বুয়েট ঘিরে চক্রান্ত-০ অশান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টির নেতৃত্বে হিযবুত তাহ্্রীর ও জামায়াতী শিক্ষকরা-০ প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়া শিক্ষক হলে হলে গিয়ে ছাত্র জড়ো করছেন-০ যোগ দিয়েছে সরকারবিরোধী ছাত্রনেতারা by বিভাষ বাড়ৈ

উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষক সমিতির অবস্থান ধর্মঘট ও আন্দোলনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহ্রীরের জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় অস্থির বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষের আশঙ্কায় আগাম ছুটি ঘোষণার পর বুধবার দাবি বাস্তবায়নে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছে শিক্ষক সমিতি।


শিক্ষকদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কিছু সাধারণ শিক্ষার্থী অংশ নেয়ার পাশাপাশি সরকারবিরোধী সকল ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। শিক্ষকদের আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানিয়ে হলে হলে লিফফেট বিলি করেছে হিযবুত তাহ্রীর ও ছাত্রশিবির। দাবি বাস্তবায়নে স্ব স্ব পদ থেকে গণপদত্যাগ করেছেন বিভিন্ন বিভাগের প্রধান ও ডিনরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামায়াত ও হিযবুত তাহ্রীরপন্থী শিক্ষক সমিতি প্রগতিশীল শিক্ষক হওয়ায় উপাচার্যকে হটানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল যে কোন মূল্যে তা বাস্তবায়ন করতেই এবারের আন্দোলন।
বুধবার রাতে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জরুরী সিন্ডিকেট মিটিং চলছিল। এদিকে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের পরেও জামায়াত ও হিযবুত তাহ্রীরের কর্মকা- ও জামায়াত প্রভাবিত শিক্ষক সমিতির বেপরোয়া কর্মকা-ের বিষয়ে কঠোর অবস্থান না নেয়ার ফলেই সঙ্কট বৃহৎ রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরেও শিক্ষক নেতারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো এবং জামায়াত নেতা গোলাম আযমের সাবেক বডিগার্ড ও তার স্ত্রীর হলে হলে তৎপরতার বিষয়ে কঠোর অবস্থান না নেয়ায় অযৌক্তিক আন্দোলনও বৃহৎ রূপ নিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার রাতে শিক্ষক আন্দোলনকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বুয়েট বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে রোজার মাসে এমনিতেই বুয়েটে পূর্ব নির্ধারিত ছুটি ছিল। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে সেই ছুটি এগিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার বুয়েট শিক্ষক সমিতি ও ছাত্রশিবির এবং হিযবুত তাহ্রীর শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার অপচেষ্টা করেন। এতে করে হিযবুত তাহ্রীর ও শিবির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীদের বাগ্বিত-া হয়। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সমিতির নেতারা উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের যোগ দিতে বাধ্য করছেন। শিক্ষক নেতাদের এমন আচরণের বিরুদ্ধে কিছু শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থী রুখে দাঁড়ালে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বুয়েট শিক্ষক নেতারা মুখোমুখি অবস্থান নেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বড় ধরনের সংঘর্ষেও আশঙ্কা দেখা দেয়। উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জড়ো করতে মঙ্গলবার রাতেই হলে হলে ও বুধবার সকালে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে শিক্ষার্থীদের কাছে লিফলেট বিলি করেন শিক্ষক সমিতির কয়েক নেতা। রাতে শিক্ষকদের আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানিয়ে হলে হলে লিফফেট বিলি করে হিযবুত তাহ্রীর ও ছাত্রশিবির। সকালে ইলেকট্রিকাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষক নেতারা তাদের আন্দোলনে ডেকে আনেন। সঙ্গে যোগ দেয় সরকারবিরোধী বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল ভবনের সামনে সমাবেশ করে দাবি বাস্তবায়নে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচী ঘোষণা করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ মুজিবুর রহমান। সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ারও দাবি জানানো হয়। কর্মসূচীতে আরও নেতৃত্ব দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, সহসভাপতি মাকসুদ হেলালী, কোষাধ্যক্ষ আতাউর রহমান, সাবেক ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আমিনুল হক, ড. মাহবুব রাজ্জাক ও তাঁর স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া, ড. জেবুনাসরীন আহমেদসহ শিক্ষক সমিতির শীর্ষ নেতারা।
