যে বাড়িতে বেড়ে ওঠেন ইমাম খোমেনী (র.)

এই বাড়িতেই ইমাম খোমেনী (র.)-এর শৈশব-কৈশোর কাটে।
আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ মুসাভি খোমেনী ১৯০২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর ইরানের খোমেন শহরের একটি সম্ভ্রান্ত ও উচ্চশিক্ষিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম সাইয়্যেদ মোস্তফা মুসাভি আল খোমেনী। তিনি ছিলেন অত্যন্ত উঁচুস্তরের আলেম। ইরাকের নাজাফ ও সামেরায় পড়াশোনা করে একজন বিশিষ্ট মুজতাহিদ হিসেবে পরিচিত হন তিনি।
খোমেন শহরের অত্যন্ত প্রভাবশালী ইসলামী নেতা ছিলেন তিনি। কিন্তু তৎকালীন অত্যাচারী জমিদার শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কারণে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আর এ সময়েই জন্ম হয় তাঁর তৃতীয় সন্তান সাইয়্যেদ রুহুল্লাহ আল মুসাভি আল খোমেনীর। খোমেন শহরের এই বাড়িতেই তিনি জন্মের পর থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত কাটান।

ইমামের শিক্ষাজীবন শুরু হয় পবিত্র কুরআন হেফ্‌জ করার মধ্যদিয়ে। এরপর তিনি ইরানের আরাক শহরে (১৯২০-২১) এবং পরবর্তীতে কোমে (১৯২৩) ধর্মীয় শিক্ষা লাভ করেন।
১৯৩০ এর দশকে ইমাম খোমেনী (রহ.) কোমের ধর্মতত্ত্ব কেন্দ্রের ছাত্রদের ইসলামি আইনশাস্ত্র শিক্ষা দেন।
১৯৫০ এর দশকে তিনি ইসলামি ফিকাহশাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করে মুজতাহিদ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে ইমামের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন শাহ সরকারের অত্যাচার, নিপীড়ন ও আমেরিকার পদলেহী নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। সে সময় মোহাম্মাদ-রেজা শাহ ইরানে কথিত স্বেতবিপ্লব শুরু করেছিলেন।
ইমামের নেতৃত্বে দেশে বসবাসরত ইরানি জনগণের পাশাপাশি সারাবিশ্বে অবস্থানরত ইরানিরা শাহ সরকারের বিরুদ্ধে বিপ্লবি তৎপরতা শুরু করে। ১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সে বিপ্লব চূড়ান্ত সাফল্য অর্জন করে এবং  এর মাধ্যমে আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে একটি নজীরবিহীন বিপ্লবের নেতৃত্ব দেন ইমাম খোমেনী (রহ.)। 

ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পর ১০ বছর তিনি সব বিতর্কের উর্ধ্বে থেকে ১৯৮৯ সালে আল্লাহর সাক্ষাতে চলে যান। তাঁর জানাযার নামাজে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল।
১৯৮৯ সালের ২৩ মে মস্তিস্কের রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য ইমামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং এর ১১ দিন পর ৪ জুন তিনি ৮৭ বছর বয়সে তেহরানের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

 
 
 
 
 
 

No comments

Powered by Blogger.