

No comments