সবচেয়ে বেশি দাম আফ্রিদির

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আফ্রিদি-গেইলদের বাড়তি কদর থাকাটাই স্বাভাবিক। বিপিএলের নিলামে পাকিস্তানের শহীদ আফ্রিদি ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলের সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়াটা তাই বড় কোনো চমক নয়। আফ্রিদিকে সাত লাখ ডলারে কিনেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ডলারে গেইলের মালিক বরিশাল বার্নার্স।


২০০৯ সালে চট্টগ্রামে পিসিএলের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রথম দেখেছে খেলোয়াড়দের নিলাম। তবে সেই নিলাম ছিল স্বল্প পরিসরে; স্বচ্ছতার অভাব ছিল নিলাম-প্রক্রিয়ায়। কাল ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত প্রথম বিপিএলের নিলাম কতটা স্বচ্ছ হলো, তা বোঝা যাবে আরও পরে। তবে আপাতত এটুকু নিশ্চিত, হাট থেকে খেলোয়াড় কেনার সংস্কৃতিতে বর্ণাঢ্য এই নিলামই থাকবে অগ্রপথিক হয়ে।
নিলামে সব সময়ই উত্তেজনা থাকে। খেলোয়াড়দের নিলামে সেটি আরও বেশি। কারণ, এই প্রতিযোগিতাটা নিলাম হয়েই শেষ নয়। নিলামের জয়-পরাজয় তৈরি করে ভবিষ্যৎ লড়াইয়ের আবহ। সেই আবহ তৈরিতে কাল বিজয়ীর হাসি হেসেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস আর বরিশাল বার্নার্স। পাকিস্তানের আবদুল রাজ্জাককে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রারম্ভিক মূল্য এক লাখ ডলারে কিনে নিলাম শুরু করে দুরন্ত রাজশাহী। পরে ক্রিস গেইলের জন্য লড়াই শুরু করে নিলামের প্রথম উত্তেজনাও তারাই ছড়ায়। শুরুতে আরও দু-একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি থাকলেও রাজশাহীর সঙ্গে গেইলের জন্য শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে বরিশাল বার্নার্স। লড়াইয়ে জিতেছেও তারা।
‘এ’ শ্রেণীর বিদেশি খেলোয়াড়দের প্রারম্ভিক মূল্য এক লাখ ডলার থেকে চড়তে চড়তে গেইলের দাম ঠেকে পাঁচ লাখ ডলারে। রাজশাহী, বরিশাল—দুই দলই পাঁচ লাখ ডলার দাম হাঁকানোর পর নিলামের নিয়ম অনুযায়ী টাইব্রেকারে ঠিক হয় ক্যারিবীয় এই মারকুটে ব্যাটসম্যানের গন্তব্য। দুই দলই কাগজে দাম লিখে মুখবন্ধ খামে সেটি জমা দেয় মঞ্চে থাকা নিলাম কমিশনার ও বিসিবির সিনিয়র সহসভাপতি মাহবুবুল আনামের কাছে। পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ডলার দাম হেঁকে সেই টাইব্রেকারে জিতে যায় বরিশাল বার্নার্স। রাজশাহী দাম লিখেছিল পাঁচ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
গেইলকে পেয়ে লক্ষ্যপূরণের ঘোষণা বরিশাল বার্নার্সের প্রধান উপদেষ্টা আকরাম খানের মুখে, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, যত দামই হোক ক্রিস গেইলকে নেব।’ দলের কর্মকর্তা আজিমুল ইসলামের কথায়ও তৃপ্তির ছাপ, ‘সব দলেই একজন আকর্ষণীয় খেলোয়াড় লাগে। গেইল আমাদের জন্য তেমনই একজন। এই মুহূর্তে তাঁর ফর্মও ভালো।’ নিলামে পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ডলার দাম উঠলেও এই পরিমাণ অর্থ গেইল পাবেন পুরো টুর্নামেন্টে দলের সঙ্গে থাকলে। কিন্তু তাঁকে যেহেতু পাওয়া যাবে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর, তাই ম্যাচ হিসাব করে টাকার অঙ্কটাও আসবে কমে।
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মূল লক্ষ্য ছিল আফ্রিদি ও কাইরন পোলার্ড। সাত লাখে আফ্রিদি আর তিন লাখে পোলার্ডকে পেয়ে সাফল্যের হাসি হেসেছেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক সেলিম এইচ চৌধুরী, ‘আফ্রিদি-পোলার্ড দুজনকেই চেয়েছিলাম আমরা। ভাগ্য ভালো, দুজনকেই পেয়ে গেছি।’ পোলার্ডকে তিন লাখে পেলেও আফ্রিদির জন্য জমজমাট লড়াই হয়েছে। পাঁচ লাখ ডলার পর্যন্ত বরিশাল ছাড়া বাকি পাঁচ দলই লড়াই চালিয়ে যাওয়ায় শেষটা হয় টাইব্রেকারে এবং সেখানে সাত লাখ ডলার দাম হাঁকিয়ে আফ্রিদিকে কেনে ঢাকা। আফ্রিদিকে অবশ্য বড় জোর টুর্নামেন্টের শেষ দুই দিন পাওয়া যাবে। তাই সাত লাখ ডলার অঙ্কটা তাঁর আফসোসই শুধু বাড়াবে। খেলোয়াড়েরা টাকা যা-ই পান, দাম পাঁচ লাখ ছাড়ানো মানেই বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বাড়তি লাভ। পাঁচ লাখের পর বাড়তি টাকাটা জমা পড়বে তাদের কোষাগারে।
নিলামে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লড়াই হয়েছে নাসির হোসেনকে নিয়ে। ৪৫ হাজার প্রারম্ভিক মূল্যের ‘এ’ শ্রেণীতে ছিলেন নাসির। বিক্রি হয়েছেন দুই লাখ ডলারে, কিনেছে খুলনা রয়েল বেঙ্গলস। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলে খেলা খেলোয়াড়দের মধ্যে রকিবুল হাসান ও রবিউল ইসলামকে কেনেনি কোনো দলই। অবিক্রীত খেলোয়াড়ের সংখ্যা মোট ৯২ জন। তবে আটজন বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা পূরণ না করা বরিশাল বার্নার্সকে অবিক্রীত বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্য থেকেই প্রারম্ভিক মূল্যে কিনে নিতে হবে দুজনকে। এ জন্য তারা সময় পাবে ৪৮ ঘণ্টা। বিপিএলের প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই ১০ জন দেশি, আটজন বিদেশিসহ মোট ১৮ জন খেলোয়াড়ের দল করতে হবে।

No comments

Powered by Blogger.