পাঠকের মন্তব্য-এটা হলো বাংলাদেশের রাজনীতির হাল-হকিকত

প্রথম আলোর অনলাইনে (prothom-alo.com) প্রতিদিন রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ, খেলা, প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে পাঠকের মতামত প্রকাশিত হয়। তাঁদের এই মতামত চিন্তার খোরাক জোগায় অন্যদের। গত কয়েক দিনে বিভিন্ন বিষয়ে পাঠকদের কিছু মন্তব্য ঈষৎ সংক্ষেপিত আকারে ছাপা হলো।


এবারের নববর্ষে
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান ১৪ এপ্রিল প্রথম আলোর বিশেষ নববর্ষ সংখ্যায় এই উৎসবের ইতিবৃত্ত তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখার প্রতিক্রিয়ায় অমিত বড়ুয়া লিখেছেন: উৎসব হিসেবে উদ্যাপনের জন্য বাংলা নববর্ষ সত্যিই বড় একটি বিষয়। এ উপলক্ষে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে ও অন্যান্য পার্থক্য ভুলে সারা বিশ্বের সব বাঙালি এক জায়গায় দাঁড়াতে পারি। এ উৎসব এ কারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো সংকীর্ণ ধর্মীয় বিভক্তির ঊর্ধ্বে উঠে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে জাগ্রত করতে পেরেছে।
শাকির হোসেন: আপনি অনেক ভালো লিখেছেন। নববর্ষ তো বাংলার সব মানুষের জন্যই। তাই নববর্ষ পালনের দিন আমরা যদি কিছু গরিব-দুঃখী মানুষকে পেট পুরে খাবার দিতাম, তাহলে হয়তো আমাদের নববর্ষ পালন আরও বেশি সার্থক হতো।
আবদুস সামাদ: উৎসবে আমরা পরস্পর মিলিত হই। এতে ব্যক্তির খণ্ডতা ও বিচ্ছিন্নতা দূর হয়ে সমষ্টির সম্পূর্ণতা ও অবিচ্ছিন্নতার প্রকাশ ঘটে। প্রবাসে থেকে এই বিশেষ দিনে যোগ দিতে না পেরে শুধুই বিষাদ অনুভব করছি।

মাননীয় এপিএসগণ
‘কালের পুরাণ’ কলামে সোহরাব হাসানের এই নিবন্ধের প্রতিক্রিয়ায় জামান লিখেছেন: যে দেশে ক্ষুধার জন্য সোনা বানু (পঞ্চম শ্রেণী ছাত্রী) আত্মহত্যা করে, সে দেশে এপিএসগণ টাকার বস্তা নিয়ে ঘোরে! এই দেশ আর কোনো দিন দাঁড়াতে পারবে না। শুধু খেলোয়াড় পরিবর্তন হয়, খেলা একই। এটাই আমার দেশের নিয়তি...অনেক সম্ভাবনা ছিল...কিন্তু হবে না...।
কুলসুম আর নজরুল: এপিএস ওমর ফারুক, রেলের অসাধু কর্মকর্তা ও রেলমন্ত্রীর বর্তমান অবস্থানের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে কতটা আসন হারাতে হতে পারে, তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন?

জিএসএ ব্যবসা চান এরশাদ!
টিপু সুলতানের এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে ১৩ এপ্রিল। এ সম্পর্কে ইরফান লিখেছেন: আপনার আর কী কী দরকার এরশাদ সাহেব? একেবারে একটা তালিকা দিয়ে দিন। ইশ্! এই মানুষের যদি ‘লজ্জা’ নামক জিনিসটা থাকত!
ইবনে মিজান: রাজনীতির অপর নাম ব্যবসা। এ কথাটিই সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাহেব আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন। মান-সম্মানের মাথা খেয়ে শেষমেশ নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলেন না। টু-পাইস কামাতে হবে। নতুন ব্যাংক হয়েছে। এরপর হবে ব্যবসা। রাজনীতিক বলে কর না দিলেও হবে। সব দিক থেকেই সুবিধা আর সুবিধা। তার ওপর মহাজোটের সরকার। একেবারে ধরাছোঁয়ারই বাইরে তিনি। এটা হলো বাংলাদেশের রাজনীতির হাল-হকিকত। নৈতিকতা যেন হারিয়েইগেছে। ৩০ লাখ শহীদের আত্মা আজ করুণ চোখে চেয়ে আছে। এ জন্যই কি এক দিন তাঁরা প্রাণ দিয়েছিলেন?
মো. আবু নাফি ইবনে জাহিদ: আসলে দোষ তো আমাদেরই। আমরাই তো এঁদের ভোট দিই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিকে ভোট দিই। ড. ইউনূসের মতো ভালো মানুষ রাজনীতিতে আসতে চেয়েছিলেন, আমরাই তাঁকে অপছন্দ করি। ফখরুদ্দীন আহমদ আর মইন উ আহমেদরা দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন আনতে চাওয়ায় আমাদের পছন্দ হয়নি। এসব দুর্নীতি আমাদের প্রাপ্য।

আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকের লেখা এই নিবন্ধটি ছাপা হয়েছে ১৩ এপ্রিল প্রথম আলোর সম্পাদকীয় পাতায়। এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মোহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন লিখেছেন: ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম’ শিরোনামটির স্রষ্টা হুমায়ুন আজাদ। যাঁর মতো কেউ, কিছু নেই এই ভূখণ্ডে। এই বাংলাদেশ কেউ চায়নি, চায় না, চাইতে পারে না। আমরাও চাই না কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি অন্যায় আক্রমণ, যেমন চাই না—সারা জীবন নীতির কথা বলে সুযোগ পেলে গরিবের টাকা লুট; চাই না—কারও প্রতি বিচারের নামে সীমাহীন অবিচার; চাই না—ধর্মের নামে ব্যবসা আর জনগণ ভোলানো অশুভ রাজনীতি; চাই না—রাষ্ট্রের প্রশ্রয়ে অসীম দুর্নীতি এবং সীমাহীন সন্ত্রাস; ...। এখন যে বাংলাদেশ, আমরা তার কিছুই চাই না। আমরা চাই, সবকিছুতেই শুভ ও সুন্দর বাংলাদেশ। তবে তা চাওয়ার যোগ্যতা আমাদের আছে কি না, তা আবার ভেবে দেখতে হবে।
এ জেড সাদেক: বর্তমান মহাজোট সরকার রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামকে সংবিধানে রেখে দিয়েছে। তখনই বোঝা গিয়েছিল যে মহাজোটের অংশীদার সাবেক স্বৈরাচারী শাসক জেনারেলের সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখার স্বার্থে দীর্ঘ গণতান্ত্রিক-অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্যসম্পন্ন দল আওয়ামী লীগও অনৈতিক আপসে কুণ্ঠিত হয় না।

শোকে কাঁদছে নাইমুলের গ্রাম
বগুড়ার কাহালু উপজেলার সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র নাইমুল ইসলামকে হত্যা করে ইটের ভাটায় পুড়িয়ে দিয়েছে। এ নৃশংস ঘটনা সম্পর্কে প্রথম আলোয় প্রতিদিনই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় মো. রিয়াজ আহমেদ লিখেছেন: সব সময় অপরাধীকে সাজা দেওয়াই বড় কথা না। অপরাধের মূল উৎপাটন করতে হবে। মূল কথায় আসে, খুঁজে বের করা উচিত। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দেশের এ অবস্থার জন্য আপনি কী করছেন? আমাদের জানতে ইচ্ছা করে খুব।
এ ডব্লিউ হক: জান্নাতুল ফেরদৌসের পর নাইমুল ইসলাম! প্রতিদিনই কি আমরা পিশাচগুলোর হাতে আমাদের নিরীহ ছোট ভাইবোন, ছেলেমেয়েদের নির্মম, নিদারুণ, দুর্বিষহ মৃত্যু দেখেই যাব? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ, শেখ রাসেলের কথা স্মরণ করে এই পিশাচদের উন্মুক্ত ময়দানে ফাঁসি বা মৃত্যুদণ্ডের ব্যবস্থা করুন। আমরা শুধু দুঃসহ মৃত্যুর যন্ত্রণা বহন করি। আর খুনি পিশাচেরা বছরের পর বছর জেলে আমাদেরই আয়ের টাকায় বেঁচে থাকে!

খাইখাইতন্ত্রের কালে মুস্তাক-হযরত আলী
আনিসুল হক তাঁর অরণ্যে রোদন কলামে ১০ এপ্রিল এ প্রবন্ধটি লিখেছেন। এ লেখার প্রতিক্রিয়ায় অনেক পাঠক তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। আশফাকুল আরেফিন লিখেছেন: আসলে এ দেশে বেশির ভাগ মানুষই ভালো—আপনার এই কথার সঙ্গে আমি শতভাগ একমত। আমাদের দেশের একজন কৃষক অথবা একজন রিকশাচালক যে কষ্ট করে তাঁদের রুজি উপার্জন করেন, ছিনতাই-চুরি-রাহাজানি করলে হয়তো অনেক অল্প কষ্টে অনেক ভালো থাকতে পারতেন তাঁরা। তাহলে বাংলাদেশে থাকা হতো না কারও। আল্লাহ মালুম! এই রাজনীতিবিদদের থেকে আমারা কবে মুক্তি পাব। একাত্তরে এই যুদ্ধ হয়েছিল বিদেশি শোষকদের বিরুদ্ধে। দেশি শোষকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার সময় মনে হয় বেশি দূরে নেই।
মোহাম্মাদ রহমান: যাঁরা দুর্নীতি করেন না, তাঁদের পরিশ্রমের ফলে যে ঘি-মাখন আসে, তা চেটেপুটে খায় দুর্নীতিবাজেরা! ওরা পাকিস্তানকে তাড়িয়ে ঘি-মাখন খেতে চেয়েছে, খাচ্ছে! স্বাধীন দেশে একদল আরেক দলকে তাড়িয়ে ঘি-মাখন খেতে চাইছে, খেতে পাচ্ছে! এ দেশে দুর্নীতিবাজেরা যা চায়, তা-ই পায়। সাহায্য করে রাষ্ট্র!
নাসরীন সুলতানা: হযরতের পরিবার-ছেলেমেয়েদের জন্য কিছু করা প্রয়োজন। না হলে ওই অল্প বয়সী নারী (হযরতের বউ) ওই দুটি শিশুসন্তান নিয়ে কীভাবে চলবেন! সরকারের উচিত এদের জন্য কিছু করা।
জুয়েল হাবিব: এ অবস্থায় আমরা একেকটা মেয়াদে ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত চুলায় নিক্ষেপিত হচ্ছি। এখন চুলায় আমরা ভালোই পুড়ছি। সামনে আরও বড় অগ্নিকুণ্ড আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ হওয়া ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। ছয় ফুট জায়গার মধ্যে আশ্রয় নেওয়ার পরেই কেবল এঁদের ক্ষুধা মিটবে।
(পাঠকের মতামত বিস্তারিত পড়তে ও আপনার মতামত জানাতে ভিজিট করুন prothom-alo.com)

No comments

Powered by Blogger.