যৌবনে ব্রণ সমস্যা

যৌবনে মানবদেহের একটি অবস্থিত সমস্যার নামই হলো ব্রণ। এই ব্রণ সমস্যায় না ভোগেন বা ভুগেছেন এমন মানুষের সংখ্যা কিন্তু সত্যই কম। সুন্দর একটি লাবণ্যময় মুখে যখন ব্রণ উঠে যায় তখন তার মানসিক যন্ত্রণা যে কত যাঁরা ভোগেন তাঁরাই কেবল উপলব্ধি করে,
কেন হয়? প্রাপ্তবয়ষ্ক হওয়ার পর দেহের হরমোনের প্রভাব বৃদ্ধি পায় বলে ঝবনধপবড়ঁং মষধহফ বা মেদময় গ্রন্থির কর্মক্ষমতা বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত পরিমাণ ঝবনঁস তৈরি হতে থাকে। লোমের গোড়ায় একটি জীবাণু স্বভাবিক বিদ্যমান থাকে, যার নাম প্রোপাইনি ব্যাকটেরিয়াম একনি। এই জীবাণু ঐ নিঃসরিত সেবামকে ভেঙ্গে ফ্রি ফ্যাটি এ্যাসিড তৈরি করে। আর ঐ এ্যাসিডের প্রভাবে লোমের গোড়ায় প্রদাহের সৃষ্টি হয়। প্রদাহের ফলে লোমকূপের নালীপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং সেবাসিয়াস গ্রন্থিত্বকের নিচে ফুলে গোটার আকার ধারণ করে, যা বাইরে থেকে ফুলে উঠতে দেখা যায়, সেগুলোই হলো ব্রণের দানা। এ ছাড়াও যে কোন তৈলাক্ত পদার্থ বা তৈল মুখে মাখলে ব্রণ দেখা দেয় এবং যাদের কিছুটা হলেও ব্রণ আছে তাদের ক্ষেত্রে আরও বেড়ে যায়। এ ছাড়া বংশগত কারণে ও ব্রণ হতে ্পারে। আবহাওয়ার কারণেও ব্রণ হতে ্পারে। এছাড়া কিছু ওষুধের প্রভাবেও ব্রণ দেখা দিতে পারে।
কোন্ কোন্ স্থানে ব্রণ হয়
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মুখে ব্রণ হতে দেখা যায়। তবে মুখ ছাড়াও বুক ও পিঠের উপরের অংশে ও হাতের উপরের অংশে হতে দেখা যায়। মুখ ছাড়াও যে বুক আর পিঠে ব্রণ হতে পারে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে ধারণা না থাকার কারণে ঐ সমস্ত স্থানে ব্রণ দেখা দিলেও বেশিরভাগ লোকেই তা ব্রণ মনে করে না।

কাদের বেশি হয়
ব্রণ মূলত একটি টিন-এজারদেরই রোগ। মেয়েদের ক্ষেত্রে মূলত ১৪ থেকে ১৬ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের লোকদের মধ্যে বেশি হতে দেখা যায়। সাধারণত ২০-এর পর এ রোগ কমে যেতে শুরু করে। তবে ব্যতিক্রমও কিন্তু আছে। অনেকের ক্ষেত্রে এ রোগ ২০ এর পরও শুরু হয়ে থাকে এবং সে ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে। অনেকের আবার ব্রণ নেই, এমনকি ছিলও না। তাদের ক্ষেত্রে কোন কোন তৈলাক্ত পদার্থ ব্যবহােেরর ফলে হঠাৎ করেই ব্রণ হতে দেখা দেয় যা কিনা বয়সের এই সীমাবদ্ধতার বাইরেও হতে দেখা যায় এবং তা ঐ তৈলাক্ত পদার্থ বা ব্যবহৃত প্রসাধনী বন্ধ করে দিলেই নিজে নিজে ভাল হয়ে যায়।

