ব্যারিস্টার নোরা শরীফ : বাংলাদেশের এক বোন, বন্ধু, ভক্ত এবং যোদ্ধা by মহিউদ্দিন আহমদ

ইউরোপীয় মহিলা, দীর্ঘাঙ্গি, শাড়ি পরিহিতা, হাতে কুলাজাতীয় কিছু একটা, ধীরে ধীরে হেঁটে আসছেন দূর থেকে। কাছে আসতে ঠিকই দেখা গেল, কুলায় ধূপ ধুনা দূর্বা, এবং মহিলাটি নোরা, ব্যারিস্টার নোরা শরীফ। গত শুক্রবার লন্ডন সময় রাত ১১টায় নোরা মারা গেছেন, লন্ডনে তাদের বাসায়। পরদিন দুপুরে খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথম জানালাম এজেডএম মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জুকে। তারপর আমাদের সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী কায়সারকে। নোরাকে ঘিরে ’৭১-এর আগে-পরে লন্ডনে আরও হাজার হাজার বাংলাদেশীর মতো আমাদের প্রত্যেকেরই অনেক অনেক মধুর স্মৃতি আছে। টেলিফোনে নোরার মৃত্যুর খবরটি বলতেই মঞ্জু কয়েক মিনিট কাঁদল। তারপর বলল, উপরে, লেখার শুরুতেই, নোরাকে বর্ণনা করে দেয়া স্মৃতিটি।
এ জেড এম মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু একাত্তরে যুক্তরাজ্যে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র সংগ্রাম কমিটির প্রধান ছিলেন। তার ডেপুটিদের একজন ছিলেন ড. খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, এখন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের একজন। প্রবাসে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান পুরুষ বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হতো, দেখেছি তিনি যে তিন-চারজন মানুষের সঙ্গে সমস্যা-সংকট নিরসনে পরামর্শ করছেন, তাদের একজন এই মঞ্জু। অন্য দু’জন শেখ আবদুল মান্নান এবং লুলু আপা, মানে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা হেডমিস্ট্রেস লুলু বিলকিস বানু। শেখ মান্নান ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ডান হাতের মতো।
মঞ্জু বলছিল, কুলা হাতে নোরা আসছিলেন, কারণ পাশের ‘অল্গেট’-এর একটি হলে বেগম সুফিয়া কামালকে একটি সংবর্ধনা দেয়া হবে ‘পিউর’ বাঙালি রীতিনীতিতে। তাই ধূপ ধুনা দূর্বার ব্যবস্থাও। এবং নোরা ছাড়া এমন একটি আয়োজনের বড় একটা দায়িত্ব নেয়ার মতো মানুষ প্রবাসে, বিদেশে কমই পাওয়া যায়। সেই প্রবাসটি বাংলাদেশী অধ্যুষিত হলেও। বছর তিনেক আগের আর একটি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে মঞ্জুর কথা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল বারবার। ঢাকা থেকে জেট এয়ারওয়েজের একটি বিমানে উঠে মঞ্জু দেখে বিমানের প্রথম দিকে নোরাও উপবিষ্ট আছে। মঞ্জুর সিট পেছনের দিকে। মঞ্জু তখন কিছুটা অসুস্থ। নোরা তা লক্ষ্য করলেন। দিল্লিতে জেট এয়ারওয়েজের প্লেনটি কোনো এক কারণে ঠিক সময়ে ঠিক জায়গায় নামতে পারল না। লন্ডন যাওয়ার কানেকটিং ফ্লাইট মিস করলেন তারা। দিল্লি বিমানবন্দরে নানা রকমের ঝামেলায়ও পড়লেন এই দু’জন। এর মধ্যে মঞ্জুর অসুস্থতা বেশ বেড়ে গেল। অসুস্থ মঞ্জুকে আগেই লক্ষ্য করেছিলেন বলে নোরা মঞ্জুর জন্য অপেক্ষা করতে থাকলেন প্লেন থেকে নামার সময়। দু’জনে একত্রে নামলেন; তারপর বিমানবন্দরে মঞ্জুর জন্য ডাক্তার ডাকা, ডাক্তারের পরামর্শে মঞ্জুকে যখন পাশের ক্লিনিকে নিতে হল, তখন থেকে শুরু করে পরের প্রায় ২৪ ঘণ্টা মঞ্জুকে সঙ্গ দিয়েছেন নোরা, ওষুধ-পথ্য খাইয়েছেন। তারপর লন্ডনে নেমে তাকে বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করে তবেই নোরা এই দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেন।
নোরাকে নিয়ে এবার আমার কিছু কথা।
লন্ডনে পাকিস্তান হাইকমিশন থেকে সেকেন্ড সেক্রেটারির চাকরিটি ছেড়ে দিলাম প্রকাশ্য এক ঘোষণায়, ১৯৭১-এর ১ আগস্ট, লন্ডনের জিরো পয়েন্ট- লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ারে, বাংলাদেশীদের আজ অবধি বৃহত্তম সমাবেশে। তার তিন সপ্তাহ পর ২৩ আগস্ট আমাদের প্রথম সন্তান অরুর জন্ম। মেয়েটি ঠিকই, স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নিল বাসার পাশের ফুলহামের এক সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু সদ্যোজাত শিশুর লালন-পালন সম্পর্কে অরুর মা বা আমার যে কোনো ধারণা নেই। বাংলাদেশ, ভারত এসব দেশে শিশুর নানি, দাদি, চাচি, ফুফি, বোন- কত জাতের কতসব আত্মীয় সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসেন। কিন্তু লন্ডনে এসব পাব কোথায়। সুতরাং ভরসা নোরা, বন্ধু সুলতান শরীফের আইরিশ স্ত্রী। সুলতান তখন মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সারির নেতা, লন্ডন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক; এখন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি।
