মাইক্রোবাসটির প্রকৃত মালিকের হদিস মেলেনি এক মাসেও

পুলিশের হেফাজতে থাকা সেই মাইক্রোবাসটি এখনো ব্যবহার করছেন সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম মোল্লা। ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় বিক্ষুব্ধ জনতার হাতে ভাঙচুর হওয়া গাড়িটি উদ্ধারের পর গত এক মাসেও তিনি প্রকৃত মালিকের হদিস করতে পারেননি।


এদিকে ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঢাকা-মেট্রো-চ-৫৩-৩২৩৭ নম্বরটি তাদের ব্যবহূত যানবাহনের হলেও সাভার থানা-পুলিশের হেফাজতে থাকা গাড়ির মালিক তারা নয়।
উদ্ধার করা মাইক্রোবাসটি (ঢাকা-মেট্রো-চ-৫৩-৩২৩৭) দিয়ে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ছিনতাই করার সময় স্থানীয় ব্যক্তিদের তাড়া খেয়ে ছিনতাইকারীরা গাড়িটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়ে গাড়িটির পেছনের ও পাশের গ্লাস ভেঙে ফেলে। খবর পেয়ে সাভার থানার এসআই শহীদুল ইসলাম মোল্লা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। গাড়িটি থানায় নেওয়ার কয়েক দিন পর মেরামত করে তা ব্যবহার করছেন তিনি।
অথচ নিয়মানুযায়ী মামলার আলামত হিসেবে আটক করা যানবাহনের আকার পরিবর্তন বা মেরামত করা পুলিশের কাজ নয়। এমনকি আলামত হিসেবে জব্দ বা আটক করা কোনো যানবাহন থানার বাইরে নেওয়া, ব্যবহার করা এবং আদালতের নির্দেশ ছাড়া হস্তান্তর করা অপরাধ বলে জানান সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মতিউর রহমান।
এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে এই প্রতিবেদক একটি প্রতিবেদন তৈরি করেন, যা গত বুধবারের প্রথম আলোয় প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে বিআরটিএর সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, গাড়িটির মালিক ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি। কিন্তু ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি গত বুধবার এক প্রতিবাদলিপিতে তা অস্বীকার করেছে।
ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির দেওয়া প্রতিবাদে বলা হয়, ঢাকা-মেট্রো-চ-৫৩-৩২৩৭ নম্বরটি তাদের ব্যবহূত যানবাহনের হলেও সাভার থানা-পুলিশের হেফাজতে থাকা গাড়িটির মালিক তারা নয়।
সাভার থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সাভার থানা হেফাজতে থাকা মাইক্রোবাসটি ছিনতাইয়ের পর ভুয়া নম্বর (ঢাকা-মেট্রো-চ-৫৩-৩২৩৭) লাগিয়ে ব্যবহার করছিল ছিনতাইকারীরা।
এদিকে গাড়িটি নিয়ে প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পরও এসআই শহীদুল ইসলাম মোল্লা তা ব্যবহার করে চলেছেন। গত বুধবার ওই কর্মকর্তা গাড়িটি নিয়ে সাভার উপজেলা পরিষদে যান।
এ প্রসঙ্গে এসআই শহীদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, থানার মূল ভবনের সামনে থেকে গাড়িটির চাকা চুরি হয়ে গেছে। এ কারণে গাড়িটি মেরামত করে সরাসরি তাঁর হেফাজতে রেখেছেন এবং ব্যবহার করছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গাড়িটি উদ্ধারের পর সব ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। গাড়ির প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলে আদালতের নির্দেশে গাড়িটি হস্তান্তর করা হবে।

No comments

Powered by Blogger.