আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস-কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য রক্ষা by তামান্না ইসলাম অলি

পরিবার_কথাটি শুনলেই আমাদের বাঙালি মানসে যে ছবিটি ভেসে ওঠে, সেখানে থাকেন দাদা-দাদি, মা-বাবা, ভাইবোনসহ আরো অনেকে। শুধু বাঙালি নয়, অন্য অনেক জাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও পরিবারের রূপ প্রায় একই রকম। কিন্তু আধুনিক সমাজে পরিবারের সেই রূপটি ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে। দিন দিন কমে যাচ্ছে যৌথ পরিবার।


বাড়ছে ছোট একক পরিবার কিংবা পরিবার-বিচ্ছিন্নতা। কখনো ইচ্ছা করে, কখনো কাজের প্রয়োজনে মানুষকে ছাড়তে হচ্ছে পরিবার, যা কোনো দিক থেকেই কাম্য নয়। আজ ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। পরিবারের সদস্যদের বন্ধন দৃঢ় করতে সারা বিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় এ দিবসটি উদ্যাপন করা হবে, উদ্যাপন করা হবে বাংলাদেশেও। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, 'কাজ ও পরিবারের ভারসাম্য নিশ্চিত করা'।
পরিবার একজন মানুষের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ স্কুল। এখান থেকেই মানুষ প্রথম শিক্ষা পায়। পারিবারিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহমর্মিতা থাকলেও যৌথ পরিবার থেকে একজন মানুষ সর্বোচ্চ সুবিধা ভোগ করতে পারে। কিন্তু আজ নানা কারণে ভেঙে যাচ্ছে সেই প্রথম বিদ্যাপীঠ, তথা যৌথ পরিবার। পরিবার ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে যাচ্ছে পারিবারিক শিক্ষা এবং আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য।
ঘটা করে পরিবার দিবস পালন শুরুর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। শিল্প বিপ্লবের পর পশ্চিমাদের মধ্যে পরিবারের প্রতি অনাগ্রহ দেখা দেয়। আর এ অনীহার কারণে পরিবারিক বন্ধনে দেখা দেয় অস্থিতিশীলতা। বাড়তে থাকে বিবাহবিচ্ছেদসহ নানা সামাজিক সমস্যা, যার প্রধান শিকার হয় শিশুরা। অনেক শিশুই বাবার পরিচয় ছাড়া বড় হতে থাকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ১৯৯৩ সালে পরিবার দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। পারিবারিক বন্ধন টিকিয়ে রাখা এবং পরিবারকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টিই ছিল এ দিবস পালনের প্রধান উদ্দেশ্য। বাংলাদেশেও দিবসটি উদ্যাপন করা হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ ধরনের দিবস পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ায়। এক দিনের জন্য পরিবারের সদস্যদের এক করতে পারে। তাঁরা আরো মনে করেন, সামাজিক উন্নয়নে পরিবারের রয়েছে বিশেষ ভূমিকা। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে দিবসটি উদ্যাপন করা জরুরি।
বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব পরিবারে শান্তি বিনষ্ট হয়, সেসব পরিবারের ছেলেমেয়েদের বিকাশ নানাভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তারা অপরাধ কিংবা সমাজবিরোধী কাজে বেশি সংখ্যায় জড়িত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিটি শিশুকে শুরু থেকেই দিতে হবে তার বাসযোগ্য পরিবেশ। তাকে আদর-ভালোবাসার মধ্যে গড়ে তুলতে হবে। আনন্দময় শৈশব দিতে হবে। দ্বন্দ্ব-সংঘাত, রাগ বা নিষ্ঠুরতা থেকে তাকে দূরে রাখতে হবে। আর তা তখনই সম্ভব, যখন পরিবারটি হবে সুস্থ ও শান্তিপূর্ণ।
তামান্না ইসলাম অলি

No comments

Powered by Blogger.