দ্বিজেন শর্মা : চিরতরুণ অমেয় মানুষ by হাসান আজিজুল হক

https://www.rokomari.com/book/author/1742/%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE
দ্বিজেন শর্মার জীবন ও কর্ম নিয়ে বিসত্মারিত বর্ণনা বা বিবরণ হাজির করার জন্য আমি উপযুক্ত মানুষ নই। তেমন উপযুক্ত দু-একজন মানুষ যে আছেন তা আমি জানি। হয়তো তাঁদেরই কেউ এই অতি গুরম্নত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করবেন নিকট ভবিষ্যতে। আমি তাঁর সঙ্গ পেয়েছি নিতামত্ম স্বল্পকালের জন্য; কিন্তু তাতেই তিনি আমার ঘনিষ্ঠতম দু-চারজন মানুষের মধ্যে একজন হয়ে গেছেন। এটা কিন্তু সম্পূর্ণ আমার দিক থেকে – হতে পারে তাঁর দিক থেকে নয়। তবে ভালোই জানি যে হৃদয় নামক অবস্ত্তক মহাবস্ত্তটির পরিসরের কোথাও কোনো সীমানা টানা নেই। আর সেজন্যেই তাঁর ধারণক্ষমতারও সীমা নেই। হৃদয়ের বেলায় পূর্ণ আর শূন্য একসঙ্গেই চলে। হাতে কিছু রাখার দরকার হয় না। দ্বিজেন শর্মার কথা মনে এলে এ রকমই মনে হয়।

একটু আগেই বলেছি, যে কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করার সংকল্প নিয়ে প্রথম যৌবনেই তিনি বাংলাদেশের উন্মুক্ত প্রকৃতির কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তারপর থেকে কেন্দ্রে পৌঁছানোর পথ কখনই পরিত্যাগ করেননি আর দিগমেত্মরই দিকে এগুলে যেমন তা ক্রমাগত পিছিয়ে যেতেই থাকে আর শেষ পর্যমত্ম অধরাই থেকে যায়, তাঁকে জিগ্গেস করতে ইচ্ছে হয়, মীনচক্ষু কি ভেদ করতে পেরেছিলেন? প্রায় শতবর্ষব্যাপী অনুসন্ধানের ফলে যে ঐশ্বর্য লাভ করেছিলেন, তাতে কি তৃপ্ত হতে পেরেছিলেন? বেশিরভাগ পিপাসার অমত্ম মেলে, কেবল জ্ঞানপিপাসারই অমত্ম মেলে না। কিন্তু আমরা কৃতজ্ঞ তাঁর কাছে, যা পেয়েছি তাতেই আমাদের প্রত্যাশার ঘট পূর্ণ হয়েছে। আপনার হাতের প্রজ্বলমত্ম মশালটি নিয়ে স্বচ্ছন্দে এগিয়ে যাবে আপনার পরের প্রজন্মের তরম্নণরা।

ওই মশাল হাতে নেওয়ার সাধ্য আমার নেই। আমি অতি অল্পকালের জন্য মানুষটির ঘনিষ্ঠসঙ্গ লাভ করেছিলাম মাত্র। এইটুকুই  আমার সম্বল – যেটুকু লিখছি তার সবটাই ওই জমা পুঁজিটুকু ঘিরে। এই লেখা কাজেই হয়ে যাবে ওই সামান্য সঞ্চয়নির্ভর। স্মৃতি মন্থনের মতোই।

প্রথম পরিচয় কবে? সেই স্মৃতিকথা দিয়েই তাহলে শুরম্ন করি।

বাসার দোতলার চৌকাঠটি পার হতেই আপনার কণ্ঠ। পরিচয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মনে হলো, কতদিনের সুহৃদের সঙ্গে কথা বলছি। একবারও, একটুও আড়ষ্টতা আসেনি। মনে হয়নি, এইমাত্র আপনি, আপনার পরিবারের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। এমনি করেই কাছে টেনে নিয়েছিলেন আপনি। যেমন অনেককেই নেন, তেমনি আমাকেও। মানুষ নয়, আপনি বুকে টেনে নেন সমগ্র বিশ্বকে। আপনার মধ্যে গভীর মায়া। গাছপালা, নদী, পুকুর, পাখি, সবুজ বনানী সবই আপনাকে চিরকাল মুগ্ধ করে এসেছে। বোটানির অধ্যাপক ছিলেন, পরে সেটাই আপনার এক রকম নেশা হয়ে উঠেছিল।