বেলা পৌনে ১২টার দিকে একটি মৌন মিছিল বের করেন তাঁরা। এ সময় কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে একটি কাগজে একে একে স্বাক্ষর করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে পদত্যাগ করেছেন বলে ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে থাকা বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের চেয়ারম্যানরা। কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আতাউর রহমান এ সময় বলেন, নিবন্ধক ড. আবু বকর সিদ্দিকের কাছে ২৪ জন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২৫ শীর্ষ কর্মকর্তাই আন্দোলনের অংশ হিসেবে পদত্যাগ করতে সম্মত হয়েছেন। ২৪ জন ইতোমধ্যে পদত্যাগপত্রে সই করেছেন। এই ২৪ জনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি বিভাগের চেয়ারম্যান, তিনটি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও পাঁচটি অনুষদের ডিন রয়েছেন। সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, শিক্ষক আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা চলমান আন্দোলনে যোগ দেয়ায় ভীত হয়ে কর্তৃপক্ষ একমাস আগেই ছুটি ঘোষণা করেছে। ধারাবাহিক আন্দোলন বানচাল করার জন্যই সরকার ও কর্তৃপক্ষ এই কূটকৌশল নিয়েছে। উপাচার্য তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমি পদত্যাগ করব কিন্তু আমার অপরাধ তো থাকতে হবে। কোন অনিয়ম দুর্নীতি করলে না হয় শিক্ষক সমিতি দাবি করত। তিনি বলেন, আমি বুয়েটের সবচেয়ে প্রবীণ শিক্ষক। এমনতো নয় যে, আমার অনিয়মের মাধ্যমে সরকার উপাচার্য পদে বসিয়েছেন। আমি উপাচার্য হয়ে কি না করেছি শিক্ষকদের দাবির পূরণ করেছি। এদিকে উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোন অনিয়মের প্রমাণ ছাড়া কেবল একচেটিয়া প্রভাবের জোরে শিক্ষক সমিতির করা কর্মকা-ে হতাশ ও ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আমি বার বার শিক্ষকদের বলেছি এমন কিছু করবেন না যাতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়। তাদের পুঁজি করে কোন কাজ করবেন না। অথচ এবারেও শিক্ষক সমিতি তাই করেছে। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক সমিতির দাবি অনুসারে তদন্ত কমিটি হয়েছে। কমিটির সদস্য নিয়ে তাদের আপত্তি থাকায় তাদের পছন্দের একজন ডিনকে কমিটিতে আনা হলো। সমিতির দাবি ৬৫ বছর চাকরির বিষয়টি বাস্তবায়ন করলাম। তদন্ত রিপোর্ট জমা হয়েছে। যদি তদন্ত সমিতির পছন্দ না হয় প্রয়োজনে আবারও পৃথক তদন্ত হবে। কিন্তু সমিতি আলোচনাও করতে চায় না। এবার আবার আন্দোলন করছে অথচ আমার সঙ্গে তারা কথাও বলেনি। কী তাদের আপত্তি। কমিটির রিপোর্ট নিয়েও কথা নেই। অথচ শিক্ষার্থীদের সঙ্কটে ফেলে আবার ধর্মঘট। ফলে বিভিন্ন পক্ষ দাঁড়িয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হলে প্রয়োজনে ক্যাম্পাস চালু করা হবে। শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান আপনারা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, আমি সভাপতিকে বলছি আপনি শিক্ষার্থীদের হলে পাঠান। তদন্ত হয়েছে প্রয়োজনে আরও তদন্ত করা হবে। কিন্তু এভাবে জোর করে চাপ সৃষ্টি করে কেন কর্মসূচী? চেয়ারম্যান বলেন, আমি বিষয়টি দেখছি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেসবুকে হত্যার হুমকি গ্রেফতারি পরোয়ারা নিয়েও প্রকাশ্যে শিক্ষক আন্দোলনের নেতা হাফিজুর রহমান রানার ঘুরে বেড়ানোর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওয়ারেন্ট হওয়ার পর সাত দিন চলে গেলেও আটক হয়নি ঐ শিক্ষক নেতা। উল্টো হলে হলে আন্দোলন সংগঠক করছেন তিনি। পুরো ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে বুয়েটে। ডিবির তদন্তে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার পর দ-বিধির ৫০৬ ও তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭(১) ধারায় মামলা দায়ের করলে গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল আদালত। প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে হাফিজুর রহমান রানা স্টাটাসে লিখেছিলেন, ‘হায়েনা ওই হায়েনা তুই দেশকে খেয়েছিস, এখন তুই বুয়েট কে খাবি... পারবি না...