কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে হবে-বোরোর বাড়তি উৎপাদন খরচ

বোরো ধানের উৎপাদন খরচ বাড়বে কিছু বাস্তব কারণে। ডিজেল ও ইউরিয়া সারের দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়বে বোরো উৎপাদনের ওপর। অন্যদিকে গত বছর আর এ বছরের বাজারপ্রবণতায় দেখা যাচ্ছে, ধানের মণপ্রতি দাম আগের তুলনায় কমেছে।


এই পরিস্থিতিতে এমন কিছু উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে, যাতে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া ও কৃষকের ন্যায্য দাম পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়।
গত মৌসুমের তুলনায় এবার সেচের জন্য দরকারি ডিজেল ও ইউরিয়া সারের দাম যে পরিমাণ বেড়েছে, তাতে কেজিপ্রতি বোরোর উৎপাদন খরচ দেড় টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে মণপ্রতি উৎপাদন খরচ বাড়বে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। উৎপাদন খরচ বাড়লেও ধানের দামের পড়তির দিকটি গত মৌসুম থেকে লক্ষণীয় হয়ে উঠেছে। প্রতি মণ ধানের দাম যেখানে ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, সেখানে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। এর সঙ্গে আছে ধান কাটার মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অর্থাৎ এপ্রিলের দিকে দাম মণপ্রতি আরও ১০০ থেকে ২০০ টাকা কমে যাওয়ার আশঙ্কা। এ বছর আলু চাষ করে কৃষক একদফা লোকসানের মুখে পড়েছেন। এখন বোরো চাষ করে যদি ন্যায্য দাম না পান, লোকসান গুনতে হয়, তবে এমনিতেই চাপের মুখে থাকা কৃষকের অবস্থা আরও সঙ্গিন হয়ে পড়বে।
এই বাস্তবতায় বোরোর উৎপাদন খরচের বিষয়টি হিসাব করে আগাম সংগ্রহ মূল্য নির্ধারণের বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। কৃষকদের কাছ থেকে সরকার যাতে তা সরাসরি কিনতে পারে, সে ব্যাপারেও জোর দিয়েছেন অনেকে। অতীতে আমরা দেখেছি, এ ধরনের ক্ষেত্রে কৃষক লাভবান না হলেও এর সুফল ভোগ করেছে চালকলগুলোর মালিক বা সিন্ডিকেট। সব ক্ষেত্রে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান-চাল সংগ্রহ করা না গেলেও কৃষক যাতে দাম পান এবং চালকলগুলো যাতে শুধু প্রয়োজনীয় লাভটুকুই করে, সেটা নিশ্চিত করার জন্যও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক বাজারে যেহেতু খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তির দিকে, সেখানে আমাদের দেশের কৃষকেরা ফসল উৎপাদন করে লোকসানের শিকার হবেন, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে গত বছর সরকার ২৮ লাখ টন খাদ্য সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে মাত্র আট লাখ টন সংগ্রহ করা হয়েছিল অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে। বাকি খাদ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল উচ্চমূল্যে ও বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে। সরকারি খাদ্য সংগ্রহের পুরোটা অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে সংগ্রহ করা গেলে কৃষক যেমন তাঁর উৎপাদিত ফসলের দাম পাবেন, তেমনি সরকারকেও বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করে খাদ্য কিনতে হবে না।
এই সামগ্রিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে আগামী এপ্রিলে ধান কাটার মৌসুম শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। আমরা আশা করব, সরকার কৃষকের স্বার্থের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই জরুরি ভিত্তিতে গ্রহণ করবে।

No comments

Powered by Blogger.