ভেনেজুয়েলার পর কলম্বিয়া, কিউবা, মেক্সিকোর দিকে দৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রের
মাদুরোর নাম উল্লেখ না করেই পেত্রো ওয়াশিংটনের অভিযানকে লাতিন আমেরিকার সার্বভৌমত্বের উপর হামলা হিসেবে বর্ণনা করেন এবং বলেন যে, এর ফলে মানবিক সংকট তৈরি হবে। ট্রাম্প ক্যারিবিয়ানে কথিত মাদক চালানবাহী জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক মোতায়েনের নির্দেশ দেয়ার পর থেকেই পেত্রো এসব পদক্ষেপের সমালোচক। মাদকবিরোধী কৌশলের অংশ হিসেবে ট্রাম্প সম্প্রতি ইঙ্গিত দেন যে, কলম্বিয়ার মাদক উৎপাদন ল্যাবেও হামলা চালানো হতে পারে। একে পেত্রো ‘আক্রমণের হুমকি’ বলে নিন্দা করেন।
কারাকাস থেকে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরিয়ে নেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে দেশটি পরিচালনা করবে। তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও বিচক্ষণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা না যায়, ততক্ষণ আমরা দেশটি পরিচালনা করব। তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় ধরনের দ্বিতীয় আক্রমণ চালানোর জন্য প্রস্তুত।
লাতিন আমেরিকা নিয়ে ওয়াশিংটনের বৃহত্তর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে আবার কখনও আমেরিকার আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে না। তার ভাষায়, আমরা নিজেদের চারপাশে ভালো প্রতিবেশী চাই, স্থিতিশীলতা চাই, শক্তির উৎস চাই। ওই দেশে আমাদের বিরাট ‘এনার্জি’ রয়েছে এবং সেটাকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। আমাদের নিজেদের জন্যই তা প্রয়োজন।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন যে, দেশটিকে আবার মহান করতে যা দরকার তিনি তা করতে আগ্রহী। তবে বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর দেশীয় সমর্থন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, তার (মাচাদো) জন্য নেতা হওয়া খুব কঠিন হবে। দেশে তার ভেতরে সেই সমর্থন বা সম্মান নেই। তিনি খুব ভদ্র একজন নারী, কিন্তু তার সে সম্মান নেই।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় পাঠাবে। ভেঙেপড়া তেল অবকাঠামো মেরামতে বিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে এবং দেশের জন্য আয় সৃষ্টি করবে। তার ভাষায়, আমাদের বিশাল মার্কিন তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাবে, বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে, ভেঙেচুরে যাওয়া তেল বিষয়ক অবকাঠামো ঠিক করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে। ভেনেজুয়েলার সব তেলের ওপর আরোপিত অবরোধ বহাল আছে। আমেরিকান নৌবহর প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে যতক্ষণ না আমাদের সব দাবি পুরোপুরি মেনে নেয়া হয়।
মেক্সিকো ও কিউবার উদ্দেশে বার্তা
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে কিউবা। তিনি বলেন, আমি যদি হাভানায় সরকারে থাকতাম, তাহলে অন্তত কিছুটা হলেও চিন্তিত হতাম।
লাতিন আমেরিকায় দীর্ঘ সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। এর মধ্যে ১৯৬১ সালের কিউবান নির্বাসিতদের নেতৃত্বাধীন ব্যর্থ ‘বে অব পিগস’ অভিযান, যা ফিদেল কাস্ত্রোকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে চালানো হয়েছিল। মেক্সিকো প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দেশটির সঙ্গে কিছু একটা করতেই হবে। তিনি দাবি করেন, আমরা তার (প্রেসিডেন্ট শেইনবাউমের) সঙ্গে খুব বন্ধুত্বপূর্ণ। তিনি একজন ভালো নারী। কিন্তু মেক্সিকো চালাচ্ছে মাদক কার্টেলগুলো।
ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমকে বহুবার জিজ্ঞেস করেছেন ‘আপনি কি চান আমরা ওই কার্টেলগুলোকে গুঁড়িয়ে দিই?’ কিন্তু তিনি নাকি সবসময়ই ‘না’ বলেছেন।

No comments