কানাইঘাটে লোভাছড়ার পাথর লুটের মহোৎসব by মুফিজুর রহমান

সিলেটের কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকার লোভাছড়া কোয়ারিতে পাথর লুটের মহোৎসব চলছে। একটি চক্র দিনে ও রাতে লুট করে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার পাথর। একইসঙ্গে যন্ত্রদানব ক্রাশার মিল দিয়ে ভেঙে পাথরগুলো বিক্রি করছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। লোভাছড়া কোয়ারির পাথর ইজারাদার অংশের লোকজন সম্প্রতি পাথর লুটের অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে করে প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন। ইজাদার পিয়াস ইন্টারপ্রাইজ গত বছর লোভাছড়া থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত প্রায় ৪৫ লাখ ঘনফুট পাথর নিলামে কিনে নেয়। সরকারের দপ্তরের হিসাব বলছে; নদীতে পানি শূন্যতাসহ নানা কারণে পিয়াস এন্টারপ্রাইজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ২০ লাখ ঘনফুট পাথর সরিয়ে নিতে পেরেছে। এখনো তাদের প্রায় ২৫ লাখ ঘনফুট পাথর লোভায় রয়ে গেছে। এ নিয়ে তারা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত তাদের পাথর সরিয়ে দেয়ার অনুমতি দেন। পরবর্তীতে খনিজ ব্যুরো আপিল করলে এখনো সেটি শুনানি হয়নি। এই অবস্থায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা তমিজ উদ্দিনের নির্দেশে লোভায় পাথর লুটপাট করা হচ্ছে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তারা জানিয়েছেন- তমিজের সঙ্গে কামাল হাজী, ময়নুল মেম্বার, সায়েক মেম্বার, আলমগীরসহ কয়েকজন এ লুটের সঙ্গে জড়িত। তারা পাথর লুট করে এনে নিজেদের ক্রাশার মিলে ভেঙে সেগুলো বিক্রিও করছে। সম্প্রতি বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া আবেদনে পিয়াস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামরুল হাসান জানিয়েছেন- লোভাছড়া একটি দুর্গম ও নদী বেষ্টিত দুর্গম অঞ্চল। চাইলেই মালামাল অপসারণ করা যায় না। ইতিমধ্যে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো কর্তৃক আমাদের মাল অপসারণ বন্ধে আদেশ জারি করলে, আমরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হই এবং মহামান্য আদালত আমাদের ৩ মাস, ৯০ দিনের সময় দেন। তথাপি আপনাদের অফিসের রিভিউর কারণে মামলাটি এখনো বিচারাধীন পর্যায়ে আছে। কিন্তু বর্তমানে প্রশাসন ম্যানেজ করে ভাল্লুকমারা ও জকিগঞ্জের আটগ্রাম এবং চিন্তার বাজার বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার পাথর প্রতি রাতে চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে মিডিয়ায় প্রভাবশালী মহলের কারণে তেমন একটা খবর প্রচার হতে পারছে না এবং একাধিকবার মৌখিকভাবে পুলিশ ও ইউএনও অফিসে জানিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না। ৩০ থেকে ৫০ গাড়ি প্রতিদিন ও মাঝে মাঝে বড় কন্ট্রাকের মাধ্যমে ১০০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বার্কি নৌকা দিয়ে ও প্রশাসন ম্যানেজ করে মালামাল নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে কানাইঘাটের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন- তার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তার জানাও নেই। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন- তিনিও অভিযোগ পাননি। যদি পাথর লুট হয়ে থাকে এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।
mzamin

No comments

Powered by Blogger.