ইতিহাস- 'ভাওয়ালগড়ের ষড়যন্ত্র' by তারিক হাসান

অবিভক্ত ব্রিটিশ বাংলায় আলোড়ন তুলেছিল ভাওয়ালের মেজোকুমারের মৃতু্য রহস্য। ১৯০৯ সালে দার্জিলিং ভ্রমণে গিয়ে অসুস্থ হয়ে নাকি মৃতু্য হয় ঢাকার জয়দেবপুরের মেজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের।

অন্ততঃ মেজোরাণী বিভাবতী দেবীর বয়ান তাই বলে। এক যুগ পর মেজোকুমারের মত দেখতে নাগা সাধুর দেখা মেলে সদরঘাটের বাকল্যান্ড বাঁধে। তিনিই কী ভাওয়াল কুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়? প্রজা, পরিবারের মধ্যে বিতর্ক বাড়ে। ঘটনা গড়ায় আদালতে। রাজকীয় মামলার বিচারে রীতি ভেঙে ব্রিটিশ আদালত ওঠে ভাওয়াল রাজ দরবারে। মেজোকুমারের মৃতু্য রহস্য উদঘাটনে।
১৫ বছর আইনি টানাপোড়েনের পর রায় হয় সন্ন্যাসীই মেজোকুমার। রায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন মেজোরানী। যুগান্তকারী ঘটনার রেশ গড়ায় লন্ডনের প্রিভি কাউন্সিলেও। ১০ বছর পর কাউন্সিল রায় দেয় মেজোকুমার সম্পত্তির দখল নেবেন। খবর পেঁৗছানোর দিনই হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃৃতু্য হয় ভাওয়াল রাজার। ভাওয়ালগড়ের অন্তঃপুরের অবাধ যৌনাচার, কেচ্ছা। সম্পদের লালসায় খুন, অস্তিত্ব প্রমাণে মেজোরাণীর ষড়যন্ত্র আর উত্তরাধিকার রক্ষায় বড়রাণীর প্রয়াস- এসব নিয়ে মুখ খুলেছেন পরিবারের সদস্যা, ভাওয়াল কন্যা শ্রীমতি রত্না চ্যাটার্জি। মেজোকুমারের জীবন অবলম্বনে 'সন্ন্যাসী রাজা' সিরিয়ালেও তিনি তুলে ধরেছেন সেই সময়কার ঘটনা। তাঁর স্মৃতিচারণের ভিত্তিতে লেখা কাহিনীতে মেজোকুমারের জীবন, ভাওয়ালগড়ের না-শোনা বহু ঘটনা কলকাতা থেকে তুলে এনেছেন তারিক হাসান
।। ১ ।।
বিভাবতীর গর্ভে কার সন্তান?
সংবাদটা শুনে রমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের মন আনন্দে নেচে উঠল। তিনি বাবা হতে চলেছেন।
এ তো শাপমুক্তির সংবাদ। তাঁর গুপ্ত রোগ তাহলে সেরে গেছে। আশু ডাক্তার বলেছিল বটে, এ ওযুধে রোগ না সেরে যায় না। সত্যিই এলেম আছে বটে ডাক্তারের। এক্কেবারে সাক্ষাৎ ধন্বন্তরি।
সিফিলিস একেবারে সারিয়ে দিলে!
বিভাবতী তাহলে বাঁজা নয়। মেজোরাণী এটা বলে ছিল বটে। কিন্তু মন মানতে চায়নি। বড়কুমারের ছেলে জকির মৃতু্যর পর সবাই তাহলে হিংসা করে ওসব রটিয়েছিল। আসলে তারই দোষ ছিল। বারবণিতার সঙ্গে পৌরুষত্ব হারিয়ে গিয়েছিল।
জরুরী ডাক পড়ল কুল পুরোহিতের। তিনি গণনা করে জানিয়ে দিলেন পুত্র সন্তান লাভ হবে রমেন্দ্র নারায়ণের। বিভাবতীর গর্ভে ভাওয়াল বংশের উত্তরাধিকারী আসতে চলেছে।
খবরটা মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ল ভাওয়ালগড়ের অন্দরে। বড়রানী সরযূবালা, ছোটরাণী আনন্দ কুমারী-সবাই জানলো বিভাবতী মা হতে চলেছে। খবর গেল মেজোকুমারের বোনেদের কাছেও।
আনন্দ-উৎসব শুরু হয়ে গেলো ভাওয়ালগড়ে। শিকার যাত্রা বাতিল করে দিলেন মেজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণ। কয়েক বছর আগে বড় কুমার রনেন্দ্র নারায়ণের ছেলে জকির মৃতু্যর ঘটনা মস্নান হতে থাকল।
খবর শুনেই প্রমাদ গুণলেন বড়রাণী সরযূবালা। পর পুরুষের ঔরসজাত সন্তান হবে ভাওয়ালগড়ের উত্তরাধিকারী? তা কী করে সম্ভব? এ যে ঘোর অনাচার।
দ্বন্দে পড়লেন সরযূবালা।
রমেন্দ্র নারায়ণকে একথা তিনি বলবেনই বা কী করে? সে তো তাঁকে মায়ের মত শ্রদ্ধা করে।
তাহলে কী অন্য কাউকে দিয়ে? না তাই বা কী করে হয়। রাজ পরিবারের কেচ্ছা বাইরের কেউ জানলে তখন কী আর চাপা থাকবে। অন্দর ছাড়িয়ে ঘুরে বেড়াবে বারমহল, এস্টেটের প্রজাদের মধ্যে।
এমনিতেই ভাওয়াল বংশের কুমারদের কেলেঙ্কারীর শেষ নেই। প্রজারা ভয়ে কেউ কিছু বলে না। অন্দরমহল নিয়েও অনেক কথা গ্রামের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়ায়।
তাই বলে?