আমরা বুয়েটের শিক্ষকরা ও সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা হচ্ছি শিকারি। প্রথমে তোর মাথাতে গুলি করব, তারপর তোর পেটে। তারপর তোর মাথা কেটে বুয়েটের গেটের সামনে টানিয়ে রাখব। যাতে আর কোন হায়েনার আক্রমণে বুয়েট আক্রান্ত না হয়।’
এর আগে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ও বুয়েটের প্রগতিশীল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সরকারকে কয়েক দফা সতর্ক করেছিল বুয়েটের সরকারবিরোধী মৌলবাদী চক্রের বিরুদ্ধে। কেবল গণমাধ্যমের সংবাদ নয় সরকারের একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে বেরিয়ে পরে বুয়েটের চলমান শিক্ষক আন্দোলনের মূল রহস্যও। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রগতিশীল উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের নিয়োগের ফলে জামায়াত ও হিযবুত তাহ্রীর প্রভাবিত শিক্ষক সমিতির একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব হওয়াই বুয়েট আন্দোলন ও অস্থিরতার মূল কারণ। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম নয় বরং মহাজোট সরকারবিরোধী মৌলবাদী আদর্শের অনুসারীরা আধিপত্য বিস্তার করতেই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বুয়েটকে অশান্ত করছেন। প্রতিষ্ঠানটির মাত্র ২২ ভাগ শিক্ষক বর্তমান সরকার ও প্রগতিশীল মতাদর্শের অনুসারী। ৭০ ভাগ শিক্ষকই বিএনপি-জামায়াত ও হিযবুত তাহ্রীরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বাকি ৮ ভাগ শিক্ষক মোটামুুটি নিরপেক্ষ। কেবল তাই নয়, ১৩ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষক সমিতির অধিকাংশই সরকারের ঘোরতরবিরোধী এবং তারাই হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্রদের মদদ দিচ্ছেন।
সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার প্রায় দুই বছর পর বুয়েটে উপ-উপাচার্য পদ সৃষ্টি করে এই পদে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের অনুসারী অধ্যাপক ড. এম হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয়। অধিকাংশ সিনিয়র শিক্ষক বর্তমান সরকারের বিরোধী শিবিরের হওয়ায় তারা উপ-উপাচার্য নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নেই মর্মে প্রচার করছে। অথচ উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষক সমিতিই প্রথমে তাদের পছন্দের শিক্ষককে নিয়োগের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছিল। ব্যর্থ হয়ে এখন তারা পদ বিলুপ্তির দাবি তুলেছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে, বুয়েটে শিক্ষকদের মধ্যে ২২ ভাগ শিক্ষক বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক মতাদর্শের অনুসারী, ৭০ ভাগ শিক্ষক বিএনপি-জামায়াত হিযবুত তাহ্রীরের আদর্শের অনুসারী। অবশিষ্টরা নিরপেক্ষ মনোভাবাপন্ন এবং যেদিকে পরিবেশ অনুকূল মনে করেন সেদিকেই অবস্থান নেন।
উল্লেখ্য, কেবল কর্তৃপক্ষ নয়, বুয়েটের উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক সমিতির আনা অভিযোগের সত্যতা পায়নি সরকার গঠিত তদন্ত কমিটিও। সমিতির দাবি অনুসারে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বুয়েট শিক্ষক সমিতির অভিযোগের বিষয় দীর্ঘ এক মাস তদন্ত করেও কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। উপাচার্যসহ কর্তৃপক্ষের নেয়া কোন কাজে অধ্যাদেশ বা আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি। আইন মেনে সিন্ডিকেটের মতামত অনুসারেই তিনি সকল কাজ করেছেন। সমিতির নেতৃবৃন্দের অভিযোগ সত্য নয়। আর উপ-উপাচার্যের পদ বিলুপ্তির দাবিও যৌক্তিক নয়। উপ-উপাচার্যের পদ সৃষ্টি ও এই পদে নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ সরকার ও চ্যাঞ্চলের এখতিয়ার, উপাচার্যের নয়।

No comments

Powered by Blogger.