মুক্তিযুদ্ধ- মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে বিশ্বসভায় by ড. সাখাওয়াত আলী খান

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জাতির জন্য সবচেয়ে গৌরবের অধ্যায়। সুমহান বাঙালি জাতির আত্মপ্রতিষ্ঠার রক্তক্ষয়া সেই লড়াই। ৪৭'র দেশ বিভাগের পর অচিরেই এ জনপদের মানুষের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। নানাদিক থেকে আমরা পিছিয়ে ছিলাম- তা যেন আরো জগদ্দল পাথর হয়ে চেপে বসলো আমাদের ললাটে। পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর নিরন্তর শোষনে ক্ষোভ ধূমায়িত হতে থাকে।
এর মধ্যে ভাষার প্রশ্নে বাঙালি জাতি প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে। বুকের রক্ত ঢেলে মাতৃভাষার দাবী প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু এর পরেও পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর চৈতন্যোদয় হয়নি। রাষ্ট্রের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য প্রকট হতে থাকে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা চলতে থাকে। আলোচনা-সমঝোতার সকল প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়। গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরে দেশের বুকে চেপে বসে আইয়ুব খানের নিষ্ঠুর সামরিক শাসন_ আসেন ইয়াহিয়া খান। এমতাবস্থায় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া আমাদের সামনে আর কোন পথ খোলা রইলো না। পৃথিবীতে অনেক মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সুমহান। সারাবিশ্ব হতবাক হয়ে দেখেছে এদেশের ছাত্র-যুব-শ্রমিক-জনতার সমাজের অকুতোভয় লড়াকু ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধ কতদিন স্থায়ী হবে তা কেউ জানতো না। বিস্ময়কর ব্যাপার বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সামরিক শক্তির দাবীদার পাকিস্তানীরা মাত্র নয়মাসের যুদ্ধেই ধরাশায়ী হয়েছে। আমি তখন ত্রিশোর্ধ, ঢাকা ছেড়ে চলে গেলাম গ্রামে। মুক্তিযোদ্ধাদের সাথেই ছিলাম। আমি দেখেছি কি দারুণ ঐক্যবদ্ধ এ জাতি, কত সংঘবদ্ধভাবে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। আর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গণমানুষের সহযোগিতা অভিভূত হওয়ার মত ব্যাপার। যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতা সহমর্মিতা নিয়ে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে তা বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের সবার জানা। তবে যে লক্ষ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত হয়েছে, যে স্বপ্ন বিনির্মাণের প্রত্যাশা ছিল তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে আমাদের অর্থনৈতিক মুক্তি এখনো আসেনি। মানুষের খাওয়া-পরার সংগ্রাম এখনো করতে হয়। আমাদের এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আবার অন্যভাবে ভাবতে গেলে বলতে হয়, স্বাধীনতার অনেক সুফলও আমরা পেয়েছি। আমাদের জাতীয় পতাকা সারাবিশ্বে আমাদের দূতাবাসগুলোতে পতপত করে উড়ছে। আমাদের দেশেও নানা দেশের দূতাবাস হয়েছে। আমাদের বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে, বিশেষ করে গার্মেন্টস শিল্পে প্রায় ৩০ লক্ষ মহিলা কাজ করছে। আমাদের স্কলাররা ছড়িয়ে পড়েছে সারাবিশ্বে। তারা দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছে। আবার মুক্তিযুদ্ধের সময়টায় ফিরে যাই, মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষের যে সৎ প্রেরণা দেখেছি তা যদি ধরে রাখতে পারতাম তাহলে এ দেশ আজ কোন উচ্চতায় পেঁৗছে যেত কল্পনাও করা যায় না। সে সময় সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে গিয়েছিল। দু:খের বিষয় তা কেন স্থায়ী হলো না সেটিও নানাজনের গবেষণায় বেরিয়ে আসছে।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আমি শিবপুর থেকে ঢাকায় আসি। সেনাবাহিনীতে ইঞ্জিনিয়ার কোরে কর্মরত আমার শ্যালক লেফটেন্যান্ট আতিকুর রহমান পাকিস্তানীদের হাতে নিহত হয়েছে। এ বেদনা বুকে নিয়েই আমরা আবার পথ চলতে শুরু করলাম। সারাদেশব্যাপী স্বজন হারানো বেদনায় আমরা সবাই একাত্ম। এমন কোন পরিবার ছিল না যারা মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কিন্তু আমরা অচিরেই বিভক্তির ফাঁদ পাতা জালে পা দিলাম। ফলে আমরা পিছিয়ে গেলাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে যোজন যোজন দূরে তখন আমাদের অবস্থান। ঘুষ-দুনীর্তিতে আজ দেশ ছেয়ে গেছে। আমরা টিআইবির রিপোর্ট মানি কি মানি না সেটা বড় কথা নয়। দেশের স্বার্থের চেয়ে আমাদের ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পিতার চাকরিসূত্রে আমরা কলকাতায় বসবাস করতাম। পার্টিশনের পর আমাদের পরিবার কলকাতা থেকে ঢাকা আসে। তখন থেকে ঢাকা শহরের বিকশিত হওয়ার রূপটি দেখছি। এ দেশের জনগণের যেভাবে ইতিবাচক দিকে অগ্রসর হওয়ার কথা ছিল তা হয়নি। বিশেষ করে যুবসমাজ আজ যেন অনেকটা খেই হারিয়ে ফেলছে।