কিন্তুঃ
একথা না বললেও যে চলবে না। রাজ পরিবারের উত্তরাধিকারী হবে অপর বংশের সন্তান? তাই বা তিনি কী করে মেনে নেবেন?
তাহলেঃ
রমেন্দ্র নারায়ণকে খবরটা জানাতেই হবে। দাসী মারফত তলব পাঠালেন সরযূবালা।
ততক্ষণে শুরু হয়ে গিয়েছে উলস্নাস। মেজোকুমার মেতে উঠেছেন আইয়াশিতে। ফরাসি শ্যাম্পেনের ফোয়ারা আর বাইজির ঘুঙরুর ঝংকারে রঙিন হয়ে উঠেছে বারমহল।
পরের দিনই শিকারে রওনা দিলেন রমেন্দ্র নারায়ণ। বাঘ শিকারে। পুত্র সন্তান সম্ভাবনার আনন্দে।
ফিরে এসে মেতে উঠলেন এস্টেটের কাছারির কাজে।
পহেলা বৈশাখ। বছর শুরুর সময়টা বড়ই ব্যস্ততার সময়। খাজনা আদায় ঠিকমত না হলে ব্রিটিশ বাহাদুর অসন্তুষ্ট হবেন। তাঁরা তুষ্ট না থাকলে যে বিপদ।
তাই এই ব্যস্ততায় বড় বৌদি সরযূবালার সঙ্গে দেখা করার কথা আর মনেই রইল না তাঁর।
দিন কেটে যায়। মাস খানেক অতিক্রান্ত। আর যে থাকা যায় না। বড্ড দেরী হয়ে যাবে। মেজোকুমারকে আবার তলব করলেন সরযূবালা। কাছারির কাজ সেরে ওবেলা আসবেন জানিয়ে দিলেন রমেন্দ্র নারায়ণ।
স্নানাহার সেরে দিয়ে দাঁড়ালেন বড় পক্ষের অন্দরমহলের সামনে। কিছুক্ষণ পরেই ডাক এল। ভেতরে গিয়ে বৌঠাকুরণের আশীর্বাদ নিলেন মেজোকুমার।
আমায় ডেকেছিলেন বৌঠাকুরণ?
আপনার শরীর ঠিক আছে তো?
বসো ঠাকুরপো।
এতটুকু বলেই ঘরের কাজ সারতে লাগলেন সরযূবালা।
একটু বাদে দাসী এসে জল খাবার দিয়ে গেলো।
ঘর জুড়ে শুধুই নিস্তব্ধতা।
বেলা বয়ে যায়।
কলকাতা থেকে একজন মেম এসছেন। সকলে জানেন ব্রিটিশ বাহাদুর পাঠিয়েছেন এস্টেটের কাজ দেখতে।
তা কিছুটা ঠিক। ঝকঝকে ইংরেজি বলা মেম। এস্টেটের কাগজপত্র সম্বন্ধে ব্রিটিশ আইন বুঝিয়ে দেবেন মেজোকুমারকে। তাঁকে নিয়ে বন বিহারে যাবেন। বাঘ শিকারে। দিনের শেষে জঙ্গলে বসবে মহফিল। মেমকে নিয়ে একটু আইয়াশি হবে জঙ্গলমহলে। তার আগে আজ সাঁঝবেলায় মেমের অনারে পার্টি হবে। আড়ালে অবশ্য লোকে বলছে ব্রিটিশ বাহাদুরের প্রতিনিধি না ছাই।
মেম আসলে মেজোকুমারের আইয়াশির উপকরণ হয়ে এসেছেন। স্বাদ বদল আর কি।
বেলা হয়ে যায়।
এদিকে বৌঠাকুরণ যে কিছুই বলেন না?
তাহলে?
ধৈর্য আর রাখতে না পেরে রমেন্দ্র নারায়ণ ডাক দিলেন বৌঠাকুরণ। কেন ডেকেছিলেন বললেন না তো?
এস্টেটে কোনও গোলমাল হয়েছে?
দাদার শরীর ভাল যাচ্ছে না শুনলাম। সে ব্যাপারে কোনও আলোচনা আছে নাকি?
না।
মৌনতা ভাঙলেন সরযূবালা। অন্য একটা বিষয়ে কথা আছে। খুবই জরুরী।
ভাওয়াল বংশের সম্পত্তি বেহাত হওয়ার পথে।
একি বলছেন সরযূবালা?
শুনেই ব্রহ্মতালু পাক দিয়ে উঠল বমেন্দ্র নারায়ণের। ভাওয়াল এস্টেট বেহাত হয়ে যাবে?
