বিশেষ সাক্ষাৎকার-আগস্ট এলে গভীর শূন্যতা অনুভব করি by রেহমান সোবহান

রেহমান সোবহানের জন্ম ১৯৩৫ সালে। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি অর্থনীতি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৭ সালে তিনি অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন।


১৯৭২-৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। রেহমান সোবহান বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি চিন্তাশালা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) প্রতিষ্ঠাতা, বর্তমানে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর পলিসি স্টাডিজের প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন, বর্তমানে তিনি এই সংস্থার বোর্ড সদস্য।
 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মশিউল আলম

প্রথম আলো  আগস্ট মাস এলে আপনার কেমন অনুভূতি হয়?
রেহমান সোবহান  একটা গভীর শোকের অনুভূতি হয়, গভীর শূন্যতার বোধ জাগে। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিনের; এবং সেই সম্পর্ক ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ। তিনি তো দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মুখ্য ভূমিকাটি পালন করেছিলেন; বাংলাদেশকে স্বাধীন-সার্বভৌম একটা রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করাতে চেয়েছিলেন। এমন একজন মানুষ, বিরাট মাপের একজন জননেতা ও রাষ্ট্রনায়ক, যাঁকে আমি চিনতাম, জানতাম বেশ ঘনিষ্ঠভাবে, তিনি যখন এ রকম একটা নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, এবং সেটা ঘটে সপরিবারে, সেটা তো একটা বিরাট শোকের ব্যাপার। আগস্ট মাস এলে আমার সেই গভীর শোকের অনুভূতিটাই ফিরে আসে। ব্যক্তিগত এই অনুভূতিটা একই সঙ্গে এক বিরাট শূন্যতার অনুভূতি বটে। কিন্তু শুধু তো তাই নয়; এমন একজন মানুষ যখন চলে যান, তখন জাতির জীবনে, রাষ্ট্রের জীবনে বিরাট এক শূন্যতা সৃষ্টি হয়; ইতিহাসের মধ্যে একটা শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
প্রথম আলো  স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নানা ব্যর্থতার কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল; রাজনীতিতেও বেশ অস্থিরতা ছিল। কিছু মানুষ মনে করে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনাটি ছিল অস্থিরতা-নৈরাজ্যের পথে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার একটা ফল। সে রকম কিছু ঘটতে যাচ্ছিল এটা আপনার প্রজন্মের কেউ কেউ এখনো বলার চেষ্টা করেন। আপনার কী মনে হয়?
রেহমান সোবহান  বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একটা ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ যে পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছিল, সেই পথ থেকে দেশটিকে সরিয়ে আনার, বিপথে পরিচালিত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যে তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল। যারা তাকে হত্যা করেছে, তারা সুপরিকল্পিতভাবে একটা ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তা করেছে। আমার দেশ এক ঐতিহাসিক পথে যাত্রা করেছে, ওই পথ থেকে বিচ্যুত করাই ছিল হত্যাকারীদের দূরভিসন্ধি। এটা কোনো অনিবার্য ব্যাপার ছিল না। একটা রাজনীতি, একটা দর্শন, একটা দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নের জন্য একটা গ্রুপ বা একটা গোষ্ঠী ওই ঘটনাটি ঘটিয়েছিল। এটা ছোটখাটো কোনো কাজ ছিল না। এটা ছিল একটা হিস্টোরিক্যাল অ্যাসাসিনেশন, ইতিহাসের নিকৃষ্টতম হত্যাকাণ্ড। খুব বড় এজেন্ডা ছিল এর পেছনে।
প্রথম আলো  তাদের সেই দূরভিসন্ধি বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল মানুষের হতাশা ও স্বপ্নভঙ্গের অনুভূতিকে ব্যবহার করে...।
রেহমান সোবহান  মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ছিল বিরাট এক স্বপ্ন। তার সঙ্গে জনসাধারণের প্রত্যাশাও ছিল আকাশচুম্বি। আবার যুদ্ধবিধ্বস্ত নতুন রাষ্ট্রটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও ছিল বিরাট। এ রকম ক্ষেত্রে স্বল্প সময়ে মানুষের প্রত্যাশার পূরণ ঘটে না, ফলে হতাশা দেখা দেয়। অনেক দেশেই এ রকম ঘটেছে; ভারত, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে তাকালে আমরা তা দেখতে পাব। বঙ্গবন্ধু নিজেও দেখতে পাচ্ছিলেন যে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু হচ্ছে না, জনগণের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছিল। সে সময়ে রাজনীতিতে সক্রিয় বিভিন্ন শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতিগঠনের প্রক্রিয়ায় শামিল করা খুব কঠিন ছিল। বরং উল্টো দিকে তাঁর সরকারের মধ্যেই বিভক্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা ছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেটার কিছু ফলও হয়েছে...।