তখন আপনি কাজ করছিলেন বাংলাদেশে বৃক্ষ, লতা, গুল্ম কত রকম আছে, কোথায় আছে, সেসব নিয়ে। গিয়েছিলেন একবার খুলনাতে। সকালবেলা উঠে আমরা দুজনে চলে যেতাম রূপসা নদীর ওপারে, বিলের ধারে। কাদা, জল। আমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখতাম। আপনি নেমে পড়তেন। ‘কারা’ না কী সব সংগ্রহ করতেন সেটা আমি জানি না। এসব সংগ্রহ করতে করতে কত কথা! প্রকৃতি, আগেকার বাংলাদেশ।

বাগেরহাটে যাবার পথে হঠাৎ মাঠের মাঝখানে খুব নির্জন জায়গায় বিশাল একটা দিঘি দেখা গেল। তার বাঁধানো ঘাটটা তখনও অটুট। হঠাৎ এখানে এই নির্জন জায়গায় কারা তৈরি করে দিয়েছিল এই বাঁধাঘাট, কারা এখানে এসেছিল – কত কথা! আমিও বলতাম, আপনিও বলতেন। আপনার কথা শুনতে আমার ভালো লাগত। আপনার সেই উচ্চকণ্ঠে হাসি এবং কথা।

একবার রিকশায় চড়ে নদীর দিকে যাচ্ছি। আমি যখন ভাড়া দিতে যাচ্ছি – তখন আপনার সেই একই কণ্ঠ : ডোন্ট ট্রাই টু স্পেন্ড মানি। কী জানি, ধমক দিয়ে অত ভালোবাসার সঙ্গে আমাকে কেউ কখনও ওভাবে কোনো কথা বলেছে কি না।

একবার আমরা ডেমরা চলে গেলাম। সেখানে একটা নৌকো নেওয়া হলো। তখন যন্ত্রচালিত ছোট ছোট নৌকো পাওয়া যেত। তেমন একটা নৌকোয় উঠে আমরা শীতলক্ষ্যা উজিয়ে প্রায় ছয় মাইল দূরে এক জায়গায় নামলাম। জায়গাটার নাম মুগদাপাড়া। খুব পুরনো, পরিত্যক্ত, নির্জন, খাঁখাঁ করা রাজপুরী। আপনি বললেন, আমরা বেরিয়েছি অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে’। সেই যে দুই খ– তাঁর উপন্যাস। পরবর্তীকালে আপনি বলেছিলেন, কেবলই প্রকৃতির বর্ণনা, এখন ক্লামিত্ম লাগে গো। তখন নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে আমরা দুজনেই বেরিয়ে পড়েছিলাম। মনপুরায় নামলাম। রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ নির্জন কক্ষগুলোতে ঘুরে বেড়ালাম। দরদালানে গেলাম। অতীতের একটা আলাদা আকর্ষণ আছে। কালকে আমরা নিরবধি বলি, সেটাই ঠিক। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ – আমরাই বসে বসে ভাগ করি, হিসেব করি। কিন্তু এটা তো আমাদের করা, সময় তো অফুরান। সে তো টানা বয়ে চলেছে, বয়ে যাওয়াটাই তো সময়। আমরা আছি তাই সময়ও আছে। আমরা মনে রাখি, তাই ভুলে যাই।

সেই মুগদাপাড়া, অতীতের গন্ধমাখা, ভেঙেপড়া রাজবাড়ি! তা থেকে আমার অনেক গল্পের পরিবেশ আমি পেয়ে গিয়েছিলাম। আমি এরকমই এক বাড়ির ভেতরে স্থাপন করেছিলাম এ-দেশের আটকেপড়া এক হিন্দু পরিবার। নাম দিয়েছিলাম ‘খাঁচা’। ‘খাঁচা’ এখন একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপামত্মরিত হয়েছে। কবি মঙ্গলাচরণ চট্টোপাধ্যায় নাকি ওই বাড়ির জামাই ছিলেন।