মানে? খাজনা তো ঠিকঠাকই দেয়া হচ্ছে। তাহলে 'কোর্ট অফ ওয়ার্ড' সম্পত্তির দখল নেবে কেন?
ব্রিটিশ বাহাদুর তো তাঁর ওপর অসন্তুষ্টও নন। তাহলে?
অন্য কোনও ব্যাপার?
সমাধান খুঁজে না পেয়ে রমেন্দ্র নারায়ণ সরযূবালারই শরণাপন্ন হলেন।
বৌঠাকুরণ আমি যে কিছুই বুঝতে পারছি না। কে সম্পত্তি বেহাত করে দেবে।
ব্রিটিশ বাহাদুর? তাদের কাছে আমার কী কোনও অন্যায় হয়েছে?
না।
তাহলে কার এত সাহস?
বলুন। আজই তাঁর মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করে দিই।
তা সম্ভব নয় রমেন।
সম্পত্তি যে বেহাত করবে সে এখনও আসেনি। গোকুলে বাড়ছে। কেউ জানতেও পারবে না। ভাওয়াল বংশের হাত থেকে কখন সম্পত্তি বেহাত হয়ে যাবে।
মাথা ভনভন করে উঠল রমেন্দ্র নারায়ণের। বৌঠাকুরণ কী যে বলছেন কিছুই তো বোঝা যায় না। সব কেমন যেন ধাঁধার মত ঠেকছে।
যে আসেনি সে কিভাবে ভাওয়ালের সম্পত্তি বেহাত করে দেবে? গোকুলই বা কোথায়? বেনারসে?
বৌঠাকুরণ এরকম হেঁয়ালি করছেন কেন?
অন্য কেউ হলে এতক্ষণে যা তা কান্ড হয়ে যেত। কিন্তু ইনি সরযূবালা। মেজোকুমারের কাছে রাজমাতার মত গুরুত্ব পান।
সরযূবালা জানেন সেকথা।
ঠাকুরপো যা বলছি একটু মন দিয়ে শোন। জানাজানি হলে কেলেঙ্কারি হবে। ভাওয়ালগড়, বংশের সম্মান ধূলোয় লুটোবে।
এ বংশের পুরুষরা আমুদে তা সবাই জানে। ঢাকা ছাড়িয়ে কলকাতা পর্যন্ত তাঁদের যশের কথা পরিচিত।
তোমারও এ বিষয়ে বিস্তর হাতযশ আছে। এস্টেটের সুন্দরী মেয়ে, বৌ তোমার কাছ থেকে রেহাই পায় না শুনেছি। তা হতেই পারে। ভাওয়াল বংশের কুমার তুমি। রাজপুরুষদের এরকম একটু-আধটু শখ থাকতেই পারে।
কিন্তু তা বলে ভাওয়াল পরিবারের বউ হয়ে এই ব্যাভিচার! এতো ভাবাই যায় না।
এটুকু শুনেই মাথা গরম হয়ে উঠল রমেন্দ্র নারায়ণের।
ছোট বৌয়ের এত সাহস! ছোটকুমার একটু-আধটু আমোদে না হয় ব্যস্তই থাকে। তা বলে, এই?
ভুল করছ রমেন। ঘুণ ধরেছে তোমার ঘরেই।
আমার ঘরে! বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন রমেন্দ্র নারায়ণ।
আমার ঘরে। মানে?
বিভাবতীর গর্ভের সন্তান তোমার নয়। পর পুরুষের সন্তান তোমার ঘরে জন্ম নিতে চলেছে।
তোমাকে বোকা বানানো হচ্ছে রমেন।
কথাগুলো শুনেই মাথায় কেমন যেন খুন চেপে গেলো।
দুঃসাহসটা অন্য কেউ করলে রমেন্দ্র নারায়ণ টুঁটি টিপে শেষ করে ফেলতেন। এরকম কত করেছেন। কিন্তু এযে বৌঠাকুরণ বলছেন।
একি সত্যি?
