বিএনপির দুই কৌশল : আন্দোলন ও নির্বাচন by মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

বিএনপি রাজনীতির অ্যানাটমিটা যাঁদের ভালো জানা আছে, যাঁরা দলটির সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের খোঁজখবর নিবিড়ভাবে রাখেন, তাঁরা এখন নিশ্চিত করেই বলবেন যে দলটি আন্দোলন ও নির্বাচনের কৌশল নিয়েই রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশেষত বরিশাল ও ঢাকায় অনুষ্ঠিত ১৮ দলীয় জনসভায় খালেদা জিয়াসহ জোটের নেতাদের বক্তব্য ও ঘোষিত কর্মসূচি থেকে এমনটি স্পষ্ট হয়েছে বলা চলে। তবে এর আগে বিএনপি বেশ কিছু হোমওয়ার্ক করেছে। এর একটি হচ্ছে চীন ও ভারতের সঙ্গে বোঝাপড়া ঠিক করা, অন্যটি হচ্ছে ঢাকাস্থ মার্কিনসহ প্রভাবশালী দেশগুলোর দূতাবাসের সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি করা, চায়ের দাওয়াতে অংশ নেওয়া, তাদের মতামত গুরুত্বে নেওয়া, তাদেরও বিএনপির মনোভাব বুঝতে দেওয়া। বিএনপির বেশির ভাগ নেতাই গত কয়েক মাস থেকে যাঁর যাঁর দায়িত্ব পালনে বেশ সক্রিয় ছিলেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ বেশ কয়েকজন নেতা প্রতিদিনের মিডিয়াকে তাঁদের সংবাদ ও বক্তব্য প্রচারে ব্যস্ত রেখেছেন। এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই বিএনপি গত ২৮ নভেম্বর একদিকে আন্দোলন, অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের ধারণাটি সব মহলকে দিয়েছে। সঙ্গে রেখেছে নতুনভাবে নামকরণকৃত ১৮ দলীয় জোটকে, যা আগের চারদলীয় জোটেরই নতুন সংস্করণ মাত্র।
প্রশ্ন হতে পারে, ১৮ দলের সমাবেশ থেকে দেওয়া আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রচারণার ধারণাটি আসলে ১৮ দলের লক্ষ্য, নাকি কৌশল মাত্র! কিংবা এ দুটোর মধ্যে কোনটি লক্ষ্য, কোনটি জোটের রাজনৈতিক কৌশল? সামনের দিনগুলোতে বিএনপি বা ১৮ দল এ দুটোর কোনটিকে প্রাধান্য দেবে? আমাদের বেশির ভাগ মিডিয়া বলছে, বিএনপি নির্বাচনকেই প্রাধান্য দেবে। বাহ্যিকভাবে বিএনপি তাই দেখাচ্ছে বা দেখাবে। তাদের অন্তরাত্মার আরাধনাটি কিন্তু তা বলে মনে হয় না। সেটি তো রাজনীতিতে সব সময় প্রকাশ করা হয় না। বিএনপির দিক থেকে আগামী নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ বা আকর্ষণের চেয়ে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক চিন্তাভাবনাই বেশি কাজ করছে বলে মনে হয়। বিএনপি চাইছে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে দেশে একটি বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে তুলতে। জনমনস্তত্ত্বে যেহেতু তত্ত্বাবধায়ক ধারণাটি এখনো বিদ্যমান, তাই এর সুযোগটি তারা হাতছাড়া করতে চাইবে কেন?
১৯৯৫-৯৬ সালের মতো তেমন কোনো আন্দোলন গড়ে তোলা গেলে রাজনীতিতে তারা এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবে বলে ধারণা করছে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬-এর ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো ২০১৪ সালে একটি নির্বাচন করতে পারে কিংবা ২০০৭ সালের মতো দেশে জরুরি অবস্থা জারি হতে পারে। তেমন পরিস্থিতিতে দেশকে নেওয়া গেলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি চিরস্থায়ী সংকটে পড়বে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এই কাজ বাকি রয়েছে। সুতরাং আওয়ামী লীগকে আন্দোলনের চাপে ফেলে তেমন একটি অবস্থানে নেওয়া গেলে একদিকে আওয়ামী রাজনীতি পর্যুদস্ত হবে, অন্যদিকে নির্বাচনে অনায়াসে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের পক্ষে জয়লাভ করা সম্ভব হবে।
প্রশ্ন হচ্ছে, তেমন কার্যকর কোনো আন্দোলন বিএনপির নেতৃত্বে দেশে গড়ে উঠবে কি না? কেউ কেউ তত্ত্ব দিচ্ছেন যে ১৯৯৬ বা ২০০৬ সালে আওয়ামী লীগ দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তুলতে সক্ষম হলে বড় দল হিসেবে বিএনপি তা করতে পারবে না কেন? সহজ-সরল যুক্তি হিসেবে এমনটি ভাবা যায়, আশাও করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা এত সহজ-সরল অঙ্ক কষে নিরূপণ করা যায় না। মনে রাখতে হবে, ১৯৯৫-৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছিল, তা তখনো পর্যন্ত ছিল মানুষের কল্পনায় আঁকা, এক ধরনের মিথ হিসেবেই তা তখন জন-আকাঙ্ক্ষায় ছিল। