আত্মীয়তার বন্ধন মুমিনের অধিকার by মাওলানা শিব্বীর আহমদ

ত্মীয়তা অটুট রাখা এক মুমিনের কাছে আরেক মুমিনের অধিকার। মুমিনের জন্য মুমিনের দায়। মানুষের মাঝে আত্মীয়তার এ সম্পর্ক আল্লাহতায়ালার সৃষ্টি। বংশগতভাবে হোক কিংবা বৈবাহিক সূত্রে; পরস্পরের এ সম্পর্ক আমাদের জন্য এক বড় নেয়ামতও বটে। আত্মীয়দের কাছে পেয়ে আমরা স্বভাবতই কিছুটা মানসিক প্রশান্তি লাভ করি। আত্মীয়দের পরস্পরের এ সম্পর্ক অটুট রাখা ইসলামের এক মহান শিক্ষা।


কোরআনুল কারিম ও হাদিস শরিফে এর গুরুত্ব বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে আত্মীয়তার বন্ধন ও সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিণাম ও ক্ষতি সম্পর্কে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখে। _বুখারি ও মুসলিম
এ হাদিসে আমরা দেখতে পাচ্ছি, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপনের দাবিই হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা। আল্লাহতায়ালা আদেশ করছেন, তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অন্যের কাছে (্স্বীয় হক) দাবি করে থাকো, আর ভয় কর আত্মীয়তার সম্পর্ক (ছিন্ন হয়ে যাওয়া)কে। _সূরা নিসা :১
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা একদিকে যেমন আল্লাহতায়ালার আদেশ, আবার এর ওপর সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি নির্ভরশীল। আত্মীয়তার শুরু পরিবার থেকে। আর পরিবারই হচ্ছে সমাজের ভিত্তি। পরিবার পরিবার মিলেই সমাজ। ফলে এটি একটি সহজ সমীকরণ_ সুন্দর সমাজ গঠনে আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা অপরিহার্য।
এক আত্মীয়ের কাছে আরেক আত্মীয়ের আইনগত অনেক অধিকার থাকতে পারে। সে অধিকারগুলো যথাযথ আদায় করা হচ্ছে আত্মীয়তা রক্ষার প্রথম ধাপ। কারও সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা যেমন বড় অন্যায়, পারস্পরিক হকগুলো আদায় করে দেওয়াও তেমনি সওয়াবের কাজ। কেউ যদি তার নিজের খরচ জোগাতে অক্ষম হয়, আর তার উপার্জনের কোনো উৎস না থাকে, তাহলে তাকে দেখাশোনা ও তার ভরণপোষণ করাও আত্মীয়ের ওপর আত্মীয়ের অধিকার। আইনগত অধিকার আদায়ের পরের ধাপ হচ্ছে আন্তরিক হৃদ্য, সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়ানো, খোঁজখবর নেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখা। সাধ্যানুসারে উপহার আদান-প্রদানও আত্মীয়তা রক্ষার একটি মাধ্যম। আর এর চূড়ান্ত ধাপ হচ্ছে, কোনো আত্মীয় যদি আত্মীয়তা ছিন্ন করে, তবে তার সঙ্গেও সদাচরণ করা ও সম্পর্ক প্রতিস্থাপন করা। এ ধরনের ব্যক্তিরাই হচ্ছে প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী। হাদিসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে বিনিময় হিসেবে আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে মূলত আত্মীয়তা রক্ষাকারী নয়। প্রকৃত আত্মীয়তা রক্ষাকারী তো সেই, যার সঙ্গে সম্পর্ক কেউ ছিন্ন করলেও সে তার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীকে কোরআনে বলা হয়েছে সর্বস্বান্ত। ইরশাদ হচ্ছে, 'যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদাকে পাকাপোক্ত করার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ যা অটুট রাখতে আদেশ করেছেন তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারাই সর্বস্বান্ত।' _সূরা বাকারা :২৭
এ আয়াতে আল্লাহতায়ালার যে আদেশের কথা বলা হয়েছে তা হচ্ছে পারস্পরিক আত্মীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখা।
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষাকারী পরকালীন প্রতিদান পাওয়ার পাশাপাশি দুনিয়াতেও এর সুফল লাভ করবে। হাদিস শরিফে আছে, যে এটা কামনা করে_ তার আয়ু বৃদ্ধি করা হোক, তার জীবিকা বেড়ে যাক আর তার থেকে দূর করা হোক অপমৃত্যুকে, সে যেন আল্লাহকে ভয় করে এবং আত্মীয়তা বজায় রাখে। _মাজমাউয যাওয়ায়েদ
 

No comments

Powered by Blogger.