হঁ্যা সত্যি রমেন। ও সন্তান তোমার নয়, ডাক্তারের। আশু ডাক্তারের।
মাথাটা কেমন যেন ঝিমঝিম করে উঠল রমেন্দ্র নারায়ণের।
রোগটা সেরেছে বটে তবে শরীরের ক্ষত এখনও সারেনি। মানসিক চাপ বাড়লে শরীরটা দুর্বল লাগে।
এখনও তাই হল। ঘামে সারা শরীর ভিজে উঠতে লাগল। অসহায়ভাবে ভারী শরীরটা কেদারায় এলিয়ে দিলেন। বুকটা হাঁপরের মত ওঠানামা করতে লাগল।
অবস্থা দেখে পাংখাওয়ালা জোরে জোরে হাওয়া করতে লাগলেন।
রমেন্দ্র নারায়ণ কিছুক্ষণ ওভাবেই শুয়ে রইলেন। শরীর, মন কিছুটা শীতল হল।
।। ২ ।।
ধান্যকুইলার তান্ত্রিক
নানি সরযূবালার কাছে শোনা পূর্ব পুরুষদের কাহিনী। আর বাল্যকালে নিজের চোখে দেখা, কানের শোনা বেশকিছু ঘটনা। তাও আবার যে সে পূর্ব পুরুষ নয়, বিখ্যাত ভাওয়ালগড়ের কাহিনী। বাল্যকালে চোখের সামনে দেখেছেন ভাওয়ালগড়ের দরবারে ব্রিটিশরাজের রাজকীয় সেই মামলার বিচার। রায় দান।
স্মৃতি মলিন হয়ে এসেছে। পুরনো স্মৃতির ওপর জমে থাকা স্মৃতি ঘেঁটে বলতে শুরু করলেন রত্না চ্যাটার্জি- বিখ্যাত ভাওয়াল রাজা, মেজো রাজা, তার মেজো দাদুর কথা।
বেশ কয়েকদিন কলকাতায় কাটিয়ে দিলেন রমেন্দ্র নারায়ণ। ঢাকায় কাউকে কোনও সংবাদ দিলেন না।
ভাওয়ালে ফেরার স্পৃহাই যেন হারিয়ে ফেলেছিলেন। ঠিক তখনই বড় বৌদি সরযূবালার টেলিগ্রাম পেলেন।
ভাওয়ালে ফেরো। জরুরী। পত্রপাঠ রওনা হও। একদম দেরী করবে না। বিভাবতী, গর্ভের সন্তান তোমার পথ চেয়ে আছে।
চিঠির বয়ান পড়ে আরও ঘাবড়ে গেলেন মেজোকুমার। বৌঠাকুরণ এরকম হেঁয়ালি মার্কা টেলিগ্রাম পাঠালেন কেন?
তিনি তো সবই জানেন। কিছুই তো আর অগোচর নয়। তাহলে?
নতুন কিছু ঘটল?
জরুরীভিত্তিতে মেজোকুমারের জন্য ঢাকার ট্রেনে সেলন কার বুক করা হল।
টেলিগ্রাম পেয়ে প্রথম ট্রেনেই ভাওয়ালে ফিরে এলেন রমেন্দ্র নারায়ণ। কিন্তু কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন।
বারমহলের বদলে অন্দরমহলেই বেশি সময় কাটাতে লাগলেন।
রমেন্দ্র নারায়ণের সঙ্গে বিভাবতীর সোহাগও বাড়তে থাকল। আশু ডাক্তার মাঝে-মধ্যে এসে বিভাবতী আর রমেন্দ্র নারায়ণকে পরীক্ষা করে যায়।
রমেন্দ্র নারায়ণের মনে হয় ওরা ইশারায় কী সব যেন বলাবলি করে। আশু ডাক্তার এলেই খুশির ঝিলিক মারে বিভাবতীর চোখে-মুখে।
বারমহলে আসর এখন আর তেমন জমে না। মোসাহেবরা রোজই আসেন। মেজোকুমারকে মনমরা দেখে ফিরে যান।
এস্টেটে গুজব ছড়াতে শুরু করল- মেজোকুমারের বোধহয় আবার শরীর খারাপ হয়েছে। কলিকাতায় গিয়েছিলেন তো!
খবর ছুটে বেড়াতে লাগলো গড়ের আনাচ-কানাচেও। সে সংবাদ পেলেন সরযূবালাও।
ডেকে পাঠালেন রমেন্দ্র নারায়ণকে।
রমেন তোমার কী শরীর খারাপ হয়েছে?
কি না তো!
কলকাতায় গিয়েছিলে। সেখানে কিছু হয়েছে?
রমেন্দ্র নারায়ণ সবিস্তারে বললেন ব্রিটিশ সার্জেন ডা: ডেভিড লিনের কথা। পরীক্ষার ফলাফলও বললেন।
সরযূবালা সব শুনলেন।
কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর নি:স্তব্ধতা ভেঙে রমেন্দ্র নারায়ণকে জিজ্ঞেস করলেন কী ভাবছো মেজো ঠাকুরপো?
এ ষড়যন্ত্র যে ভাবেই হোক রুখতে হবে। তিল তিল করে গড়ে ওঠা ভাওয়াল এস্টেট এভাবে অন্য কারো হাতে চলে যেতে দেয়া যাবে না।
আমিও তাই চাই।
অন্য রক্তের, বংশের কেউ ভাওয়ালগড়ের সিংহাসনে বসুক তা আমি বংশের বৌ হয়ে কিছুতেই মেনে নিতে পারবো না।
কিন্তু সবকিছু করতে হবে গোপনে। কেউ যেন টের না পায়। বিভাবতী যেন বুঝতে না পারে তুমি সব কথা জানতে পেরেছো। তার সঙ্গে সোহাগের সম্পর্ক রাখতে হবে। এ সময়ে সব স্বামী যেমন করে থাকে। না হলে আশু ডাক্তারও সাবধান হয়ে যাবে।
এখন কী করবো বৌঠাকুরন?
