ভর্তিতে অতিরিক্ত ফি-ফেরতের সিদ্ধান্ত আছে, বাস্তবায়ন নেই by মোশতাক আহমেদ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় চলতি শিক্ষাবর্ষে বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির সময় নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত বা মাসিক বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিলেও বিদ্যালয়গুলো তা মানছে না। অভিযুক্ত বিদ্যালয়গুলো এ বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগই নেয়নি। আদৌ বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েই এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।


এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বলছেন, অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কেবল সিদ্ধান্ত দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ১৫ দিন হয়ে গেলেও এর কোনো বাস্তবায়ন নেই।
এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘অতিরিক্ত টাকা ফেরত বা সমন্বয় করার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরও জোরালো ভূমিকা আশা করছি। আর যদি কিছুই না হয়, তাহলে আদালতই হবে শেষ আশ্রয়স্থল।’
অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রাশেদা কে চৌধূরী হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে গত ৯ জানুয়ারি আদালত নীতিমালার বাইরে বাড়তি অর্থ আদায়ের ঘটনা তদন্ত করে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
শিক্ষাসচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘ভর্তিতে নেওয়া অতিরিক্ত টাকা ফেরত বা বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে কি না, তা কিছুদিনের মধ্যেই আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
বেশি টাকা নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর মনিপুর স্কুল ও কলেজ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। সরকারের করা তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বেতন ছাড়াই এ বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তিতে অনুদানসহ ২৪ হাজার ৮০০ টাকা নেওয়া হয়।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কেন বেশি টাকা নিচ্ছি, তার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। যদি আমাদের ব্যাখ্যা গ্রহণ না করা হয়, তবে আমরা অতিরিক্ত টাকা বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে নেব।’ এই বিদ্যালয়ে ইংরেজি সংস্করণে বেতন ছাড়া ১৩ হাজার ৩০০ (ইংরেজি) ও বাংলা মাধ্যমে ১১ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়।
মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুগদা শাখায় অনুদানের ভর্তিতে নেওয়া হয় দুই লাখ ১১ হাজার ৯০০ টাকা, মেধা কোটায় ৩১ হাজার ৯০০ টাকা। আর মতিঝিলে বাংলা মাধ্যমে ১৭ হাজার ৯০০ ও ইংরেজি সংস্করণে ১১ হাজার ৯০০ (বেতন ছাড়া) টাকা। প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সদস্য গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, পরিচালনা কমিটির আগামী সভায় বিষয়টি আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন সরকার বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তও না। তবু যেহেতু বিষয়টি (ভর্তিতে বেশি টাকা ফেরত বা সমন্বয়) আলোচনায় উঠেছে, তাই আমরা পরিচালনা কমিটির সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেব।’
ভর্তিতে বাড়তি টাকা নেওয়া অন্য বিদ্যালয়গুলো হলো: শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ, মিরপুর বাংলা উচ্চবিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা হাইস্কুল, ওয়াইডব্লিউসিএ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। কিন্তু এই বিদ্যালয়গুলোও বেশি টাকা ফেরত বা সমন্বয়ের কোনো বাস্তবায়ন নেই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক) এ এস মাহমুদ বলেন, ‘কোনো কোনো বিদ্যালয় ভর্তির সময় দুই মাসের বেতনও নিয়েছে, তাই আমরা চলতি মাস দেখে আগামী মাসের বেতন নেওয়ার সময় অতিরিক্ত টাকা ফেরত বা সমন্বয় করা হলো কি না, তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

No comments

Powered by Blogger.