দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে-বিসিএস প্রশ্নপত্রে ভুল

৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে ভুল নিয়ে যে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল, তার সমাধান মিলেছে হাইকোর্টের রায়ে। প্রশ্নপত্রে ভুলের কারণে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে দিকটি বিবেচনায় নিয়েই যথাযথ নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত প্রশ্নপত্রের ভুল সম্পর্কে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যার জন্য বিজি প্রেসের তদন্ত কমিটির সদস্যদের আদালতে হাজির হতে বলেছেন।


আদালতের এই নির্দেশকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া প্রয়োজন। বিসিএসের মতো পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কেন এ ধরনের ভুল হলো, তা খুঁজে বের করা খুবই জরুরি।
গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত ৩০তম বিসিএসের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের ২ নম্বর সেটে ১১টি ভুল প্রশ্ন ছাপা হয়। এতগুলো ভুল প্রশ্ন ছাপা হওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন অবস্থায় পরীক্ষা বাতিলের দাবি জানিয়ে ১৯ জন পরীক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করলে শুনানি শেষে আদালত গত রোববার ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া সব পরীক্ষার্থীকে ১১ নম্বর দেওয়ার আদেশ দেন। আমরা মনে করি, আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে ভুল প্রশ্নের কারণে পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দূর হয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্যাডার সার্ভিসে লোক নিয়োগ করা হয়ে থাকে। এই পরীক্ষার গুরুত্বের বিষয়টি সহজেই অনুমেয়। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) এই পরীক্ষা অনুষ্ঠানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ১১টি ভুল প্রশ্নের বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গুরুতর খামখেয়ালি ও দায়িত্বহীনতা ছাড়া এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। যার সব দায়দায়িত্ব পিএসসিকেই বহন করতে হবে।
আমরা মনে করি, প্রশ্নপত্রে এই ভুলের বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের রায় মেনে ১১টি ভুল প্রশ্নের কারণে ১১ নম্বর দিয়ে দিলেই পিএসসি দায় মুক্ত হবে, বিষয়টি এমন নয়। কারণ বিষয়টিকে শুধু ৩০তম বিসিএসের প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষার আলোকে বিবেচনা করলে হবে না। এ ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিতে পারলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকে যাবে। আমরা আশা করব, যাদের কারণে প্রশ্নপত্রে এই ভুলের ঘটনা ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিএসসি তার মানমর্যাদা বজায় রাখবে। এ ক্ষেত্রে কারও প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন বা কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

No comments

Powered by Blogger.