সব ব্যবস্থা আমি করে দেবো। কিন্তু তুমি স্বামী। সুযোগ তুমি পাবে। আসল কাজ তোমাকেই সারতে হবে।
পরামর্শ সেরে রমেন্দ্র নারায়ণ বড় তরফের আনন্দমহল থেকে বের হয়ে এলেন।
কাছারিতে কিছুক্ষণ কাটিয়ে বিকেল বিকেল চলে এলেন অন্দরমহলে। বিভাবতীর সঙ্গে খোশ গল্প শুরু করলেন।
আশু ডাক্তার এসেছিলেন। বিভাবতীকে পরীক্ষা করতে। তাকে কাল আসতে বলে দিলেন মেজোকুমার। অনেকক্ষণ সময় কাটালেন বিভাবতীর সঙ্গে। মেজোরাণী ভাবতে শুরু করলেন রমেন্দ্র নারায়ণ বশীভূত হয়েছেন।
রোজই মন দিয়ে এস্টেটের কাজকর্ম দেখাশুনো করতে থাকলেন মেজোকুমার। কিন্তু ঃ
মন পড়ে থাকত বড় তরফের অন্দরমহলের দিকে। সেখান থেকে সবুজ সংকেত কখন আসবে?
কয়েকদিন বাদে ডাক পড়ল। দ্রুত ছুটলেন মেজোকুমার। নিভৃতে অনেকক্ষণ কথা হল। কাকপক্ষীও টের পেল না কী ঘটতে চলেছে।
পরের দিন সকালে ধান্যকুইল্যার পথে রওনা হয়ে গেলেন মেজোরাণী সরযূবালা। বেলা বাড়তে রওনা হলেন রমেন্দ্র নারায়ণও। সবাই জানলেন তিনি শিকারে যাচ্ছেন।
নাগমা সদরুদ্দিন। তন্ত্র সাধনায় তার নাকি বিরাট হাতযশ। জয়দেবপুর থেকে রওনা হয়ে তার কাছে আগেই পৌঁছে গিয়েছিলেন সরযূবালা। অপেক্ষা ছিল রমেন্দ্র নারায়ণের।
তার কাছে পৌঁছেই সব শুনে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল দুজনের। একি শুনছেন তারা!
বিভাবতী আগেই সেখানে এসেছিল। জড়িবুটি দিয়ে তৈরি ওষুধ নিয়ে গেছে!
প্রাণহরা।
গর্ভবতী মহিলা পর পর তিনদিন খেলে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাবে। আর পূর্ণ বয়স্ক, সুঠাম কোনও পুরুষকে এই বিষ ঘায়েল করতে পারে ৭ দিনেই।
পরিণাম! অবধারিত মৃতু্য।
সেই রাতেই ভাওয়ালে ফিরে এলেন বড়রাণী সরযূবালা। রমেন্দ্র নারায়ণ পরের দিন।
চিন্তায় রাতের ঘুম উড়ে গেল। বিভাবতীর ভাবনা তার ধারণার বাইরে। কী করতে চাইছে সে? নিজের গর্ভের সন্তানকে মারতে বিষ নিয়ে এল? তাহলে সন্তান ধারণই বা করল কেন? রমেন্দ্র নারায়ণকে নপুংসক প্রমাণিত করতে?
এ ভাবনা মনে হতেই মাথায় আগুন জ্বলে উঠল রমেন্দ্র নারায়ণের। কিছু একটা করতেই হবে। এমন অপমান? এযে সহ্য করা যায় না।
ভাবতে ভাবতেই কয়েকদিন কেটে গেল রমেন্দ্র নারায়ণের। এই ক'দিন আরও কাছের মানুষ হয়ে গেলেন মেজোকুমার।
অন্যদিকে বিভাবতী শুরু করলেন তার কাজ। সেই রাত থেকেই শুরু হল ওষুধ প্রয়োগ। গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে নিজের খাওয়াতেই বিষ নিতে শুরু করলেন। কয়েকদিন পর খবর মিলল মেজোরাণীর গর্ভপাত হয়ে গেছে। গর্ভেই সন্তানের মৃতু্য হয়েছে তার।
মেজোকুমারের ভাবনা সত্যি হল। রমেন্দ্র নারায়ণ ঠিক করলেন আবার বিয়ে করবেন। ঘটককে খবর দিলেন পাত্রী ঠিক করতে। বিভাবতীকে শিক্ষা দিতেই হবে। নতুন রাণীর গর্ভে সন্তান আনবেন তিনি। যোগাযোগ করলেন এক কবরেজের সঙ্গেও। কবরেজ তাঁকে আশ্বস্ত করলেন। বলেছেন বছরখানেক চিকিৎসা হলে আবার পৌরুষত্ব ফিরে পাবেন। মেজোকুমার বাবা হতে পারবেন।
খবরটা কানে গেলো আশু ডাক্তার আর বিভাবতীর। রাতের অাঁধারে অন্দরমহলে তাঁরা শুরু করলেন ষড়যন্ত্র। আর নয়। রমেন্দ্র নারায়ণকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। না হলে? ভাওয়াল রাজাদের সম্পত্তি কুক্ষিগত করা তাঁদের অধরাই থেকে যাবে।
পরের দিনই আশু ডাক্তার চলে গেলেন কলকাতায়। ওষুধ আনতে। রমেন্দ্র নারায়ণকে ধীরে ধীরে নিঃস্তেজ করে ফেলতে হবে। তাঁর অজান্তেই। তারপর..