প্রথম আলো  সেই সময়ের দেশ পরিচালনার ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণের কিছু আছে কি না, বিশেষ করে সুশাসন বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মৌলিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে?
রেহমান সোবহান  যেভাবে চলেছে, তার চেয়ে ভালোভাবে চালানোর সুযোগ নিশ্চয়ই ছিল। সেটা ছিল পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যাপার; পুরোনো ধারাবাহিকতা ছিল, মানসিকতার বিষয় ছিল, রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিষয়গুলো ছিল, যা রাতারাতি পরিবর্তিত হয় না। সুশাসন বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারই তো ছিল মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই লক্ষ্যেই; আমরা যে সংবিধান রচনা করেছিলাম তাতে সেই দিকনির্দেশনাই ছিল। কিন্তু সংবিধান বা আইন রচনা করা এক বিষয়, আর রাষ্ট্রযন্ত্রের মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি, কার্যসম্পাদনের সংস্কৃতি অন্য বিষয়। প্রথমটি ছিল নতুন, আমাদের স্বপ্ন দিয়ে গড়া। দ্বিতীয়টি ছিল পুরোনো, তাতে ছিল উত্তরাধিকারের অনেক জঞ্জাল।
প্রথম আলো  দেশে এখন সংবিধান সংশোধন করে বাহাত্তরের আদি সংবিধানে ফেরার একটা প্রক্রিয়া চলছে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক তর্কবিতর্ক হচ্ছে। এ বিষয়ে আপনি কী বলেন? বাহাত্তরের সংবিধানে ফেরা কি আসলেই সম্ভব? বা এখন, প্রায় ৪০ বছরের মাথায় সেটার কোনো প্রয়োজন আছে কি না?
রেহমান সোবহান  বাহাত্তরের সংবিধানের পেছনে যে ইতিহাস ছিল, যে দর্শন ছিল, যে চেতনা ছিল, তা বাংলাদেশের অবজেকটিভ কন্ডিশন বা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। এটা তো আকাশ থেকে আসেনি। একটা ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, অনেক চিন্তাভাবনা করে, অনেক আলোচনা, তর্কবিতর্কের মাধ্যমে বাহাত্তরের সংবিধান দাঁড় করানো হয়েছিল। অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ একটা দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, যেখানে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মের ব্যবহার থাকবে না। এটা ছিল বাহাত্তরের সংবিধানের অন্যতম কেন্দ্রীয় উদ্দেশ্য। বিভিন্ন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্ম পালন করবে, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোনো গোষ্ঠী বা দল ধর্মকে ব্যবহার করতে পারবে না। যে উদ্দেশ্যগুলো সামনে রেখে স্বাধীনতাযুদ্ধ হয়েছিল, ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছিল, এই ধর্মনিরপেক্ষতার দর্শন ছিল সেগুলোর অন্যতম। এবং আমরা এই উপলব্ধিতে পৌঁছেছিলাম একটা ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই। দেশটাকে অসাম্প্রদায়িক ভিত্তির ওপরে দাঁড় করানোর স্বপ্ন ওই সময়ের অবজেকটিভ কন্ডিশন বা বাস্তব পরিস্থিতি থেকেই জন্ম নিয়েছিল।
প্রথম আলো  সেই পরিস্থিতি কি এখনো আছে?
রেহমান সোবহান  নিশ্চয়ই আছে, তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ধর্মের কথা বলে গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা তো বন্ধ হয়নি। কিন্তু সেই সুযোগ রাখার জন্য তো আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি, এত মানুষ প্রাণ বিসর্জন দেয়নি। ওই সুযোগ বন্ধ করার জন্যই আমাদের সংবিধানের মূলনীতির মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষতা যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই সংবিধানে রদবদল করে আদি সংবিধানের সেই নীতিটি বিলোপ করা হয়েছে। এখন আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রণীত বাহাত্তরের মূল সংবিধানে ফিরে যেতে চাই, তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতা আবার যুক্ত করার মধ্যে কোনো সমস্যা বা অসুবিধা তো আমি দেখি না। মূল বিষয়টি হলো, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। এটাই হলো ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির মূল চেতনা। এই চেতনার ধারায় যদি আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি পুনপ্রবর্তন প্রয়োজন। এটাই হলো মূল কথা। বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যাওয়ার অর্থ ওই সংবিধানের মূল চেতনায় ফিরে যাওয়া। কী শব্দ বা আইনি বাক্যাংশ ব্যবহার করা হলো সেটা গৌণ বিষয়।
