দাবি মানলে শিফটিংয়ে রাজি হাজারীবাগের ট্যানারি শ্রমিকরা

বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেলে ট্যানারি মিল স্থানান্তরে (শিফটিং) সম্মতি জানান হাজারীবাগের শ্রমিকরা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক শ্রমিক সমাবেশে এ ঘোষণা দেন ট্যানারি ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।ঢাকার হাজারীবাগে দেড় শতাধিক ট্যানারি মিলে কাজ করছেন প্রায় আট হাজার শ্রমিক। ওই এলাকার শ্রমিকদের স্বার্থ আদায়ে পাঁচ দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে হাজারীবাগ ট্যানারি ওয়ার্কাস ইউনিয়ন। গতকাল মঙ্গলবার এই সংগঠনের ৪৬ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইউনিয়ন শ্রমিক সমাবেশ ও শোভাযাত্রার আয়োজন করে।


নিজস্ব কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেকের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুর ইসলাম, সদস্য মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ, আন্তর্জাতিক সম্পাদক খন্দকার জানে আলম প্রমুখ।
সমাবেশে ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরেই হাজারীবাগের ট্যানারি মিল ও শ্রমিকদের শিফটিংয়ের কথা চলছে। সরকার এ জন্য সাভারে জায়গাও বরাদ্দ করেছে। সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।' সমাবেশে ট্যানারি মিল শিফটিংয়ের পূর্বশর্ত হিসেবে শ্রমিকদের পক্ষে সুস্পষ্ট দাবি উত্থাপন করেন ইউনিয়নের সভাপতি আবুল কালাম। তিনি বলেন, 'শিফটিংয়ের আগে ট্যানারি মিলের শ্রমিকদের বাসস্থানের বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়া শ্রমিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য স্কুল ও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালসহ স্থায়ী বসবাস উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এ দাবি মেনে নিলে দেশের যেকোনো অঞ্চলেই যেতে রাজি আছেন হাজারীবাগের ট্যানারি শ্রমিকরা।' সুস্থ ধারার শ্রমিক আন্দোলনের কথা উল্লেখ করে ইউনিয়নের সভাপতি কালাম বলেন, 'ট্যানারি মিলের মালিকরা বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে চুক্তি করেছেন; কিন্তু কোনো চুক্তিই পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করেননি। শ্রমিকরা এর প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছেন।'
এ বছরের ডিসেম্বর মাস শেষ হলেই শ্রমিকদের সঙ্গে মালিক পক্ষের দ্বিবার্ষিক চুক্তি শেষ হবে। চুক্তি নবায়নের জন্য আগামী বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে মালিক পক্ষের কাছে একটি দাবিনামা পেশ করবে ওয়ার্কাস ইউনিয়ন।

No comments

Powered by Blogger.