ওদিকে বিভাবতী হাত করে ফেললেন মেজোকুমারের একান্ত সহচরদের একজনকে। সে বারমহলের এক দাসী। তাঁকে ছাড়া মেজোকুমারকে বশিভূত করা সম্ভব নয়। কাজ শুরু করে দিল দাসী। দিন দুয়েকের মধ্যে মেজোকুমারকে আবার এনে ফেলল বিভাবতীয় অন্দরমহলে। রমেন্দ্র নারায়ণ ফিরতেই কেঁদে পায়ে পড়লেন বিভাবতী। শুনলাম তুমি নাকি আবার বিয়ে করছে? আমার সতীন আনবে?
আনবো বৈকি! আমার পৌরুষে সন্তান হবে। সে হবে ভাওয়াল বংশের উত্তরাধিকারী।
আর আমি?
তুমি থাকবে আমার বড়রাণী হয়ে। তোমার মর্যাদা কমবে না।
কেঁদে মেজোকুমারের পায়ে পড়লেন বিভাবতী। নিজের ভুল স্বীকার করলেন। বললেন, বাঁজা কথাটা শুনতে শুনতে মাথা খারাপ হয়েছিল। ডাক্তারকে বলেছিলেন তাঁর চিকিৎসা করতে। যাতে তিনি মা হতে পারেন। সেই সময় উত্তেজনার বশে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু ভাওয়ালের সিংহাসন অন্য বংশের করও হাতে যক এটাও মেনে নিতে পারেননি। তাই নিজের হাতে সেই সন্তান পৃথিবীতে আসার আগেই তিনি সরিয়ে দিয়েছেন। বিভাবতীর স্বীকারোক্তি, কান্নায় নরম হলেন রমেন্দ্র নারায়ণ রায়।
কথা দিলেন বিভাবতীর সতীন আনবেন না।
বিয়ের প্রায় এক যুগ বাদে নতুন করে শুরু হল তাঁদের সংসার। কয়েকদিন পর বিভাবতীকে নিয়ে মহসিন বদ্যির কাছে গেলেন রমেন্দ্র নারায়ণ। তাঁকে ভাল করে পরীক্ষার পর তিনি বললেন, শরীরের যত্ন নিলে কিছুদিনর মধ্যে কমেন্দ্র নারায়ণ পৌরুষ ফিরে পাবেন।
খুশি মনে বাড়ি ফিরে এলেন মেজোকুমার। মন দিয়ে এস্টেটের কাজকর্ম দেখাশুনা করতে লাগলেন। বিভাবতী সঙ্গে কথা বলে ঠিক হল পহেলা বৈশাখের পর বেড়াতে যাবেন। শৈল শহর দার্জিলিংয়ে।
।। ৩ ।।
কালকেউটের বিষ
কয়েক দিন পর ঢাকা ফিরে এলেন আশু ডাক্তার। সেখানে কিছু কাজ সেরে ভাওয়ালে ফিরেই দেখা করলেন মেজোকুমারের সঙ্গে।
কিছুক্ষণ বাদে এলেন বিভাবতী। চোটপাট শুরু করলেন তাঁর ওপর। দাস-দাসীদের সামনেই তাঁকে অপমান করলেন। জানিয়ে দিলেন মেজোকুমারের চিকিৎসা ঠিক মত না হলে তাঁর আর ভাওয়ালে থাকার দরকার নেই। মাস খানেকের মধ্যেই চিকিৎসায় ফল না মিললে অন্যত্র চাকরি দেখতেও বলে দিলেন। বিভাবতীকে কোনও মতে আস্বস্ত করলেন রমেন্দ্র নারায়ণ।
ঘটনার পর থেকে আশু ডাক্তার মেজোরাণী বিভাবতীর থেকে একটু দূরত্ব রেখেই চলতে শুরু করলেন। রমেন্দ্র নারায়ণকে ভিজিট করে, ওষুধ দিয়েই চলে যেতেন নিজের নির্ধারিত ঘরটিতে। সেখানেই থাকতেন বেশির ভাগ সময়। অন্দরমহলের কাছ ঘেঁষতেন না।
কয়েক দিনের মধ্যে মেজাকুমারের স্বাস্থ্য ফিরতে লাগল। আশু ডাক্তারের নতুন ওষুধে কাজ হচ্ছিল ভালই। দ্রুত চাঙ্গা হয়ে উঠছিলেন। তার ওপর বিভাবতীর স্বভাবে অভাবনীয় পরিবর্তন। বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন রমেন্দ্র নারায়ণ।
এতে শঙ্কিত হয়ে উঠতে শুরু করলেন বিভাবতী। এ কী হচ্ছে? আশু ডাক্তার কী সত্যিই তাঁর চেঁচামিচিতে ভয় পেয়ে ঠিক ওষুধ দিতে শুরু করল?
