বারবার প্রাণহানির পরও কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?-রেলক্রসিং না মৃত্যুফাঁদ

প্রাণহানি দিয়ে যদি ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে হয়, তাহলে বলতে হবে, নারায়ণগঞ্জে ট্রেন-ট্রাকের সংঘর্ষ একটি ভয়াবহ ঘটনা। এ ঘটনায় তিনজনের তাৎক্ষণিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে ৫০ জন। ঘটনা আর দুর্ঘটনার পার্থক্য হলো, দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি কেউ দায়ী থাকে না, পরোক্ষ দায় তাতে থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু ঘটনা ঘটার জন্য পাত্র-পাত্রী প্রয়োজন, ঘটনার দায় তাদের নিতেই হয়।


নারায়ণগঞ্জে যে ক্রসিংয়ে উঠে ট্রাক অচল হয়ে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কার মুখে পড়েছিল, ওই ক্রসিংটির কোনো অনুমোদন ছিল না। অনুমোদিত না হওয়ায় রেল কর্তৃপক্ষ সেখানে কোনো লাইনম্যানও নিয়োগ করেনি। ফলে যার যেমন ইচ্ছা, তেমন করে রেললাইন পার হয় এবং ট্রেন আসা-যাওয়ার সময়টি হয়ে ওঠে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার উপযুক্ত মুহূর্ত। রেল সূত্র মোতাবেক ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেলপথে লেভেলক্রসিং রয়েছে ২৬টি। এর ১২টিরই কোনো অনুমোদন নেই। অনুমোদন নেই, কিন্তু ক্রসিং সৃষ্টি করা হয়েছে, এমন ঘটনাই দুর্ঘটনার আসল কারণ। এসব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অজানা থাকার কথা নয়। তাহলে উপর্যুপরি রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে থাকা সত্ত্বেও তারা ক্রসিংটি বন্ধ অথবা নিরাপদ করার উদ্যোগ নিল না কেন? দ্বিতীয়ত, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা অথবা তহবিল-ঘাটতির মতো বহুল ব্যবহূত অজুহাত এখানে চলবে না। কারণ, প্রশ্নটা জীবন-মৃত্যুর এবং প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে।
প্রত্যক্ষ দায়ের পাশাপাশি পরোক্ষ দায়গুলোও চিহ্নিত হওয়া প্রয়োজন। সরকারের অনেক সংস্থা আছে, আছে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। রেল বিভাগকে বহু বছর ধরে তহবিল ও লোকবল—সব দিক থেকে দুর্বল করে রাখা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি রেলে সংস্কার শুরু হয়েছে এবং তহবিলও জোগানো হয়েছে। তার পরও রেল বিভাগে যে গতি আসেনি, অনুমোদনহীন রেলক্রসিং ও লাইনম্যানের দায়িত্বে অবহেলা তার প্রমাণ। এই অবহেলা ক্ষমাহীন। অন্যদিকে যেকোনো দুর্ঘটনায় নিম্নপদস্থ কারও ঘাড়ে সব দায়ভার চাপিয়ে দিয়ে অন্যদের খালাস নেওয়াও আমরা দেখতে চাই না।
রেল প্রয়োজনীয় এবং রেলের সংস্কার জরুরি। তারই অংশ হিসেবে রেলপথ-ব্যবস্থাপনাকেও গতিশীল করতে হবে। নীতিনির্ধারকদের গাফিলতির খেসারত রেল কিংবা রেলযাত্রীরা আর কত দিন দিতে থাকবে?

No comments

Powered by Blogger.