এ মাসেই ড. ইউনূসের ওয়েজ আর্নার অর্থের রিপোর্ট দেবে এনবিআর

চলতি মাসের মধ্যেই ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ওয়েজ আর্নার হিসেবে বিদেশ থেকে আনা সমুদয় অর্থের তথ্য প্রতিবেদন জমা দেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ওই প্রতিবেদনে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ওয়েজ আর্নার হিসেবে কত টাকা বিদেশ থেকে এনেছিলেন তার পুরো হিসাব থাকছে।


গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদের সভা থেকে এনবিআরের কাছে এই প্রতিবেদন চাওয়া হয়। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে ড. ইউনূস ওয়েজ আর্নার হিসেবে বিদেশ থেকে কত টাকা এনেছিলেন; তিনি তা আনতে পারেন কি না; ওই টাকার জন্য কী পরিমাণ কর অব্যাহতি নিয়েছেন ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয় এনবিআরের কাছে।
সংস্থার চেয়ারম্যান নাসিরউদ্দিন আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি। নিদের্শনা অনুযায়ী এ মাসেই ক্যাবিনেটের কাছে প্রতিবেদন দেয়া হবে। ওইদিন মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে এনবিআরকে এই প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার ওই নির্দেশের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত সোমবার এনবিআরে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। সেই চিঠি পেয়ে এনবিআরের দুই সদস্যকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান। এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও করসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করছে রাজস্ব বোর্ড। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মুহাম্মদ ইউনূসের নির্ধারিত বয়সের বেশি সময় থাকা বৈধ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে এ বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে। ১৯৮৩ সালে একটি সামরিক অধ্যাদেশের মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা হওয়ার পর থেকেই মুহাম্মদ ইউনূস এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
১৯৮৬ সালের ৮ জুলাই গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা বিন্যাস পরিবর্তন অধ্যাদেশ সংশোধন করেন পরবর্তী অর্থমন্ত্রী সাঈদুজ্জামান। এই মালিকানা বিন্যাস পরির্বতনের ফলে ৭৫ ভাগ গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা চলে যায় ঋণগ্রহীতাদের কাছে এবং ৬০ শতাংশ থেকে সরকারের মালিকানা কমে দাঁড়ায় ২৫ শতাংশে। ওই অনুসারে গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ডের গঠনও পরিবর্তন করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের ৩১ জুলাই অর্থাৎ ২৩ দিনের মাথায় আরেকটি সংশোধন করা হয়। সংশোধন এভাবে করা হয় গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেবে পরিচালনা পর্ষদ, সরকার নয়। যে কারণে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব পালন করেন। অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ২০১১ সালে তাঁর পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই বছর মার্চে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যখন ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়, তখন তাঁর বয়স প্রায় ৭১ বছর।
ইউনূস নিজেও সরকারের পদক্ষেপ মানতে নারাজ ছিলেন। ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই চালিয়েও হেরে যান তিনি।
সর্বশেষ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর এক বিবৃতিতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা পুরোপুরিই নিতে চায়। তা প্রতিরোধে দেশবাসীকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

No comments

Powered by Blogger.