সু চির সঙ্গে তিক্ততা বাড়ছে সেনাবাহিনীর

অং সান সু চি
মিয়ানমারের প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর সঙ্গে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির দ্বন্দ্ব বাড়ছে। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল ভোটে বিজয়ের সবে শুরু হয়েছে গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা। কিন্তু এরই মধ্যে প্রকাশ্য হয়ে পড়েছে এ দ্বন্দ্ব। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর ফলে গণতান্ত্রিক সরকারের সাফল্য হুমকির মুখে পড়েছে। গণতন্ত্রের পথে এগোনোর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট পদে তিনজনের নাম উপস্থাপন করা হবে মিয়ানমারের পার্লামেন্টে। অচিরেই সু চির দল এনএলডি সরকার গঠন করবে। এনএলডি তার পুরোনো শত্রু সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করছে—এমন একটা ধারণা গড়ে তোলার চেষ্টার কমতি নেই। তবে মিয়ানমারের রাজনীতিক এবং সরকারি স্তরের নেতৃস্থানীয়রা বলছেন, সেই প্রচেষ্টা অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে সাম্প্রতিক নানা ঘটনায়। মিয়ানমারের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের এনএলডি দলীয় এক সদস্য বলেন, নির্বাচনে বিজয়ের পর সু চি ভেবেছিলেন, তিনি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ভালোভাবেই কাজ করতে পারবেন। কিন্তু সেনাপ্রধানের সঙ্গে সবশেষ যে আলোচনা হলো এরপর বুঝতে পেরেছেন, তাঁদের সঙ্গে কাজ তিনি করতে পারবেন না। গত বছরের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনের পরপরই দেশটির প্রবল ক্ষমতাধর সেনাবাহিনীর সঙ্গে সু চির আলোচনা শুরু হয়।
এনএলডি সূত্র জানায়, প্রথমে ওই আলোচনা ভালোভাবে এগোলেও সেনাবাহিনীর অনমনীয় আচরণের জন্য সু চি কিছুদিনের মধ্যেই হতাশ হয়ে পড়েন। মিয়ানমারের রাজনীতিতে তাদের বড় একটি ভূমিকা আছে, এটি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে দেশটির সেনাবাহিনী। অন্তত যত দিন পর্যন্ত গণতন্ত্র সুসংহত না হচ্ছে। তারা এও মনে করে, সংবিধানের দ্রুত সংশোধন দেশে একটি ‘ক্ষতিকর দৃষ্টান্ত’ তৈরি করবে। দীর্ঘদিনের শাসনের পর ২০১১ সালে একটি আধা সামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলেও সু চি যাতে প্রেসিডেন্ট না হতে পারেন, সংবিধানে সে ব্যবস্থা করে যায় সেনাবাহিনী। সু চির দুই সন্তান আর প্রয়াত স্বামী বিদেশি নাগরিক। সংবিধান অনুযায়ী স্বামী/স্ত্রী বা সন্তান বিদেশি হলে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হওয়া যাবে না। সংবিধানের এখন যে কাঠামো তাতে নিরাপত্তা বাহিনী এবং বেসামরিক আমলাতন্ত্রের ওপর সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকবেই। এর ফলে এনএলডি সরকারকেও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে কাজ করতেই হবে। কিন্তু এর ফল যে ভালো হবে না, সাম্প্রতিক নানা ঘটনা তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সপ্তাহ দু-এক আগে পার্লামেন্টে এনএলডির এমপিরা কয়েকটি প্রকল্পে সাবেক প্রশাসনের দুর্নীতির বিষয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একযোগে দাঁড়িয়ে পড়েন সেনাবাহিনীর মনোনীত এমপিরা। সেনাবাহিনী-সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (ইউএসডিপি) সাবেক সদস্য উইন উ বললেন, ‘এনএলডি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে এখন একটা ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে।’ আজ যে তিনজনের নাম প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী হিসেবে উঠছে, এর মধ্যে এনএলডির প্রার্থী বিজয়ী হবে তা নিশ্চিত। হেরে যাওয়া দুই প্রার্থী দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট হবেন। তবে এনএলডির পার্লামেন্ট সদস্য তিন্ত সোয়ে বলেন, ‘সু চির ভবিষ্যৎ যে ভালো হবে, তা মনে হয় না। কেননা এটি নিশ্চিত, সেনাবাহিনী তাঁকে সহযোগিতা করবে না। এ পরিস্থিতি সত্যিই দুঃখজনক।’

No comments

Powered by Blogger.