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে তখন সরকার ও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ ছিল, যেকোনো উপায়ে নির্বাচনে কাউকে জয়ী করা ছিল তখনকার বাস্তবতা। কিন্তু ১৯৯৬ সালে বিএনপির কলম থেকে সংবিধানে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, তা ক্রমে দুর্বল উটে পরিণত হয়েছে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে বাদ দিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সওয়ার হয়েছিল অদ্ভুত ওই উটের পিঠে। ২০০৬ সালে সেই উটের আসল স্বরূপটি নগ্নভাবে প্রকাশিত হয়েছে, আওয়ামী লীগ, এলডিপি, বিকল্পধারা, জাতীয় পার্টি, ১৪ দলসহ সব রাজনৈতিক দল মিডিয়া, দেশি-বিদেশি শান্তিপ্রিয়, যুক্তিবাদী সব পক্ষকে আবেদন-নিবেদন ও আন্দোলন করতে হয়েছিল ইয়াজউদ্দিনকে তত্ত্বাবধায়কের উটের পিঠ থেকে নামাতে। জাতিসংঘের সেক্রেটারি বান কি মুনকেও বিবৃতি দিতে হয়েছিল। কিন্তু সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার আজিজ-মার্কা নির্বাচন করা থেকে বিরত হয়নি। চারজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করলেন, তাতেও কিছু হলো না। নতুন চারজন জকিকে উটের পিঠে এনে বসানো হলো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত হরতাল, অবরোধ, বঙ্গভবন অবরোধ- কী আর বাকি ছিল! তার পরও যখন বঙ্গভবনের প্রধানকে থামানো গেল না তখন ১/১১-কে যেতে হলো বঙ্গভবনে ট্যাংক ও বন্দুক নিয়ে। এর পরের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইতিহাস কোন সংবিধান ও যুক্তিতে গ্রহণ বা অস্বীকার করবেন? ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে ১৯৯৫-৯৬ ও ২০০৬-০৮-কে একভাবে দেখা ও ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। জনমত এ নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত, দ্বিধাবিভক্ত, বিভ্রান্ত ও দিকভ্রান্তও বটে। আওয়ামী লীগ বিষয়টিকে সেভাবে ব্যবহার করতে জানে না, বক্তব্যগুলো সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারে না। তবে ২০০৭ সাল-পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের যাত্রা অনেকটাই ইতিবাচক। এখন দেশে আজিজ-মার্কা নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না। দেশের নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় গুণগত পরিবর্তন আনা, আইন, বিধি-বিধানসহ যাবতীয় কার্যক্রমে হস্তক্ষেপমুক্ত দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করার বাস্তবতা অনেক বেশি অনুকূলে রয়েছে। বিএনপি, ১৮ দলীয় জোট, নাগরিক সমাজ, মিডিয়া ও সব পক্ষ যদি নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতো তাহলে সরকারের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট হতো। সরকার তাতে কোনো ধরনের গড়িমসি করলে কিংবা যৌক্তিক দাবি পূরণে ভিন্ন আচরণ করলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন দ্রুত দাঁড় করানো যতটা সহজ হতো, দ্বিধাবিভক্ত তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে ততটা হওয়া খুব সহজ কাজ নয়।
আন্দোলন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি মনে রাখতে হবে তা হচ্ছে রাজনৈতিক দলের বাইরে পেশাজীবী সংগঠন, শিল্পী-সংস্কৃতিসেবী মহলের অংশগ্রহণ। ১৯৯৫-৯৬ বা ২০০৬-০৭ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংঘটিত আন্দোলনে সমাজের প্রগতিশীল সব স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল, সমর্থন দিয়েছিল। ফলে আন্দোলনটি রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল।
কিন্ত এখন বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে একই ধরনের যে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছে, তাতে ইস্যুটিই নানা প্রশ্নের মুখে আছে। দ্বিতীয়ত, বিএনপি-জামায়াতের অনুগত পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবী-সংস্কৃতিসেবী মুষ্টিমেয় ছাড়া বৃহত্তর পেশাজীবী-বুদ্ধিজীবী সমাজের জামায়াত-বিএনপির আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনই প্রগতিশীল সামাজিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া সফল হয়নি। ভবিষ্যতে তেমন কোনো আন্দোলন প্রগতিশীলদের অংশগ্রহণ ছাড়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে কি না, যথেষ্ট সন্দেহ আছে। বিএনপি নিজেও কখনো এককভাবে গণতান্ত্রিক কোনো আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়নি। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব ছিল ১৫ দল ও পাঁচ দলের হাতে। বিএনপি-জামায়াত যুগপৎ কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত ছিল। এরপর আর কখনো বিএনপিকে নিয়মতান্ত্রিক কোনো আন্দোলনে দেখা যায়নি। