তবে কি এটা হালাল? by শাহীন হাসনাত

হারাম শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত রাখা। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় অকাট্য দলিল-প্রমাণাদি দ্বারা নিষিদ্ধ বিষয়াবলিকে হারাম বলা হয়। মানবজীবনে এমন কিছু বিষয় আছে ইসলামী শরিয়তে যে সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। পক্ষান্তরে এটাও সত্য, দৈনন্দিন জীবনে আমরা এমন অনেক অবস্থা বা ঘটনারও মুখোমুখি হই যার স্পষ্ট কোনো বিধান কোরআন ও হাদিসে নেই। এ বিষয়ের সমর্থনে প্রিয় নবীর (সা.) হাদিসও রয়েছে।


হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'আল্লাহতায়ালা তদীয় কিতাবে যা যা হালাল বলেছেন তা তা হালাল আর যা যা হারাম বলেছেন তা তা হারাম। আর যেসব বিষয়ে কিছু বলেননি সেসব বিষয়ে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন।' _তিরমিজি ও ইবনে মাজা
বেশ কয়েক বছর যাবৎ ইসলামী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে নারী নেতৃত্ব বিষয়ক একটি বিতর্ক চলে আসছে। জোটকেন্দ্রিক রাজনীতির সূচনালগ্নে ছোট ছোট কয়েকটি ইসলামী দল বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে কয়েকজন এমপি নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হয়ে জোটনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক মঞ্চে ইফতার গ্রহণ, ভাষণ প্রদান, কাঙালিভোজে দোয়া ও নিয়মিত বৈঠকও করতে থাকেন। এসব নিয়ে বিতর্ক উঠলেও তাতে সেসব ইসলামী রাজনীতিক কান দেননি। তাদের অন্যতম হলেন মুফতি ফজলুল হক আমিনী। তিনি লালবাগ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, হাদিসের প্রধান শিক্ষক ও প্রধান মুফতিও বটে। সম্প্রতি তিনি আরেকটি ফতোয়া দিয়েছেন।
মানছি, তার এই বক্তব্য নিছক রাজনৈতিক। কিন্তু বক্তব্যে ইসলামী শরিয়তের অকাট্য বিধানের দিকে ইঙ্গিত করে দেওয়াটা কতটুকু শরিয়াহসম্মত হয়েছে তা বিবেচনার দাবি রাখে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামী শরিয়তে হালাল ও হারাম নির্দিষ্ট। এখন তিনি কোন বিষয়ের কারণে বা কোন মূলনীতির আলোকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হারাম বললেন তা স্পষ্ট নয়। যদি রাজনৈতিক কারণে বলে থাকেন তাহলে তার উচিত হবে অদূর ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বক্তব্যে ইসলামী পরিভাষা ব্যবহার না করা।
একজন প্রকৃত আলেম কখনও এমন কথা বলতে পারেন না। আর প্রকৃত আলেমের পরিচয় প্রসঙ্গে হাদিসে ইরশাদ হচ্ছে, হজরত সুফিয়ান সাওরি (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, হজরত উমর বিন খাত্তাব (রা.) একদিন কা'বে আহবারকে জিজ্ঞেস করলেন, প্রকৃত আলেম কারা? তিনি উত্তরে বললেন, যারা ইলম অনুযায়ী আমল করেন তারাই। হজরত উমর আবার জিজ্ঞেস করলেন, আলেমদের অন্তর থেকে ইলমকে বের করে দেয় কোন জিনিস? তিনি বললেন, (দুনিয়ার) লোভ। _দারিমি, মিশকাত
এই হাদিসের আলোকে মুহাদ্দিসরা বলেছেন, প্রকৃত আলেমকে অবশ্যই দুনিয়ার লালসা ত্যাগ করা উচিত। আর এটা কে না জানে যে, ইসলামী রাজনীতিকদের অনেকেই দুনিয়ার মোহে পড়ে ইসলামকে অবলম্বন করে রাজনীতিতে লিপ্ত। ইসলামকে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে ব্যবহার করা অবশ্যই নিন্দনীয় কাজ।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা হারাম_ এ কথা যদি তিনি নারী নেতৃত্বের প্রতি ইশারা করে বলে থাকেন, তাহলে তিনিও তো একই দোষে দুষ্ট। সুতরাং তিনিসহ তার পন্থিরা কোনো মহিলার সঙ্গে বৈঠক করলে সেটা জায়েজ ও হালাল আর অন্যরা করলে সেটা নাজায়েজ বা হারাম_ এমন দ্বিমুখী নীতি ইসলামে নেই। ইসলামে হালাল ও হারাম স্পষ্ট। এখানে ইচ্ছামতো কোনো কিছু হালাল বা হারাম ঘোষণা করার অবকাশ নেই।

No comments

Powered by Blogger.