পুলিশ তাহলে আছে কেন?-দিনে দুপুরে খুন

রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকায় দিনে দুপুরে, নিজের বাসার ভেতর বাড়ির মালিক খুন হয়ে গেলেন! পরিস্থিতির কতটা অবনতি হলে এটা সম্ভব, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না। দিনে দিনে পুলিশের সংখ্যা বাড়ছে, পদ ও পদবি বাড়ছে। আর বিপরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে অপরাধীরা। অনায়াসে তারা খুন করে চলে যাচ্ছে।


বিদেশে কাজ করে কিছু অর্থ উপার্জনই হলো তাঁর কাল। ডাকাতেরা বাসায় ঢুকে বলে, ‘অনেক দিন বিদেশে ছিলি, টাকা কোথায় রেখেছিস?’ মানুষ বিদেশে টাকা উপার্জন করে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবেন—এটা তো সব সরকারের ঘোষিত নীতি। কিন্তু এ জন্য যদি প্রাণে বেঁচে থাকার নিরাপত্তাটুকুও সরকার তাঁকে না দিতে পারে, তাহলে কোন ভরসায় প্রবাসীরা দেশে পরিবার-পরিজন ফেলে রেখে বিদেশ-বিভুঁইয়ে কাজ করবেন?
দুর্বৃত্তরা এলাকায়ই থাকে। ওরা নেশা করে। বাড়ির একজন ভাড়াটের ঘরে অভিযুক্ত যুবকেরা জুয়ার আসর বসাত। এসব অভিযোগ অনেক দিন ধরেই ওদের বিরুদ্ধে রয়েছে। বাড়ির মালিক জুয়া খেলায় বাধা দেওয়ায় ওরা ক্ষিপ্ত হয়। কয়েক দিন ধরে তারা হুমকি দিচ্ছিল। ওরা বাড়ির মালিক কাজী জিয়া হায়দারের মেয়েকে অপহরণ করে পাঁচ লাখ টাকাও দাবি করেছিল। এমনকি কয়েক দিন আগে অভিযুক্ত বখাটে যুবকেরা তাঁদের বাসায় আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
এসব ঘটনা চলছিল প্রকাশ্যে। থানা-পুলিশ নির্বিকার ছিল কেন? বাড়ির মালিক পুলিশকে জানাননি, সেটা তাঁর ভুল হতে পারে। হয়তো তিনি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করাই শ্রেয় মনে করেছেন। কিন্তু পুলিশেরও তো দায়িত্ব আছে। মেয়েকে অপহরণের হুমকি, বাসায় আগুন—এগুলো তো গোপনে হয়নি। সবাই জানে, পুলিশ জানে না কেন? পুলিশ যদি তৎপর না থাকে, সাধারণ মানুষ কোন ভরসায় যাবে তাদের কাছে প্রতিকার চাইতে?
খোদ রাজধানী ঢাকায় যদি প্রবাসীরা দেশে ফিরে অসহায়ভাবে খুন হয়ে যান, তাহলে দূরের জেলা ও গ্রামে কী হবে? প্রবাসে উপার্জন করার ‘অপরাধে’ দেশে ফিরে তাঁরা কি জীবন বাঁচানোর জন্য পালিয়ে বেড়াবেন? বিষয়টি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা পূরণে প্রবাসীদের আয় একটি বড় ভূমিকা পালন করে। তাঁদের নিরাপত্তা দিতে সরকারকে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।
অবিলম্বে অভিযুক্ত খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করা হোক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সরকার ও প্রশাসনের একটি বড় দায়িত্ব।

No comments

Powered by Blogger.