প্রজনন মৌসুমেও ধরা হচ্ছে কাঁকড়া by কল্যাণ ব্যানার্জি

সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর গ্রামের সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৯ জনের দলটি মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে এক সপ্তাহে প্রায় ৬০০ কেজি কাঁকড়া নিয়ে ফিরেছে। ‘গোন’ (অমাবস্যা বা পূর্ণিমা) শেষ হয়ে যাওয়ায় আহরণের পরিমাণ কম উল্লেখ করে সফিকুল বলেন, আগামী সপ্তাহে ‘গোন’ চালু হওয়ায় বেশি কাঁকড়া ধরা যাবে।


সফিকুল ইসলামের মতো শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার জেলে সুন্দরবনে বর্তমান প্রজনন মৌসুমেও শিকার করছেন কাঁকড়া। বন বিভাগের দুর্বল নজরদারি ও জেলেদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার কারণে প্রজনন মৌসুমেও বন্ধ হচ্ছে না কাঁকড়া ধরা। ফলে কাঁকড়ার বংশবিস্তার লোপ পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হচ্ছে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি। এ দুই মাস সুন্দরবনসংলগ্ন নদনদীতে কাঁকড়া ধরা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়। জেলেদের দেওয়া হয় না কাঁকড়া ধরার পাস। কিন্তু জেলেরা তা মানছেন না। বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে সমঝোতা করে তাঁরা সারা বছরের মতো এখনো কাঁকড়া শিকার অব্যাহত রেখেছেন।
জেলেদের সঙ্গে কথা বলে ও সুন্দরবনের কয়েকটি এলাকায় ঘুরে জানা যায়, সাতক্ষীরা রেঞ্জের ৫৪ নম্বর কম্পার্টমেন্টের মান্দারবাড়িয়া এলাকাটি অভয়ারণ্য হলেও মাছ ধরার পাস নিয়ে সেখানে কাঁকড়া শিকার চলছে। একইভাবে ৫৩ নম্বর কম্পার্টমেন্টের জলঘাটা, পুষ্পকাঠি, চোরা মেঘনা ও ৫৫ নম্বর কম্পার্টমেন্টের চামটা, ইলশেমারী, খেজুরদানাসহ রায়মঙ্গল নদসংলগ্ন এলাকায়ও চলছে কাঁকড়া শিকার।
শ্যামনগর উপজেলার কলবাড়ী গ্রামের আজিজুর রহমান, স্বপন মণ্ডল ও দাতিনাখালী গ্রামের মহসীন আলম জানান, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে বন বিভাগ কাঁকড়া ধরার পাস দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এখন মাছ ধরার পাস নিয়ে বনে ঢুকে শিকার করা হয় কাঁকড়া। কাঁকড়া ধরার কারণে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও খুশি রাখতে হয়। এ মৌসুমে ধরলে কাঁকড়ার বংশবিস্তার কমে যাবে বলে জেলেদের বলা হয় না।
প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া শিকারের বিষয়ে কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে কাঁকড়া ধরার পাস দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। মাছের পাস নিয়ে যাতে কাঁকড়া না ধরে, সে ব্যাপারে কড়াকড়ি করা হয়েছে। তবে স্থানীয় মানুষের অভাব-অনটনের কথা বিবেচনা করে একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থা শুধু সাতক্ষীরা রেঞ্জে নয়, গোটা সুন্দরবনে বলে তিনি দাবি করেন।

No comments

Powered by Blogger.