ইনহাস্ত ওয়াতানাম- এ তো আমার জন্মভূমি by অজয় দাশগুপ্ত

'জন্ম আমার বরিশালের শিকারপুরে, বেড়ে উঠেছি বর্তমান ভারতের মুম্বাইয়ে, কর্মস্থান কখনও ইংল্যান্ড, কখনও যুক্তরাষ্ট্র, কখনও-বা সুইডেন। কিন্তু আমি বাঙালি আছি'_ এভাবেই বলছিলেন জ্যোতি চট্টোপাধা্যায়। খ্যাতিমান বিজ্ঞানী। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার মান বাড়ানোর বিষয়ে একটি কর্মসূচির অধীনে ঢাকায় এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের আমন্ত্রণে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে আলোচনার এক পর্যায়ে তাকে বলেন মনের কথা_ 'বরিশালের জন্য মন বড় কাঁদে, ব্যাকুল হয়।' উপাচার্য সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ারকে বিষয়টি জানান এবং তার পরামর্শেই জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য হাজির হই ঢাকায় তার অবস্থানস্থলে। সেখানে অপেক্ষা করছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এসএম আবদুর রহমান। একটু পরেই হাজির হলেন সৌম্য কান্তি হাশিখুশি জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। আমিও 'বরিশাইল্যা' বলে বসতে না বসতেই প্রশ্ন করি_ কোথায় শিকড়? কবে ছেড়েছেন বরিশাল? সহাস্যে খানিকটা ইউরোপীয় ঢঙে বলেন_ শিকড় শিকারপুরে। মাত্র ৬ মাস বয়সে ছেড়েছি জন্মস্থান। ঠাকুরদার নাম কালীচরণ চট্টোপাধ্যায়। বাবা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মস্ত জমিদার পরিবার। জমিদারি কেবলই স্মৃতিতে, হা-হুতাশে! উত্তরে জানালেন_ 'বাপ-দাদা' বুঝতে পেরেছিলেন_ জমিদারি নয়, ব্যবসাতেই উন্নতি। কিন্তু আমি ব্যবসাতেও নেই, মনোযোগ দিয়েছি পড়নে-পঠনে। পরিবার কীভাব চলবে, সেটা নিয়ে কখনও উদ্বেগে পড়িনি। নির্ভাবনায় পড়তে পেরেছি। কানাডার টরন্টোতে পড়েছি। কেমব্রিজ থেকে ডিএসসি করেছি। সেখানে ছয় বছর শিক্ষকতাও করেছি। তবে সবার তো এমন সৌভাগ্য হয় না। কত প্রতিভা ঝরে পড়ে! পূর্ব বাংলা থেকে চলি্লশ ও পঞ্চাশের দশকে যেসব মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবার ভারত ভূখণ্ডে গিয়েছে তাদের অনেকের জীবন কেটেছে অশেষ ক্লেশ-কষ্টে। সব হারিয়ে তারা উঠেছেন উদ্বাস্তু শিবিরে। মার্কস লিখেছেন_ সর্বহারার শৃঙ্খল ছাড়া হারানোর কিছু থাকে না। কিন্তু জয় করার জন্য আছে সারাবিশ্ব। সব হারিয়ে যা পাওয়া যায় সেটাই তো বাড়তি পাওনা। কাজী নজরুল ইসলাম সর্বহারাদের জয়গান গেয়েছেন।
শিকারপুর সুগন্ধ্যা নদীর তীরে, পাশেই রয়েছে আরেকটি সুন্দর নামের নদী_ সন্ধ্যা। আমন্ত্রণ জানাই_ যাবেন নাকি_ 'আমাদের ছোট গায়ে'? শিকারপুরে? তাকে বলি_ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক পার্থ দাশগুপ্ত বাংলাদেশের এক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়ে অনুরোধ করেছিলেন_ জন্মস্থান গৈলা (বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায়) নিয়ে যেতে হবে। তার অনুরোধ রাখা হয়েছিল। গৈলা শুনেই বলে উঠলেন জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়_ গৈলা-ফুল্লশ্রী। মায়ের কাছে শুনেছি। মনসা মঙ্গলের কবি বিজয় গুপ্তের জন্মস্থান। তিনি শ্রাবণ মাসে মনসা মঙ্গল সুর করে পাঠ করতেন। তাকে জানাই_ বিজয় গুপ্তের মন্দিরে এখন প্রায় এক টন ওজনের পেতলের তৈরি মনসা দেবীমূর্তি স্থাপিত হয়েছে। মন্দিরটি নির্মিত হয়েছে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রণে। প্রচুর দর্শনার্থীর সমাগম হয় প্রতিদিন। সহাস্যে বলেন_ এবারে তো শিকড়ে যাওয়া হবে না। তবে বাংলাদেশে আবার আসতেই হবে।