প্রথম আলো: বাহাত্তরের সংবিধানের আরেকটি মূলনীতি ছিল সমাজতন্ত্র। এখন কি সমাজতন্ত্রে ফেরার চিন্তা বাস্তবসম্মত?
রেহমান সোবহান: সমাজতন্ত্র বলতে বোঝানো হয়েছিল সোশ্যাল জাস্টিস বা সামাজিক ন্যায়বিচার। এটাও ছিল স্বাধীনতার আরেক বড় লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল এই দেশে শ্রেণীতে শ্রেণীতে বিভেদ থাকবে না, কোনো বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণী থাকবে না। শ্রম ও মেধার ভিত্তিতে সবাই কাজ করার সুযোগ পাবে। এর জন্য এই দেশের মানুষ যুদ্ধ করেছে, অনেক রক্ত দিয়েছে; লক্ষ্য ছিল সব মানুষ রাষ্ট্রের কাছে সমান গুরুত্ব ও অধিকার পাবে। কিন্তু সেই নীতিটা বাদ দেওয়া হয়েছে, এখন একটা সুবিধাভোগী শ্রেণী দাঁড়িয়ে গেছে। ধনী-গরিবে বৈষম্য অনেক বেড়েছে। অর্থাৎ সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন আমাদের স্বাধীনতার চেতনার মধ্যে ছিল, তার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সেই স্বপ্ন আজও প্রাসঙ্গিক, বরং আগের চেয়ে বেশিই প্রাসঙ্গিক। তাই বাহাত্তরের আদি সংবিধানের এই অন্যতম মূলনীতিকে আমাদের চিন্তাভাবনা, রাষ্ট্রীয় নীতি ও দর্শনে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আমি কোনো সমস্যা দেখি না।
প্রথম আলো  বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে গেলেই স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হবে, বা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ হবে এমন কথা বলা যায় না। সেই সংবিধানের নীতিগুলোর বাস্তবায়ন, জনগণের জীবনে তার প্রতিফলন না ঘটলে সংবিধান তো একটা কাগুজে দলিল হিসেবেই থেকে যাবে। প্রশ্ন হচ্ছে কীভাবে নীতিগুলোর বাস্তবায়ন করা যায়?
রেহমান সোবহান  আমাদের একটু বোঝার চেষ্টা করতে হবে, বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের রাজনৈতিক লড়াই-সংগ্রামের উদ্দেশ্য কী ছিল। তিনি ছিলেন মাঠের মানুষ, জনগণের কাতারের মানুষ। সারা জীবন তাঁর কেটেছে সাধারণ জনতার সঙ্গে। এখন আমি, আমার রাজনীতি যদি জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তাহলে আমার সমস্যা হবে, আমার দেশের সমস্যা হবে, জনগণের সমস্যা হবে। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা ছিল, তিনি দেশে যে পরিবর্তন আনতে চান তা যুক্ত থাকবে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও আশা-প্রত্যাশার সঙ্গে। তিনি তো ধনী ঘরের সন্তান ছিলেন না; ধনী লোকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল না। এখনকার বাংলাদেশের রাজনীতি যে পথে চলে গেছে, সেখানে একটা এলিট, বিশেষ সুবিধাভোগী গোষ্ঠী সৃষ্টি হয়েছে, যেমনটা পাকিস্তানে ছিল। বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের সংগ্রাম, তাঁর চিন্তভাবনা ও দর্শনের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। বরং তিনি এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।
প্রথম আলো  আওয়ামী লীগসহ এ দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দল এখন সেখান থেকে অনেক দূরে এসেছে?
রেহমান সোবহান  রাজনীতিতে এখন অনেক টাকা-পয়সার ব্যাপার চলে এসেছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সময় এ রকম ছিল না। তাঁর সঙ্গে তাঁর দলের যেসব নেতা ছিলেন, যাঁরা নির্বাচনে প্রার্থী হতেন, তাঁদের অত টাকা-পয়সা ছিল না। তাঁরা ছিলেন সাধারণ ঘরের সন্তান। বঙ্গবন্ধুর সময়ে এমনটা ছিল না যে টাকা-পয়সাওয়ালা লোকেরাই কেবল দলের পদ পাবেন, নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন, দলে তাঁদেরই কর্তৃত্ব চলবে। বঙ্গবন্ধুর কল্পনার মধ্যে এমনটা ছিল না। এখন যদি বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতে হয়, তাহলে ওই সংবিধানের মূল বিষয়গুলোর কথা ভাবতে হবে; রাষ্ট্রীয় নীতি-কর্মসূচিতে সেগুলো আনতে হবে, বাস্তবায়ন করে তার সুফল জনগণের জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে। না-হলে শুধু শব্দবন্ধ আর বাক্যাংশ বদল করে কোনো লাভ হবে না। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শুধু কথার কথা ছিল না, এ নিয়ে ভালো ভালো কথা বলে তো লাভ নেই। তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে রাজনীতিকে তাঁর আদর্শ, তাঁর দর্শনের ধারায় ফিরিয়ে নিতে হবে। সবকিছু করতে হবে জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য; সবকিছুর কেন্দ্রে রাখতে হবে সাধারণ মানুষকে।
প্রথম আলো  আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
রেহমান সোবহান  আপনাকেও ধন্যবাদ।

No comments

Powered by Blogger.