অরু তার জন্মের পর তিন-চার দিন হাসপাতালে থাকল। তারপর হাসপাতাল যখন তাকে আর রাখতে চাইল না, কয়েক ঘণ্টার জন্য তাকে বাসায় আনলাম। তারপর দিলাম দক্ষিণ লন্ডনের বাল্হামে নোরা এবং সুলতান শরীফদের বাসার উদ্দেশে ছুট। দু’তিন দিনের মাথায় যা আশংকা করেছিলাম তাই ঘটল। মেয়ে রাত ২টা-৩টার দিকে একদিন এমন চিৎকার করে কান্না জুড়ে দিল যে কোনোভাবেই শান্ত করতে পারছিলাম না। কয়েক মিনিট পর বাধ্য হয়ে তুললাম ঘুম থেকে নোরা-সুলতান শরীফ দম্পতিকে। নোরা অরুকে একাঁধ ওকাঁধ করল কয়েকবার, তারপর বসে কোলে নিয়ে উপুড় করে পিঠে ট্যাপও করল কয়েকবার, পানিজাতীয় কিছু একটা খাওয়ালোও বোধ হয়, তারপর মেয়ে শান্ত হল এবং পাড়া জুড়ালো।
অরুকে নিয়ে এখানে সেই পাঁচ-সাত দিন থাকাকালেই নোরা এক সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে আমার চা খাওয়া দেখে বলেছিল, You Bengalees, you produce tea; but you do not know how to take tea. Half cup of milk and half cup of sugar; what of tea is left there? (তোমরা বাঙালিরা চা উৎপাদন কর ঠিকই, কিন্তু তোমরা চা খেতে জান না। কাপের অর্ধেক দুধ, বাকি অর্ধেক চিনি; তাহলে চায়ের কি থাকল?)
এবার আর একটি অভিজ্ঞতা-
মহিউদ্দিন আহমেদ জায়গীরদার এখন উত্তরায় পূর্ব পাশে আমার নিকটতম প্রতিবেশী, ভুটানে আমাদের রাষ্ট্রদূত ছিলেন; ৭১-এ তিনি নাইজেরিয়ার রাজধানী লাগোসে পাকিস্তান হাইকমিশনের একজন থার্ড সেক্রেটারি। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান হাইকমিশনের এই চাকরি ছেড়ে দিয়ে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করবেন। ৭১-এ মুজিবনগর সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল বাঙালি কূটনীতিবিদ এবং অন্যসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পাকিস্তান দূতাবাস থেকে তাদের চাকরি ছেড়ে দেবেন এবং এই মর্মে তাদের নিদের্শও পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে যারা পারবেন তারা কলকাতার মুজিবনগর সরকারে বা যারা পারবেন না তারা লন্ডনে আমাদের সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিশনে রিপোর্ট করবেন। তো জায়গীরদার সাহেব ঠিক করলেন, তিনি লন্ডনেই আসবেন। তারা পাঁচজন, - স্বামী-স্ত্রী তারা দু’জন এবং তাদের এক ছেলে দুই মেয়ে। সময়টা বোধহয় সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী বোধহয় তখন ইউরোপ সফরে। সুতরাং লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে তাদের সংবর্ধনা এবং থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করার দায়িত্বটা আমার উপরই পড়ল। কিন্তু আমার কোনো চিন্তা-দুশ্চিন্তা নেই। অরুকে সামাল দেয়ার ব্যাপারটা ইতিমধ্যে তার মা মোটামুটি শিখে ফেলেছেন। সোস্যাল ওয়েলফেয়ার ডিপার্টমেন্ট থেকেও এক মধ্যবয়সী মহিলাও সপ্তাহে দু-একবার শিশুর লালন-পালন বিষয় এক ঘণ্টা-দু’ঘণ্টার ট্রেনিং দিতে আসে।
সব ধরনের কাজে, আমার বড় ভরসা নোরা এবং সুলতান শরীফ। জায়গীরদারদের আসার ব্যাপারটিও তাদের জানালাম। এই দম্পতি এক কথাতেই জায়গীরদার পরিবারকে তাদের বাসায় তুলতে আগ্রহী হলেন। নির্ধারিত দিনে সুলতানকে নিয়ে আমি গেলাম আমার অস্টিন-১৩০০ গাড়ি চালিয়ে হিথরোতে। তারা বেরিয়ে আসলেন ঠিক সময়েই তাদের বাক্স-পেট্রা নিয়ে। আমরা বাইরে দাঁড়িয়ে তাদের সংবর্ধনা জানালাম। জায়গীরদার সাহেবকে আমি আগে থেকেই চিনতাম। ইসলামাবাদে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমরা কিছুদিন একত্রে ছিলাম। কিন্তু তাদের পাঁচজনের ব্যাগ-বাক্স নিয়ে বিপদে পড়লাম। আমি গাড়ি চালালেও গাড়িতে সাতজন তো যেতে পারব না। তারপর লাগেজ, ব্যাগেজের কি হবে?