পূর্বসূরী হিসাবে এ অবক্ষয়ের জন্য আমিও আমার দায় এড়াতে পারি না। তাই সব ব্যর্থতা গস্নানি মুছে ফেলে আমরা সামনে এগোতে চাই। আমাদের সকল শুভশক্তি একত্রিত করে আমরা এগিয়ে যাবো।
শিবপুরে আমাদের গ্রামের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। মুক্তিযোদ্ধা ভাতিজা রাজাকার চাচার মৃতু্যকে কিভাবে অশ্রুসিক্ত চোখে স্বাভাবিক ঘটনা বলে মেনে নিয়েছে। নানা ধরনের মানবিক ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা থেকে পলায়নপর প্রসূতি মা কিভাবে ধাত্রীর সাহায্য ছাড়াই সন্তান প্রসব করেছে। সকলে কিভাবে এগিয়ে এসেছে।
আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধ এক মহাকাব্য। সেই লেখক অবশ্যই আসবে যে জাগরণের মন্ত্র শোনাবে। নব চেতনায় জাগ্রত হবে এ জাতি। আবার যুদ্ধকালীন বাস্তবতা ও যুদ্ধোত্তর শান্তিকালীন বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই আমাদের ধীরে সুস্থে ও পরিকল্পনা মাফিক এগোতে হবে। আমাদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে রাজনীতিতে যেন ধর্মের অপব্যবহার না হয়। আমাদের স্বাধীন দেশের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিক ও দক্ষ প্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। বিভিন্নমুখী শিক্ষা না রেখে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। রাজনীতি যেন ব্যবসায় পরিণত না হয় সেদিকে নজর দেয়া জরুরী। আমাদের মনে রাখতে হবে শেরে বাংলা, মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মতো আদর্শবাদী নেতা এ মাটিরই সন্তান। আবার আমাদের একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সূদূঢ় ভিত্তিমূল দরকার। কারণ সুবিকশিত মধ্যবিত্তরাই পারে সমাজে স্থিতিশীলতার ভিত মজবুত করতে। মুক্তিযুদ্ধতো বটেই বৃটিশ ও পাকিস্তানীদের তেইশ বছরের শাসনামলে এদেশের ছাত্র- সমাজই ছিল জনগণের ভরসাস্থল। এখন যা তিরোহিত হয়েছে। ছাত্র রাজনীতির সেই নিঃস্বার্থ ধারা আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ সংগটিত ও আদর্শবান ছাত্র সমাজকে সবাই সম্মানের চোখে দেখে থাকেন। তাদের চাপে যে দলই দেশ শাসন করুক সঠিক পথে চলবে।
অপরদিকে নিকট অতীতেও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া আমাদের থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল। আজ তারা কোথায় আর আমরা কোথায়। দেশ গড়ার মনোভাব থাকতে হবে। সেই পঞ্চাশ-ষাট বছর আগে দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া কৃতী ছাত্ররা গ্রামে যেয়ে স্কুল, কলেজ করেছে। সারাজীবন সেখানেই কাটিয়ে দিয়েছে। আজ আর এ মনোভাব করো মধ্যে নেই। আবার সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কবল থেকে বক্ষা ও নিজের সংস্কৃতির সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্যে দরকার সাংস্কৃতিক আন্দোলন। আগে গ্রামে গ্রামে পাঠাগার ছিল, এখন নেই। সেখানে এখন ভিডিও ক্লাব। আমাদের মনে রাখতে হবে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভালো মানুষ গড়তে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক নেতাদের রয়েছে অপরিসীম দায়িত্ব। