ধরপাকড় ও পরিবহন বন্ধ কার স্বার্থে?-জনদুর্ভোগের রাজনীতি

নানা সংশয় ও উৎকণ্ঠার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃপক্ষ ১১ জুন বিরোধী দল আহূত গণসমাবেশ করার অনুমতি দেওয়ায় ধারণা করা গিয়েছিল, সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে; কোনো অঘটন ঘটবে না। কিন্তু সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হলেও তার আগে দেশজুড়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় মূলত সরকার তথা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়াবাড়ির কারণে।


সমাবেশের আগের দিন বিরোধী দলের একজন নেতার মুখে ১৫ লাখ লোক জড়ো করার ঘোষণা এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ধরপাকড় ও যানবাহন চলাচলে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জনমনে উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে দেয়। নয়াপল্টনে বিএনপির অফিসের সামনে যে রাস্তায় বিরোধী দল সমাবেশ ডেকেছে, সেখানে ১৫ লাখ কেন, এক লাখ লোকের সংকুলান হওয়াও কঠিন বটে।
আমরা বরাবরই রাস্তা বন্ধ করে সভা-সমাবেশ করার বিরোধী। এ ধরনের সমাবেশ কেবল জনদুর্ভোগই বাড়ায় না, নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল করে দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক যে এই মহানগরে জনসমাবেশ করার কোনো জায়গা নেই। ফলে রাস্তা বন্ধ করে যেখানেই সমাবেশ হোক না কেন, নগরবাসী ভোগান্তিতে পড়ে। আর সেই ভোগান্তিটা অসহনীয় হয়ে পড়ে যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। রোববার বিকেল থেকেই ঢাকা মহানগরে গণপরিবহনের সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় যাত্রীরা বিপাকে পড়ে।
ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে ‘অঘোষিত হরতাল’ পালিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইঙ্গিতে। ঢাকার সদরঘাটে শ্রমিক লীগ নামধারীদের মহড়া আমাদের মার্চের কথাই মনে করিয়ে দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা। সেখানে যানবাহন চলাচলে তাদের বাধা দেওয়া বা ভয়ভীতি দেখানো কেবল অনৈতিকই নয়, বেআইনিও। প্রতিদিন ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক ও দাপ্তরিক কাজে হাজার হাজার মানুষ ঢাকায় আসে। তাদের চলাচল বন্ধের অধিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কে দিয়েছে? এই ধরপাকড় ও যানবাহন চলাচল বন্ধ কার স্বার্থে?
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে পাকড়াও করেছে। অভিযোগ, তাঁরা নাকি নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁদের এই অভিযোগের পক্ষে শক্ত কোনো প্রমাণ আছে কি? প্রতিবারই বিরোধী দলের সমাবেশ বা অন্য কোনো কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের ‘গ্রেপ্তারবাণিজ্য’ চলে। এটি অবশ্যই বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঢাকায় সভা-সমাবেশের নামে সারা দেশ থেকে মানুষ জড়ো করারও কোনো যুক্তি নেই।
তাই আমরা সরকার ও বিরোধী দলের কাছে আহ্বান জানাব রাস্তায় শক্তি পরীক্ষা করে জনদুর্ভোগ না বাড়াতে। নির্বাচনকালীন সরকারের পদ্ধতি কী হবে, সেটা আলোচনা করে ঠিক করুন। বর্তমানে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলছে। বিরোধী দল সেখানে গিয়ে তাদের প্রস্তাব দিতে পারে। আলোচনা হতে পারে সংসদের বাইরেও। কোনো পূর্বশর্ত নয়, খোলামন নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনায় বসলে একটি সমাধান বেরিয়ে আসা অসম্ভব নয়।

No comments

Powered by Blogger.