একটি উত্তম সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তিনি যে সত্যিই একজন উদারমনা গণতান্ত্রিক নেত্রী, সে কথারই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর ঘোষণায়। জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করে তিনি বলেছেন, মুন্সীগঞ্জের মানুষ না চাইলে আড়িয়াল বিলে বিমানবন্দর হবে না। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেও


তিনি মন্তব্য করেন। গণতন্ত্র তথা জনগণের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে একজন প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের কথা বলতে পারেন না। অতীতে এমন উদাহরণ নেই। বরং জনগণকে পিটিয়ে তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে জমিদখলের সংস্কৃতিই আমরা দেখে এসেছি।
মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিল সরকারের খাসজমি। যত দূর জানা যায়, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক বছরের পর বছর অন্যায়ভাবে এসব জমি ভোগদখল করে আসছে। তারা আমন মৌসুমে এসব জমি বর্গা দিয়ে বছরে হাজার হাজার মণ ধান-চালের মালিক হয়। গরিব মানুষের স্বার্থ এ বিলে খুব কমই আছে। বিলের ভেতরে যেসব গভীর খাদ বা ড্যাঙ্গা আছে, সেগুলোও ভোগদখল করে ওই প্রভাবশালীরা। অন্যান্য অংশ শীতকালে শুকিয়ে যায়। তাই গরিব মানুষের মাছ ধরার সুযোগও সেখানে সীমিত। কাজেই সরকার সেখানে খাসজমি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দখল করতেই পারত। কিন্তু তার পরও সরকার জনমতের প্রতি যে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তবে এসব জমির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা হওয়াও প্রয়োজন। শীতে শুকিয়ে যায় বলে সেখানে আমন ধান খুবই ভালো হয়। কিছুসংখ্যক প্রভাবশালীর উদর আর স্ফীত না করে এ জমি আশপাশের গরিব মানুষের মধ্যে লিজ দেওয়া যেতে পারে। ড্যাঙ্গাগুলো সমবায়ের মাধ্যমে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে লিজ দেওয়া যেতে পারে। তাতে জলাধারের বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন থাকবে, পাশাপাশি এলাকার গরিব মানুষ উপকৃত হবে।
প্রতিরোধ আন্দোলন মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনী যে অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে_তাও অতুলনীয়। প্রতিরোধকারীদের একাংশ পুলিশ ফাঁড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। তাদের আক্রমণে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। তার পরও পুলিশ তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করেনি। তাদের এ ধৈর্য সত্যিই প্রশংসনীয়। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, খাসজমি দখলকারীরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে কিংবা ভুল বুঝিয়ে স্থানীয় জনতাকে বিক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। কিন্তু সেই বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের ওপর আক্রমণ করেনি। তারা কখনো এমন কাজ করতে পারে না। প্রভাবশালীদেরই কিছু ভাড়াটে সন্ত্রাসী হামলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে কিছু যুবককে চায়নিজ কুড়ালসহ বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র হাতে দেখা গেছে। পুলিশ হত্যার জন্য এদের এবং পশ্চাতে থাকা নাটের গুরুদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা উচিত। অযথা ২৫ হাজার লোককে আসামি করা হলেও সাধারণ মানুষ যাতে কোনোভাবেই হয়রানির শিকার না হয়, সে ব্যাপারে সরকারকে সচেতন থাকতে হবে। দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনে যদি অবকাঠামো নির্মাণ করতে হয়, বিমানবন্দর হোক আর বিদ্যুৎ প্রকল্প হোক_তার এমন বিরোধিতা কাঙ্ক্ষিত নয়। বিরোধিতার সংগত কারণ থাকলে তার প্রতি সরকারকে আগেই সুবিবেচনাপ্রসূত দৃষ্টি দিতে হবে। আর রাজনৈতিক স্বার্থে এসবের বিরোধিতা করা তো রীতিমতো নিন্দনীয়। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হয় এমন বিরোধিতা থেকে সব মহলই বিরত থাকবে।

No comments

Powered by Blogger.