আপনার সঙ্গে যখন গিয়েছিলাম মনে করলে দেখি – প্রথমে একটা দিঘি, অজস্র বড় বড় গাছ। তারপরে ভাঙা ঘরগুলো, সাপখোপে ভরা। প্রাণভরে আমরা ঘুরে বেড়ালাম নীলকণ্ঠ পাখির খোঁজে। মনে হলো না যে, ওখানে কোনো জনবসতি আছে। পেটে কিছু পড়লও না, সঙ্গে বিস্কুটমতো কিছু ছিল। তারপরে ডেমরায় ফিরে এলাম। আপনি বললেন, হাসান, এখনও তো অনেকটা সময় আছে। বাড়ি যাবে? আমি বললাম, আমার তো তেমন ইচ্ছে নেই। যদি মনে করেন তো যাব। আর যদি বলেন অন্য কোথাও যাওয়া যাক তাহলে তাই হবে। আপনি বললেন, তো চলো কমলাপুর স্টেশনে। এ যে এক অদ্ভুত সময় নষ্ট করা বা সময়কে সত্যিকার ব্যবহার করা! তারপর আমরা চলে গেলাম পুবাইলে, নাগরীতে। আপনি যে কলেজে পড়াতেন, নটর ডেম কলেজ, সেখানের নিম্ন শ্রেণির সবার সঙ্গে আপনার ছিল গলায় গলায় ভাব। তাঁরা অনেকে খ্রিষ্টান হয়েছিলেন।

আমরা পুবাইল স্টেশনে নামলাম। একটু এগিয়ে এসে একটি ঘাট থেকে নৌকায় চড়লাম। এক-দুই ঘণ্টা পরে আমরা আর একটি ঘাটে পৌঁছলাম। সেখান থেকে হেঁটে নাগরী। তারা শুয়োরও পোষে। শুয়োরগুলো সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবুও আপনার কোনো বিকার ছিল না, আমারও ছিল না। সেখানে অন্ন গ্রহণ করতে আপনার বাধেনি, আমারও বাধেনি। তারা আমাদের কী খেতে দিয়েছে আপনিও জিজ্ঞাসা করেননি, আমিও জিজ্ঞাসা করিনি।

আপনারা নাকি একাত্তর সালে ওখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাই কিছু পুরনো পরিচিত মানুষ আপনার ছিল। তেমন দু-চারটে বাড়িতে গেলেন। তাদের সঙ্গে গল্প করলেন, কুশল জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। সেখান থেকে আমরা গেলাম বিশাল একটি গির্জায়। সারাদিন কাটালাম। মনে হয়, সন্ধ্যার দিকে চলে এলাম। এ অবিস্মরণীয়, ভুলতে পারব না কখনও। আর এরকম করতে করতে মানুষ হিসেবে আমি বদলাচ্ছি, গ্রহণেচ্ছু মানুষে পরিণত হচ্ছি। আমার অতীত, আমার বাল্যকাল সেও তো এরকমই বিশাল গ্রামবাংলার সঙ্গে মিশে রয়েছে। অখ- বাংলা আমরা আর অর্জন করতে পারিনি।

নাগরীতে গিয়ে অনুভব করেছি, মানুষ মানুষের কতটা কাছে আসতে পারে। আপনি শিখিয়েছেন, কী করে অতিক্রম করতে হয় সমসত্ম প্রাচীর এবং দেয়াল। শিখেছি, দ্বিজেনদা, আপনার কাছ থেকে শিখেছি। কিছুটা তো শিখেছি, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

এখন মনে হয়, এমন মানুষের সঙ্গে আমার পরিচয় তো ঘটেছিল। এখন আর কাছে যেতে পারি না, কাছে আসতে পারি না। প্রকৃতির নিয়ম কাজ করছে নির্মমভাবে। আপনার ওপরে কাজ করছে, আমার ওপরেও কাজ করছে। জীবন যথেষ্ট দীর্ঘ নয়, মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি। তারাশঙ্করের সেই উক্তি মনে পড়ে, জীবন এত ছোট কেনে? নববই-তিরানববই বছর বয়সে আমার বাবা মারা যান। শেষের দিকে একটা ইজি চেয়ার চওড়া বারান্দায় পেতে দেওয়া হয়েছিল, সেখানে উনি চুপ করে বসে থাকতেন। আমরা দৈনন্দিন জীবনযাপন করছি, ছুটছি, বাবা খুব কম কথা বলতেন। মেজাজি মানুষ ছিলেন। একদিন কানে এলো, তিনি আপন মনেই বলছেন, কত ছোট এই জীবন! তখন আমরা তো যৌবনের উত্তাপে মাতোয়ারা। কথার কোনো অর্থই আমরা বুঝিনি। কথা আমরা সঙ্গে সঙ্গে বুঝি বলি বটে, কিন্তু সত্যি সত্যি বুঝি না। একে বোঝা বলে না। তারাশঙ্করও এভাবে বলেছিল – হায়, জীবন এত ছোট কেনে?