জানারও কোনও উপায় নেই। কারণ আশু ডাক্তার তখন সত্যি সত্যি-ই আর অন্দরমহলের কাছ ঘেঁষছিল না।
কয়েক দিন এভাবে চলার পর আর না পেরে বিভাবতী একদিন গভীর রাতে চুপিচুপি তলব করলেন আশু ডাক্তারকে।
বললেন, এসব কী হচ্ছে? আমরা তো অন্য পরিকল্পনা করেছিলাম। মেজোকুমার তো সুস্থ হয়ে উঠছেন। কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে কি আশু ডাক্তার কী যেন বললেন। সেকথা শুনে খুশির ঝিলিক মেরে গেলো মেজোরাণীর চোখে, মুখে। একান্তে কিছু সময় কাটিয়ে চলে গেলেন আশু ডাক্তার। কেউ টের পেলো না এসব কথা।
তলে তলে তখন অন্য পরিকল্পনা চলছিল।
মেজোকুমারকে নতুন ওষুধ দিয়ে চাঙ্গা করার পর পরিকল্পনামাফিক শুরু হল কাজ। আসলে উদ্দেশ্য। ছিল মেজোকুমারের মাথা থেকে সন্দেহ সরিয়ে দেওয়া। তা করে শুরু হল আসল ছক। সেই ছকে কাহিল হয়ে পড়লেন রমেন্দ্র নারায়ণ।
ওষুধের সঙ্গে শুরু হল বিষ প্রয়োগ।
আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়তে শুরু করলেন মেজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়। ক্ষীণ হতে থাকলেন দিনকে দিন। পরামর্শের জন্য কলকাতায় তার করা হল এই ইংরেজ সার্জেনকে। মেজোকুমারের শারীরিক পরস্থিতি বিবেচনা করে সার্জেন নিদান দিলেন তাকে হাওয়া বদলের জন্য দার্জিলিং নিয়ে যেতে। শীতল পরিবেশে তার শরীর ভাল হবে।
হাসি ফুটল বিভাবতীর মুখে। এটাই তো তিনি চেয়ে ছিলেন। জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা হল।
কয়েকদিন পর এক সকালে অল্প কয়েকজন কর্মচারী, রাঁধুনিকে নিয়ে দার্জিলিং যাত্রা করলেন মেজোকুমার। সঙ্গে বিভাবতী আর আশু ডাক্তার মানে অতুল চন্দ্র দাশগুপ্ত।
দার্জিলিংয়ে ম্যালের পাশে আগে থেকেই 'স্টেপ অ্যাসাইড' বাড়িটি ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিল।
শৈল শহর দার্জিলিংয়ে পেঁৗছানোর পর প্রথম কয়েক দিন একটু ভালর দিকেই ছিল মেজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়ের। ভাওয়ালে খবর গেলো সেরে উঠছেন মেজোকুমার। খবর পেয়ে সবাই খুব খুশি। রাজা ভাল হয়ে উঠছেন।
টেলিগ্রাম ছাড়ার পর শুরু হল ষড়যন্ত্রের শেষ ধাপ। মেজোকুমারকে বিষ প্রয়োগ শুরু করলেন আশু ডাক্তার। তার আর বিভাবতীর সেই ষড়যন্ত্রে সাক্ষী হলেন কয়েকজন কর্মচারীও। তবে মেজোকুমারের প্রিয় রাঁধুনিকে তারা বশ করতে পারলেন না। ফলে ওষুধের সঙ্গে দেওয়া কালকেউটের বিষ।
অল্প করে বিষের প্রভাবে ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে শুরু করলেন মেজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণ রায়।
আর কত দিন এভাবে চলবে?
আর দুইটে দিন। তারপর শেষ খেলা।
বিভাবতী আর আশু ডাক্তারের কথোপকথন শুনে ফেললেন খানসামা। পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখে ফেললেন আশু ডাক্তার। খানসামাকে বলে দিলেন একথা ঘুণাক্ষরেও কেউ জানলে তোমার আর ভাওয়ালে ফিরতে হবে না। এই পাহাড়েরই খাদে পড়ে থাকবে তোমার লাশ।
তবে প্রাণ ভয় উপেক্ষা করে গোপনে মেজোকুমারকে জানিয়ে দিলেন এই ভয়ানক ষড়যন্ত্রের কথা।
কিন্তু তার আগেই ঘটে গেছে শেষ অঙ্ক। কড়া ডোজের কালকেউটের বিষে ঝাপসা হতে শুরু করেছে মেজোকুমারের চোখ-মুখ। নেতিয়ে পড়ছে তার শরীর।
সেই সময় ঘরে এলেন আশু ডাক্তার আর বিভাবতী। মেজোকুমারকে পরীক্ষা করে বিভাবতীকে বললেন, কাজ হয়ে গেছে। অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন দু'জনে।
কাঁদতে শুরু করলেন মেজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণ। বাঁচার আর্তনাদ তখন তার গলায়। বললেন, আমি তোমাদের কী ক্ষতি করেছি। আশু ডাক্তারের হাত ধরে ফেললেন। বললেন, ডাক্তার আমাকে বাঁচাও। আমি বাঁচতে চাই।
