এই অবস্থা শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার সহায়ক নয়-বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশের ৩১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর গড় অনুপাতে যে বিরাট বৈষম্যের কথা জানা গেছে, তা মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। ইউজিসির তথ্যমতে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর গড় অনুপাত ১:১৪৯।


এই অনুপাত শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে অনুকূল নয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষক যথাযথ মনোযোগ দিতে পারেন না।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আদর্শ অনুপাত না থাকাকে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মানের ক্রমাবনতির অন্যতম কারণ। ইউজিসি ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রায়ই বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান পদে শূন্যতা ও প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষকের পদ না থাকা, নতুন পদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে জটিলতা—সর্বোপরি অতিরিক্ত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যায় না। তাহলে বুঝতে হবে, শিক্ষার্থীর অনুপাতে শিক্ষকের এই নিদারুণ ঘাটতি উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের চরম উদাসীনতারই এক নজির।
আবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতে বিপুল তারতম্যও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে বড় ব্যবধান গড়ে দেয়। এটা সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রে একটি সাধারণ মান প্রতিষ্ঠায় অন্যতম প্রতিবন্ধক। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আমাদের গবেষণার দৈন্যের অন্যতম কারণও প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষক না থাকা। আরেকটি ব্যাপারেও দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। ইউজিসির প্রতিবেদনে যে অনুপাত উঠে এসেছে, তা বাস্তব অনুপাতের কম হওয়াই সম্ভব। কেননা, বহু শিক্ষক শিক্ষাছুটিসহ নানা ধরনের ছুটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে অবস্থান করেন। আর বহু শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিভিন্ন সংস্থায় উপদেশ দিয়ে বেড়ান কিংবা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সময় দেন। এর বাইরে কেউ কেউ অননুমোদিত ছুটিতেও আছেন। ফলে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার অবস্থা সামগ্রিকভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি আরেকটি চিত্র আছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যাচ্ছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত ১:২। এটিও কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ ধরনের অসামঞ্জস্যতা কোনোভাবেই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সহায়ক নয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের এই আসমান-জমিন বেশকমের পেছনে যদি অর্থবণ্টনের তারতম্য থেকে থাকে, তা হলে এ বিষয়টি ইউজিসি ও সরকারের গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় আনা দরকার।

No comments

Powered by Blogger.