আলো ক্রমে কমিতেছে। কমলকুমার মজুমদার লিখেছেন না – আলো ক্রমে কমিয়া আসিতেছে। আমাদেরও তাই। আমাদেরও এখন অপরাহ্ণ, গড়িয়ে পড়েছে সূর্য। আপনার বয়স আমার চেয়ে বেশি। তবু এখনও আপনি আছেন। তখনও এখনও মনে হয় তুমি আছ, আমি আছি। স্বর্গ খেলনা তো এ ধরণীতে গড়া উচিত নয়, সুখে-দুঃখে, প্রহারে জর্জরিত হতে হতে জীবন কাটাতে হয়। তবু মনে হয়, এর চাইতে আর বেশি চাইবার কী আছে? এর পেছনটা অন্ধকার, সামনেও অন্ধকার। এইটুকুই হাতে আছে, এই আলো-অন্ধকারে ভরা জীবন। কথার শেষ হবে না দ্বিজেনদা।

সেই সময়ে আপনি আমার কাছে চিঠি লিখেছিলেন। কেন জানি না, সেই চিঠিটা আমার পুরনো একটা ডায়েরির ভেতরে খামখোলা অবস্থায় রয়েছে। তারিখও দেওয়া আছে, দেখলেই মনে পড়বে। এই চিঠিতে আপনি ‘আত্মজা ও একটি করবী গাছ’ পড়ে ভালোলাগার কথা জানিয়েছেন। তবে সমালোচনা করতেও ছাড়েননি। বাংলা সাহিত্যের সমালোচনা করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের কথা বলেছিলেন, কারো কারো লেখা পড়া যায় না। কোথাও বলেছিলেন, হাসান, সাহিত্যের নামে এরা জোচ্চুরি করে। সেই চিঠির শেষে লেখা আছে – চিরদিনের দ্বিজেনদা।

আমি স্মৃতি নিয়ে বসলে তার অমত্ম থাকবে না। একটা জায়গায় থামতেই হবে। এবং সেটা যে কোনো জায়গায়। তখন আপনি প্রায় ৮৬-তে পা দিয়েছেন। শরীর দুর্বল, বেরোন না, টেলিফোন রিসিভ করে কথা বললে হাঁপিয়ে ওঠেন। মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো গতি নেই। এই যে ঢাকায় এলে আপনার বাসায় যেতাম না, এটা তো কল্পনা করতে পারতাম না। তখন কেবল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ। তিনিও কিসের আকর্ষণে যেতেন। আর আমি রাত ১১টা কি ১২টার সময় গুণের সঙ্গে বের হয়ে সমসত্ম রাসত্মা কেবল হেঁটে বেড়াতাম। হাঁটা ছাড়া আমাদের আর কাজ ছিল না। তখন ফিরে গেলে বৌদি বলতেন, খাওয়া তো হয়নি। তখন নির্মলেন্দু বলতেন, না, এখানে আমার আর আসা হবে না। আসলে আপনার সঙ্গে আমার হাঁটা হবেই হবে। আর না খেয়ে ওখানে গেলে বৌদি ভাববে – এখান থেকে খেতে এসেছে। শুনে বৌদি তো হেসেই কুটি কুটি। এত হাসি। তিনি আবার দর্শন পড়ান। এত হাসেন কীভাবে? দর্শনের গাম্ভীর্যভরা কান্ট-হেগেল নিশ্চয়ই পড়াতেন। এমনি আরো কত স্মৃতি। কখনও কখনও জ্যোতিপ্রকাশ থাকত। আমাদের তো আড্ডাই হয়ে যেত। আমি ঢাকায় গেলে আর কোথাও যেতাম না। কিন্তু আপনার ওখানে যেতে লজ্জা করতাম না, সংকোচ করতাম না।

আপনি আমাকে বলেছিলেন, আমাকে যদি নিয়ে যায় তাহলে রাজশাহী ভার্সিটির প্রাকৃতিক পস্ন্যানটা আমি তৈরি করে দিতে পারি। আমি ওদের বলেছিলাম, কারো কোনো আগ্রহ দেখিনি। আপনাকে কত কী ব্যবহার করল দেশ, আমি জানি না। একটা সময় চলে গেলেন রাশিয়া। ভালোই হয়েছিল ব্যক্তিগত জীবনে। সেখানে গিয়ে প্রচুর কাজ করলেন, অনুবাদ করলেন। হার্টের ওপর লেখা একটা বইয়ের অনুবাদ করেছিলেন, এখনো মনে আছে। আরো বই আমাকে দিয়েছিলেন, মৌমাছি পালনের ওপরে। দিয়েছিলেন লেপার্ড, ইতালিয়ান এক লেখকের উপন্যাস। এলোমেলো কত কথা মনে পড়ছে দ্বিজেনদা।

No comments

Powered by Blogger.