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার দুটো মূল কারণ রয়েছে। একটি হচ্ছে দলটির রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের অভিজ্ঞতার অভাব, দলটি চিন্তা ও মননে পশ্চাৎপদ রাজনীতি, উগ্র, হঠকারীদের প্রতি ঝুঁকে আছে, অন্যটি হচ্ছে জামায়াত-শিবিরের ওপর নির্ভরশীলতা। জামায়াত-শিবিরের রাষ্ট্রচিন্তা ও আন্দোলনের ধরন-ধারণ কেমন, তা সম্প্রতি দেশব্যাপী নতুনভাবে উন্মোচিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন সংঘটিত যেকোনো আন্দোলনের পরিণতি কতখানি গণতান্ত্রিক অর্জনের পক্ষে যাবে, তা নিয়ে বৃহত্তর মানুষের মধ্যেই সন্দেহ আছে, দেশের মধ্যবিত্ত ও শিক্ষা-সংস্কৃতিসেবীদের বড় অংশ অনেকটাই তা থেকে দূরে আছে এবং থাকবে। ফলে বিএনপি ১৯৯৫-৯৬ বা ২০০৬-০৭ সালের অনুরূপ দেশে ২০১২-১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে যে আন্দোলন গড়ে তোলার হিসাব-নিকাশ করছে তাতে রাজনীতির কঠিন পাঠের, মনে হয়, বড় ধরনের অনুপস্থিতি রয়েছে। বদলে গেছে তত্ত্বাবধায়কের বাস্তবতা, নির্বাচন কমিশনের অবস্থানও। বাংলাদেশ এরই মধ্যে রাজনীতির পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বেশ এগিয়ে গেছে। তাতে অনেক মিথই যাচাই-বাছাইয়ে পরিত্যাজ্য হয়েছে, দ্বিধাবিভক্তি, কিছু বিভ্রান্তি, অস্পষ্টতা ও দিকভ্রান্তি রয়েছে। এগুলোর ওপর সম্বল করে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে দেশে দুর্বার গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার সম্ভাবনা সন্দেহমুক্ত নয়। তবে সবটাই নির্ভর করবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট সরকার কতখানি জনগণকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বিধানের মহাসড়কে ওঠার বা তোলার ব্যবস্থা করবে। তার ওপর অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যাপারে সব শ্রেণী-পেশা ও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী একাট্টা হয়ে আছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন জনসভায় এবং সর্বশেষ সদ্য সমাপ্ত সংসদ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের যে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়ার অবাধ সুযোগ পাবে, তাতে যে ফলাফল হবে, তা তিনি মেনে নেওয়ার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন, সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য। এটি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ অব্যাহত থাকা, জনগণের বিশ্বাসের জায়গায় আস্থার অবস্থান তৈরি করা আওয়ামী লীগের এখন জরুরি কাজ। সেটি করা গেলে বিএনপি-জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর আন্দোলন সফল না হওয়ারই সম্ভাবনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সামান্য ভুল পদক্ষেপ, অনাকাঙ্ক্ষিত বা অহেতুক মন্তব্য ছোড়াছুড়ি দৃশ্যপটকে সমূলেই পাল্টে দিতে পারে। সুতরাং এ ক্ষেত্রে সরকারের আচরণ ও ভূমিকা বেশ গুরুত্ব বহন করে।
প্রশ্ন হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আন্দোলন সফল না হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি না? এমন জিজ্ঞাসার উত্তর নানাজন নানাভাবে দিচ্ছেন। তবে সে ক্ষেত্রেও মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যৎ নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সন্দেহ জনমনে থাকলে বিএনপি ও ১৮ দল তা কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে, সেই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করবেই। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন বর্জনের সুবিধা তারা নেবেই। প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার তাদের তেমন সুযোগ দেবে কি না? এর উত্তরও সরকারই ভালো দিতে পারবে। তবে আগামী এক বছর কারো জন্যই সুখকর সময় হিসেবে যাবে না- এটি ধারণা করা হচ্ছে। বিরোধী দলের জন্য সময়টি যেমন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের জন্যও বেশ কঠিন হতে পারে। বিরোধী দল আন্দোলন করার জন্য অবরোধ, গণসংযোগসহ যেসব কর্মসূচি ঘোষণা করেছে, তাতে বাধা দিলে নতুন নতুন কর্মসূচি তাদের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, নতুন নতুন কর্মসূচি থেকে নতুনভাবে সংঘাত-সংঘর্ষেরও আশঙ্কা থেকে যাবে। বিরোধী দল সেভাবেই অগ্রসর হতে চাইবে। সরকারের মাঠের আন্দোলন দমনের চেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে করণীয়গুলো নিয়ে জনগণের কাছে হাজির হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়। আন্দোলন দমানোর চেয়ে অকার্যকর করার সৃজনশীল উপায় উদ্ভাবনই হচ্ছে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কাজ। সরকার সে পথে হাঁটবে কি?

লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাসবিদ, রাজনীতি বিশ্লেষক
patwari54@yahoo.com

No comments

Powered by Blogger.