কি করে ব্রণ চিনবেন
প্রথমেই গোটার পাশাপাশি বয়সের দিকে তাকাতে হবে। তবে এক্ষেত্রে এই গোটা লোমের গোড়ায় হবে এবং কমিডোন থাকতে পারে এবং ঐ গোটায় টিপ দিলে ভাতের দানার মতো পদার্থ বের হবে। তবে কখনও দানার আকারে। ছোট-বড় বিভিন্ন গোটার আকারে ডযরঃব যবধফ বা ইষধপশ যবধফ নিয়ে দেখা দেবে।

ব্রণ হলে কি করবেন
যদি মুখে তৈল বা প্রসাধনী মাখার প্রবণতা থাকে তবে তা তাৎক্ষকিভাবে বন্ধ করে দেবেন। আপনার মুখের ত্বক তৈলাক্ত নাকি শুষ্ক তা নিশ্চিত হওয়ার পর যদি তৈলাক্ত হয় তবে ভাল কোন বিদেশী বাচ্চাদের সাবান কিংবা অমঁধমবহধ ব্রণ সাবান দিয়ে রোজ অন্তত দুইবার মুখটি ধুয়ে নেবেন। তাতে লোমের গোড়ায় তেল জমে লোমের মুখ বন্ধ হতে পারবে না। এর বাইরেও হাল্কা কুসুমগরম পানি দিয়ে ২/১ বার মুখ ধুতে পারেন। তাতে মুখের তৈলাক্ত ভাব কেটে গিয়ে মুখ বা শরীর তৈলমুক্ত হবে। এর পাশাপাশি টিপা ও খোটা বন্ধ করতে হবে। কার টিপে যে আশ বা শাঁস বের করা হয় তা বের করেও কোন লাভ হয় না। কয়েকদিন পর পরই শাঁস বা আঁশ আবার তৈরি হয়ে যায়। কাজেই খুটে -টিপে শাঁস বা আঁশ বের করলে তাতে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়।

ব্রণের প্রকারভেদ
ওহভধহঃরষব অপহব: যা বাচ্চাদেরই হতে দেখা যায়।
চৎব-সবহংঃৎঁধষ: এই ধরনের ব্রণ মেয়েদের মাসিকের পূর্বে বেড়ে যায়।
ঞৎড়ঢ়রপধষ অপহব: গ্রীষ্মকালীন দেশে যেখানে বাতাসের আর্দ্রতা বেশি সেই অঞ্চলে বেশি হয় এবং তা পিঠে ও উরুতে বেশি হয়।
অঈঘঊ ঈঙঝগঊঞওঈ : প্রসাধনীর অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে এই ব্রণ হয়ে থাকে।
অঈঘঊ ঈঙঘএখঙইঅঞঅ : এই ধরনের ব্রণ খুবই মারাত্মক হয়ে থাকে। আক্রান্ত স্থানের ত্বকে গোটা উঠে এক ভয়াবহ অবস্থায় সৃষ্টি করে যা সাধারণত বুক, পিঠ, কাঁধ এবং উরুতে হয়ে থাকে।
ঝঞঊজঙওউ অঈঘঊ: স্টেরয়েড মলম ব্যবহার ও সেবনে এই ধরনের ব্রণ দেখা দেয়।

চিকিৎসা
চিকিৎসা ব্রণের ধরন ও প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে। টেট্রাসাইক্লিন, এরিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিন খুবই নির্ভরযোগ্য ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এ ধরনের ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে হয় এবং পাশ্ব প্রতিকিয়াও আছে। তাই অবশ্যই একজন চর্ম বিশেযজ্ঞের পরামশ ক্রমে ওষুধ ব্যবহার করা উচিত। এর বাইরে কিছু বিদেশী ওষুধ এখন আমাদের দেশেই পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম একটু বেশি হলেও তা কিন্তু খুবই কার্যকরী।

ডা. দিদারুল আহসান
চর্ম-এলার্জি ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ
চেম্বার আল রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট ঢাকা।

No comments

Powered by Blogger.