ভাড়ায় একটি ট্যাক্সি নিলে সমস্যার সমাধান করা যায়। কিন্তু তাতে যে তিন পাউন্ড লাগবে! তিন পাউন্ড খরচ করার মতো অবস্থা আমার তখন নেই। এ ছাড়া যে কোনো খরচের সময়ে আমরা চিন্তা করি, ওই খরচের টাকা দিয়ে কয়টি বুলেট কেনা যাবে? বা রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য কয় জোড়া জুতা বা জামা-সোয়েটার কেনা যাবে? সুতরাং ট্যাক্সি ভাড়া এবং তিন পাউন্ড খরচের বিবেচনা দু’তিন মিনিটের আলোচনার পর বাদ পড়ল। কিন্তু বিকল্প কি? কয়েক মিনিটে বিকল্পও বেরিয়ে এলো।
এই প্রান্ত থেকে আমি জায়গীরদারদের পাঁচজনকে নিয়ে আমার গাড়িতে সুলতানের বাসায় আসব। হিথরোতে সুলতান জায়গীরদার লাগেজ সামাল দেবে। আর ওই প্রান্ত থেকে নোরা তাদের মরিস মাইনর বা মিনি গাড়িটা নিয়ে হিথরোতে আসবে, সুলতান এবং লাগেজগুলো উঠিয়ে আবার বালহামের ২৫ বালবার্নি গ্রোভের বাসায় ফিরে যাবে। কিন্তু আমি বাসায় ঢুকব কিভাবে? সুলতানের কাছে তো বাসার চাবি নেই, নোরার কাছে চাবি, কিন্তু নোরাও তখন গাড়িতে হিথরোর উদ্দেশে। চাবি সংকটের সমাধান এভাবে হল : নোরা বাসার চাবি দরজার ফাঁকে, নিচে, ম্যাটের ভেতর লুকিয়ে রেখে আসবে। বাসায় পৌঁছে আমি চাবি খুঁজে বের করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকব।
এ সবই করেছিলাম সেদিন শুধু তিন পাউন্ড বাঁচাতে। প্রতি পাউন্ডে তখন এগার-বারো টাকা। বিশ্বাস হয়?
তিন.
