উচ্ছেদ আর দখলের খেলা আর কত দিন?-ঢাকার চারপাশের চার নদী

দখল আর উচ্ছেদ, উচ্ছেদ আর দখল—এই খেলার শিকার হয়ে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর এখন মরণ দশা। আদালতের আদেশ-নির্দেশ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, সরকারের নানা বিভাগের তৎপরতা, কোনো কিছুই এই নদীগুলোকে বাঁচাতে পারছে না।


তুরাগ নদ নিয়ে গতকাল রোববার প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সঙ্গে একটি ছবিও। এই নদের জায়গা দখল করে চলছে বালুর ব্যবসা। অথচ নদটি দখলমুক্ত করে সীমানাপ্রাচীরও নির্মাণ করা হয়েছিল। ছবিতে আমরা দেখছি প্রাচীরের জায়গায় প্রাচীর আছে ঠিকই, কিন্তু এর ভেতরে ঢুকেই দখলদারেরা বালুর ব্যবসা করছে, ভরাট করে ফেলেছে নদ। লুকিয়েচুরিয়ে এসব কাজ করা যায় না। সবাই দেখছেন, কিন্তু যাঁদের দেখার কথা, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, তাঁরাই দেখছেন না। নদী দখল ও দূষণমুক্ত করতে আদালতের নির্দেশ ও সময়ে সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ—এসবেও যদি কাজ না হয়, তবে ভরসা করার আর জায়গা রইল কই!
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় রাজধানীর চারপাশের চার নদী—বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদের তীরের এলাকাকে প্রতিবেশগতভাবে সংকটময় ঘোষণা করে এই নদীগুলোর তীরে কোনো ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয় এমন কিছু করতে নিষেধ করে। হাইকোর্টও ২০০৯ সালে এ চারটি নদীকে দখলমুক্ত করতে সময়সীমা বেঁধে দেন। নদীতীরে বালু ফেলার বিষয়টি নিষিদ্ধ করা হয়। এই নভেম্বরের মধ্যে নদীগুলো দখলমুক্ত করার কথা ছিল। সরকার সময় বাড়ানোর আবেদন করলে আদালত আরও দুই মাস সময় বাড়ান। তুরাগতীরে দখলদারেরা যেভাবে বালুর ব্যবসা করছে, তাতে এই সময়ের মধ্যে নদীগুলো দখলমুক্ত হবে—এমন আশা কি আমরা করতে পারি?
নদী ব্যবস্থাপনার সঙ্গে কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও সরকারের বেশ কিছু সংস্থা জড়িত। অবৈধ স্থাপনা ও দখল থেকে নদীকে মুক্ত করার দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ ও জেলা প্রশাসকের। বোঝাই যাচ্ছে, যাঁদের যা দায়িত্ব, তা তাঁরা ঠিকমতো পালন করছেন না। নদী দখলের বিরুদ্ধে আইন আছে, দখলদারদের উচ্ছেদে আদালতের নির্দেশ রয়েছে—এর পরও যখন দখলদারেরা নিরাপদ থাকে, তখন আমরা আরও বুঝতে পারি যে দখলদারদের সঙ্গে দখলমুক্ত করার দায়িত্বপ্রাপ্তদের স্বার্থের সম্পর্ক রয়েছে। দখল আর উচ্ছেদ তাই এখন ‘খেলা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবেই কি চলবে? কারও কি টনক নড়বে না?

No comments

Powered by Blogger.