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, আলী আকবর এ মাটিরই সন্তান। আমাদের রয়েছে অজস প্রতিভা, এদের বিকশিত করার সুযোগ তৈরি করতে হবে। তবে আমি কোন হতাশাবাদী লোক নই। এক্ষেত্রে বলবো হতাশা যেন আমাদের গ্রাস করতে না পারে। হতাশা কোন সমাধান নয়, নবউদ্যমে এগিয়ে যাবার প্রেরণাই আমাদের মুক্তির সোপান তৈরিতে যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। আমরাতো স্বাধীন দেশ হিসাবে সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি, এখন আমাদের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দেশেই বিকৃত হয়েছে। একটি মহল বিদেশেও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে ভুল তথ্য ভাইরাসের মত ছড়িয়ে দিয়েছে। এর অপনোদন দরকার। তাই ইংরেজী ভাষায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জাতি বিশ্বের বৃহৎ শক্তিধর রাষ্ট্রের বিরোধিতার মধ্যে লড়ে দেশ স্বাধীন করেছে। সেই বৃহৎ শক্তিগুলোও আমাদের বিরুদ্ধে কলকাঠি নেড়েছে তবুও দমিয়ে রাখতে পারেনি। এবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে দ্বার্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, অবিলম্বে জাতীয় স্বার্থেই এই বিচার হওয়া জরুরী। তাহলে জাতি কলংকমুক্ত হয়ে নব উদ্যমে পথ চলতে সাহসী হবে। তবে আশার কথা এই যে, তরুণ প্রজন্ম কিন্তু তাদের নতুন চিন্তাধারার জানান দিচ্ছে। তারা দেশমাতৃকার ব্যাপারে খুবই সচেতন । তারা আর কোন দেশবিরোধী অপশক্তিকে বেড়ে উঠতে দিবে না।
অন্যদিকে আমাদের দেশের মিডিয়া আজ খুবই বিকশিত। প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়া এক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে, যা ইতোমধ্যেই কিছুটা রেখেছেও বটে। মনে রাখতে হবে মিডিয়া রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাই তাদের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরী। মাতৃ ভাষার যেমন চর্চা করতে হবে তেমনি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যোগাযোগের জন্য ইংরেজী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে আমাদের নিজেদের স্বার্থেই। আমাদের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে হবে। কারণ নিজের কিছু না থাকলে কেউ যেমন সম্মান করে না, একটা দেশের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। তাই যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তোলা এখন সময়ের বড় এক দাবি। আর এর মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হতে পারে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন। বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন জরুরি।
=======================
ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো  বধ্যভূমিতে গেয়ে গেল যাঁরা জীবনের জয়গান  ভিক্ষাবৃত্তির মুখোশ  লন্ডন ভ্রমণ এবং সুখ-দুঃখের দু'টি কথা  শিক্ষার মানোন্নয়নে চাই যথার্থ মনিটরিং  পান্থজনঃ কী পাই নি তারি হিসাব মিলাতে মন মোর নহে রাজী  বাঙালির বৌদ্ধিক ঐতিহ্য  ৭২-এর সংবিধানের আলোকে কি রূপকল্প বদল করা উচিত নয়?  জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ :নতুন যুগের বার্তাবাহক  প্রশাসনে জনগণের আস্থা অর্জন জরুরি  পরিবেশ সুরক্ষায় তরল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা  রাত যায় দিন আসে  শিক্ষা ছাড়া অর্থনৈতিক মুক্তি অসম্ভব  ভালবাসা নিভিয়ে দেয় হিংসার আগুন  মহান মুক্তিযুদ্ধঃ প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি  রহস্যের পর্দা সরিয়ে দ্যুতিময় এমিলি ডিকিনসন  বেগম রোকেয়াঃ নারী জাগরণের বিস্ময়কর প্রতিভা  শিক্ষারমান ও সমকালীন প্রেক্ষাপট  বিজয় দিবসঃ অর্জন ও সম্ভাবনা  একটি ট্রেন জার্নির ছবি ও মাইকেলের জীবন দর্শন  ডক্টর ইউনূসকে নিয়ে বিতর্ক  উচ্চশিক্ষায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাবনা  বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন  ক্ষুদ্রঋণ ও বাংলাদেশের দারিদ্র্য  শেয়ারবাজারে লঙ্কাকাণ্ড  মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার  শক্ত ভিত ছাড়া উঁচু ভবন হয় না  ট্রেন টু বেনাপোল  বনের নাম দুধপুকুরিয়া  নথি প্রকাশ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার অ্যাসাঞ্জের  ছিটমহলবাসীর নাগরিক অধিকার  শিক্ষা আসলে কোনটা  জীবন ব্যাকরণঃ হিরালি  ন্যাটো ও রাশিয়ার সমঝোতা ইরানের ওপর কি প্রভাব ফেলবে  জার্নি বাই ট্রেন  পারিষদদলে বলেঃ  চরাঞ্চলের ভূমি ব্যবস্থাপনা  সচেতন হলে শিশু প্রতিবন্ধী হয় না  স্মৃতির জানালায় বিজয়ের মাস  বিচারপতিদের সামনে যখন ‘ঘুষ’  কয়লানীতিঃ প্রথম থেকে দশম খসড়ার পূর্বাপর  শ্বাপদসংকুল পথ


দৈনিক ইত্তেফাক এর সৌজন্যে
লেখকঃ ড. সাখাওয়াত আলী খান
অনুলিখন: হাবিবুর রহমান মানিক


এই আলোচনা'টি পড়া হয়েছে...
free counters

No comments

Powered by Blogger.