আশু ডাক্তার বললেন, তুমি বেঁচে থাকলে আমার ভাওয়ালের রাজা হওয়ার কী হবে! তুমি থাকতে তো আমি রাজা হতে পারবো না। তাই মরতে তোমায় হবেই।
বিভাবতী আমি বাঁচতে চাই। আমি তোমার স্বামী। আমায় তুমি বাঁচাও। মেজোরাণীও তার কথা শুনলেন না।
বললেন, তুমি পৌরুষত্বহীন। কী দিয়েছো আমায়? দিনের পর দিন তোমার জন্য বাঁজা অপবাদ শুনতে হয়েছে আমায়। সোনা, গহনা, রাজত্ব আমি চাইনি। চেয়ে ছিলাম। স্বামী, সংসার আর সন্তান। কোনোটাই তুমি আমায় দিতে পারোনি।
স্বামী তুমি নামেই। রাতের পর রাত অপেক্ষা করেছি। ফেরোনি। যে দিন এসেছো সেদিন এসেছে তোমার নিঃসাড়, মত্ত দেহ। কেন তোমায় ক্ষমা করবো।
আজ তোমায় দেখাবো জীবনের চরম সত্য।
এরপর তাঁর চোখের সামনে সম্ভোগে মত্ত হয়ে উঠলেন মেজোরাণী আর আশু ডাক্তার। মেজোকুমার ধীরে ধীরে ঢলে পড়লেন। তাঁর চোখ দুটো বন্ধ হয়ে পড়ল। তাঁর শরীর ঠাণ্ডা হতে থাকলো।
ঠান্ডায় বিষক্রিয়া হতে দেরি হয়। তাই মেজোকুমারের মৃতু্যর জন্য অপেক্ষা না করে সেই রাতেই তড়িঘড়ি দার্জিলিংয়ের এক ব্রিটিশ সার্জেনকে দিয়ে 'ডেথ সার্টিফিকেট' লিখিয়ে নিয়ে আসলেন আশু ডাক্তার। তারপর কয়েকজন কর্মচারীর সাহায্যে সেই ঝড়জলের রাতেই দার্জিলিংয়ের শ্মশানে নিয়ে গেলেন রমেন্দ্র নারায়ণকে দাহ করার জন্য।
এতকিছু যখন চলছে তখন বিশ্বস্ততার পরিচয় দিলেন প্রিয় খানসামা। আশু ডাক্তার আর বিভাবতী সেই ঘর থেকে বেড়িয়ে যেতেই সকলের অলক্ষ্যে মেজোকুমারের মুখে ঢেলে দিলেন বিষের প্রতিষেধক।
শ্মশানে যখন মোজোকুমার রমেন্দ্র নারায়ণকে খাটে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখনও তিনি জীবিত। মাঝেমধ্যে গোঙানীর শব্দ বের হচ্ছিল তাঁর মুখ দিয়ে।
ঝড়জল, বজ্রপাতের শব্দ আর শববাহকদের নাম গানে তা চাপা পড়ে গেলো।
============================
আলোচনা- 'বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা' by বেলাল চৌধুরী  আলোচনা- 'শিল্প সৃষ্টি ও নান্দনিকতা' by আহমদ রফিক  আলোচনা- ''স্বর্ণকণা শোভে শত শত' মদির গন্ধভরা কণ্টকফল by মুহম্মদ সবুর  বিশেষ রচনা :ওমর খৈয়াম by ড. শামসুল আলম সাঈদ  নাটক- 'বিম্বিত স্বপ্নের বুদ্বুদ' by মোজাম্মেল হক নিয়োগী  গল্প- 'জয়া তোমাকে একটি কথা বলবো' by জাহিদুল হক  গল্প- 'নতুন বন্ধু' by আশরাফুল আলম পিনটু  গল্প- 'টপকে গেল টাপ্পু' by ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থ  গল্প- 'নাচে বানু নাচায়রে' by আতা সরকার  গল্প- 'রূপকথার মতো' by নাসির আহমেদ  গল্প- 'বিয়ে' by আর্নল্ড বেনেট  গল্প- 'মাদকাসক্ত' by আলী ইদ্রিস  গল্প- 'বেঁটে খাটো ভালোবাসা' by রেজানুর রহমান  কবর by জসীম উদ্দীন (পল্লীকবি)  গল্প- 'নদীর নাম চিলমারী' by নীলু দাস  গল্প- 'লাউয়ের ডগা' by নূর কামরুন নাহার  গল্প- 'অপূর্ব সৃষ্টি' by পারভীন সুলতানা গল্প- 'ঊনচলিস্নশ বছর আগে' by জামাল উদ্দীন  গল্প- 'সুচ' by জাফর তালুকদার   গল্প- 'বাসস্ট্যান্ডে যে দাঁড়িয়েছিল' by ঝর্না রহমান  গল্প- 'গন্না' by তিলোত্তমা মজুমদার  গল্প- 'ঘুড়িয়াল' by শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়  গল্প- 'প্রক্ষেপণ' by মোহিত কামাল  গল্প- 'গন্তব্য বদল' by রফিকুর রশীদ  গল্প- 'ঝড়ের রাতে' by প্রচেত গুপ্ত  গল্প- 'শুধু একটি রাত' by সাইপ্রিয়েন এক্ওয়েন্সি। অনুবাদ বিপ্রদাশ বড়ুয়া  গল্প- 'পিতা ও কুকুর ছানা' by হরিপদ দত্ত  স্মরণ- 'শওকত ভাই : কিছু স্মৃতি' by কবীর চৌধুরী 


দৈনিক ইত্তেফাক এর সৌজন্য
লেখকঃ  তারিক হাসান


এই আলোচনা'টি পড়া হয়েছে...
free counters

No comments

Powered by Blogger.