জন্মসূত্রে নোরা ছিলেন একজন আইরিশ, জন্ম আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে। সম্ভ্রান্ত পরিবারেই তার জন্ম হয়েছিল। বাবা শ্যন এফ মারে (Sean F. Murray) আইরিশ কারেন্সি বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। ৬ বোন, ৩ ভাইয়ের মধ্যে নোরা দ্বিতীয় ছিলেন। নোরা লিংগুইস্টিক্স-এ গ্র্যাজুয়েশন করেন ডাবলিন, তারপর কৃষি বিষয়ে কিছু একটা পড়তে গেলেন ফ্রান্সে। সেখান থেকে আসেন লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়ত, এখানেই সুলতানের সঙ্গে পরিচয়, ছয় দফা আন্দোলনের সময়। ওই সময় নোরা, সুলতান, মঞ্জু, বিচারপতি মানিক, সবাই লন্ডনে ব্যারিস্টারির ছাত্র। সেই সূত্রে পরিচয় এবং ঘনিষ্ঠতা। সুলতানের সঙ্গে নোরার ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। সংশ্লিষ্টতা বাড়তে থাকে বাঙালিদের সব রকমের আন্দোলন সংগ্রামের সঙ্গেও। তারপর ১৯৬৮-এর ৩০ সেপ্টেম্বর তাদের প্রণয় পরিণত হয় পরিণয়ে। তখন থেকে বাঙালিদের আন্দোলন সংগ্রামের যত প্লাকার্ড, ফেস্টুন একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় বহনের দায়িত্ব নোরার, তার গাড়িতে। ৭২-৭৪-এ, স্বাধীন বাংলাদেশে নোরা তিন বছর কাটিয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন শিক্ষক হিসেবে; একেবারে পুরোপুরি একজন বাঙালি নারী হিসেবে। ল্যাটিন ভাষা জানতেন নোরা। দক্ষ ছিলেন আইরিশ, ইংরেজি, বাংলা, ফ্রেঞ্চ ও ইটালিয়ান ভাষাতেও। বাঙালিদের সঙ্গে তিনি বাংলাতেই কথা বলতেন। বাসায় ও বাইরের প্রায় সব অনুষ্ঠানে শাড়ি পরতেন তিনি। বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগকে নিয়ে সুলতান শরীফ তার পুরো জীবনটা কাটিয়েছেন, এখন তার আরও বড় দায়িত্ব। কিন্তু দিনে ৪ চারবার ইনসুলিন নিতে হয়। হার্টের অপারেশন একবার হয়ে গেছে, এখন কিডনিও আক্রান্ত। সুলতানকে তার সব ব্যস্ততা এবং দায়িত্ব পালনে এত বছর সামাল দিয়েছে নোরা। ঢাকায়, আমরা নোরা শরীফদের বন্ধুদের এখনকার দুশ্চিন্তা, সুলতান শরীফকে এখন দেখবে কে?
তাদের দুই মেয়ে রাজিয়া, ফওজিয়া- দুজনই ইংল্যান্ডেই আছে। তবে লন্ডন থেকে শ’খানেক মাইল দূরে। স্বামী-সংসার নিয়ে আছে। তাদের তিন সন্তান। তারাও ভালোই আছে।
’৭১-এর বিজয়ের কয়েক মাস পর ম্যারিয়েটার অস্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের অনেককে সাংঘাতিক এক ধাক্কা দিয়েছিল। ’৭১-এ আমাদের মুক্তিযুদ্ধে এক ইংরেজ তরুণী এই ম্যারিয়েটার ভূমিকা এবং অবদানের ওপর আমার তিনটি লেখা আছে।
এবার আমাদের ’৭১-এর ‘লন্ডনের ফকির সমিতি’র সদস্যদের সর্বশেষ ধাক্কাটি দিলেন আইরিশ, বাংলাদেশ প্রেমিক নোরা। - মাঝখানে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী, শেখ আবদুল মান্নান, লুলু বিলকিস বানু- একেকটি থোকা থোকা নাম।
লন্ডনে অসুস্থ আছেন যুক্তরাজ্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আরেক নেতা নজরুল ইসলাম আলো। ঢাকায় অসুস্থ এ জেড মোহাম্মদ হোসেন মঞ্জু। মঞ্জু এখন কালিয়াকৈরে চন্দ্রা স্পিনিং মিলস্রে ম্যানেজিং ডাইরেক্টর। কিন্তু নিয়মিত অফিসে বা ফ্যাক্টরিতে আসা-যাওয়া করতে পারে না। আমাদের সেই ’৭১-এর ফকির সমিতির সদস্যদের বয়সও তো কম হল না। প্রত্যেকেই এখন ’৭০-এর ওপর। ১৩ বছর ধরে আমার অবসর জীবন, ঢাকায় থাকি। আশংকা, দুশ্চিন্তা- কখন কী শুনি।
শেখ হাসিনার এই মহাজোট সরকারটি একটি অসাধারণ কাজ করেছে- ’৭১-এ আমাদের যেসব বিদেশী বন্ধু আমাদের বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের সাহস, উৎসাহ, প্রেরণা দিয়েছেন, সরাসরি মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন কেউ কেউ, তাদের প্রায় সবাইকে সম্মাননা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে নোরাও ছিলেন। দুই বছর আগে, ২০১২-এর ২৭ মার্চ, ‘ফ্রেন্ডস অব লিবারেশন ওয়ার অনার’ নিতে তিনি সুলতানকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন। এই সম্মাননাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ ডিনারে আপ্যায়িত করেছেন। নোরাকে নিয়ে আমার সর্বশেষ স্মৃতিটা হচ্ছে- সোনারগাঁও হোটেলে এমন একটি ডিনার শেষে বিদায় নেয়ার সময় হোটেলের বলরুমের দরজায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুনসুটি করছেন নোরার সঙ্গে, পাশে সুলতান শরীফ দাঁড়িয়ে হাসছেন এবং তাদের এই খুনসুটি উপভোগ করছেন।

No comments

Powered by Blogger.