মেধাবীদের মূল্যায়ন হোক

রাষ্ট্রের কর্মী নিয়োগপ্রত্যাশী বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে বিভিন্ন কারণে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। তাঁদের এ ক্ষোভের অন্যতম কারণ পদ্ধতিগত বিষয়। তার পাশাপাশি আছে কিছু সিদ্ধান্তগত বিষয়, যা রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাধান হওয়া প্রয়োজন। এ সবই যুগের প্রয়োজনে পরিবর্তনযোগ্য।


এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে মেধাভিত্তিক নিয়োগ প্রদানের বিষয়টি। বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিভিন্ন কোটায় নিয়োগের পর মেধার ওপর ভিত্তি করে নিয়োগ লাভ করতে পারেন অল্পসংখ্যক চাকরিপ্রার্থী। বর্তমানে বিসিএস ক্যাডারসহ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ননক্যাডার সার্ভিসে মেধা কোটা মাত্র ৪৫ শতাংশ। বাকি ৫৫ শতাংশই কোটাভিত্তিক। এ বিধানকে বিশেষজ্ঞরা অস্বাভাবিক বলে গণ্য করেছেন। এমনকি এটাকে অসাংবিধানিক বলতেও কুণ্ঠিত হননি কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ। বেশির ভাগই কোটায় চলে গেলে প্রশাসনে মেধাবীরা সংখ্যালঘু হয়ে পড়বেন। সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক এ কাজ করছে স্বয়ং রাষ্ট্র। এমতাবস্থায় বিসিএস পরীক্ষার জন্য কিছু সুপারিশ প্রণীত হয়েছে সম্প্রতি। সংগত কারণেই বিসিএস পরীক্ষার্থী এবং আগামীতে যাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেবেন তাঁদের দৃষ্টি এদিকে নিবন্ধিত হয়েছে। স্থানিক কোটা পুনর্বিন্যাসের কথাও বলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জেলাভিত্তিক কোটা না করে বিভাগভিত্তিক করা গেলে হয়তো আরো ভালো হতে পারে।
পরীক্ষায় দুর্নীতির বিষয় নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। দুর্নীতির মাধ্যমে অনেক দুর্বল ছাত্রও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগটি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেলে তার পুরো দায়ভার সরকারের ওপরই বর্তাবে। কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়ে যায় মেধাবীদের। একদিকে বিভিন্ন কোটার কারণে মেধাবীরা পিছিয়ে পড়ছেন; অন্যদিকে দুর্নীতিও যদি কর্মকমিশনের ভেতরে দানা বেঁধে ওঠে তাহলে মেধাবীদের দুর্গতির সীমা থাকবে না।
সরকারি কর্মকমিশনের ২০১০ প্রতিবেদনে উপস্থাপিত সুপারিশগুলোর মধ্যে আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে_বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে যদি আরেকটি পরীক্ষা এসে যায় তাহলে আগে যাঁরা প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তাঁদের দ্বিতীয়বার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে না। এই সুপারিশ কার্যকর হলে পরীক্ষার্থীদের পরিশ্রম কমবে। পাশাপাশি পিএসসিরও কাজের ঝামেলা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সসীমা শিথিল করার যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা সমর্থনযোগ্য। তবে সামগ্রিকভাবে চাকরিলাভের বয়সসীমা সম্প্রসারণ করা যায় কি না তাও বিবেচনা করতে হবে। কারণ শিক্ষা শেষ করতে করতে অনেক শিক্ষার্থীরই চাকরি লাভের বয়স থাকে না। বিশেষ করে পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে যে সেশনজট পড়েছে তা থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তাঁরা। আর সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে আসতে সময় লেগে যায় অনেক। সবার ওপরে যে বিষয়কে স্থান দিতে হবে তা হচ্ছে দুর্নীতিমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা। তা না হলে যত সুপারিশই প্রণয়ন করা হোক না কেন, প্রকৃত মেধাবীদের সেবা থেকে দেশ বঞ্চিত হবে।

No comments

Powered by Blogger.