শিকড়ের সন্ধানে এভাবে কতজনেই না ছুটে আসে। মনে পড়ে যায় সৈয়দ মুজতবা আলীর গল্পের 'বাস্তব চরিত্র' আফগানিস্তানের আবদুর রহমানের কথা। আমরা স্কুলে পড়েছি_ ইনহাস্ত ওয়াতানাম। এই তো আমার জন্মভূমি। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন_ বহুদিন ধরে বহু পথ ঘুরে বহু ব্যয় করে বহু দেশ ঘুরে /দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু/ দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/একটি ধানের শীষের উপর একটি শিশিরবিন্দু। বরিশালের কবি জীবনানন্দ দাশ রূপসী বাংলার ধানসিঁড়ি নদীটির তীরে বারবার ফিরে আসতে চেয়েছেন। তার মা গৈলার আরেক কৃতী সন্তান কুসুমকুমারী দেবী 'আদর্শ ছেলে' কবিতায় আকুতি প্রকাশ করেছেন_ 'আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।' শিকারপুরের জ্যোতি এখন বিশ্বজুড়ে আলোকের দ্যুতি ছড়াচ্ছেন। কথায় নয়, কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আমাদের আলোচনার এক পর্যায়ে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক আবদুর রহমান জানালেন, তাদের আমন্ত্রণে এসেছেন জ্যোতি চট্টোপাধা্যায়। কিন্তু আমন্ত্রণ পেয়েই বলেছেন_ আমার যাবতীয় ব্যয় আমিই মেটাব। এ বাবদ বরাদ্দ অর্থ আপনারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য ব্যয় করবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনপ্রিয় উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানান, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে খ্যাত এ প্রতিষ্ঠানে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রিজোন্যান্স (এনএমআর) সরঞ্জাম তিনি বিনামূল্যে সরবরাহ করবেন। এর ফলে গবেষণা কাজে প্রভূত সহায়তা হবে। কেমিক্যাল বায়োলজি ও ডিএনএ গবেষণা ল্যাব স্থাপনেও তিনি সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
জন্মভূমি বাংলাদেশের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি_ শিক্ষা, পানি ও গবেষণা। রসায়নের ছাত্র হিসেবেই জানি_ পানি ছাড়া প্রাণের অস্তিত্ব নেই। আমাদের শরীরের বেশিটাই পানি। পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগ পানি। সবাইকে খেতে হবে বিশুদ্ধ পানি। এটাই অগ্রাধিকার। বাংলাদেশে এ ক্ষেত্রে প্রচুর অগ্রগতির খবর তিনি রাখেন। কিন্তু এখনও যে অনেক পথ বাকি, সে তাগিদ তিনি জানিয়ে রাখলেন। দরিদ্রদের সমস্যা এ ক্ষেত্রে বেশি। যাদের অর্থবিত্ত আছে তারা যত দামই পড়ূক পানি কিনে খেতে পারে। ঢাকার ধনবান ও মধ্যবিত্তের এ ক্ষেত্রে সমস্যা কম। তাদের জন্য ওয়াসা আছে। দরিদ্রদের কষ্ট লাঘবের আয়োজন চাই। গ্রামের কথাও ভাবতে হবে। নদীর পানি, মাটির নিচের পানি_ সর্বত্র দূষণের হানা। রাজনীতিকরা এটাকে প্রধান সমস্যা মনে করেন না। তারা দেশের কোথায় কত উন্নতি হয়েছে তার ফিরিস্তি দেন। ভারতেও একই সমস্যা। তারা পারমাণবিক বোমা বানাতে পারে। কিন্তু কোটি কোটি পরিবারে খাবার পানি পেঁৗছাতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভারত সফর করে গেলেন। পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতার চুক্তি হয়েছে। আরও অনেক চুক্তি হয়েছে। কিন্তু দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে তা কী প্রভাব ফেলবে? নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অমর্ত্য সেন এসব সমস্যা ভালো বোঝেন। তিনি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বছরের পর বছর ধরে জোর দিয়ে চলেছেন। একই সঙ্গে বলছেন খাদ্যের দাম কমাতে।
বাংলাদেশে এসে কী খেলেন_ এমন প্রশ্ন রাখি জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। তার জন্মস্থান বরিশালের শিকারপুরের সুগন্ধ্যা নদীতে এক সময়ে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ত। তিনি জানালেন, ভাত বা আলুতে তার আগ্রহ নেই। কার্বোহাইড্রেট একদম নয়। প্রতিদিন সবজি খান প্রচুর। আর পছন্দ মাছ। ঢাকায় সরষে ইলিশ খেয়েছেন দিনে দু'বার করে। দারুণ স্বাদ। এ মাছের তুল্য আর কিছু নেই।
বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কাজ করছে, সে খবর তার জানা আছে। সুইডেনে যে পোশাক কিনেছেন তাতে মেড-ইন বাংলাদেশ স্টিকার লাগানো। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময়ও কিনেছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক। যারা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক কিনে নেন, তারা প্রচুর মুনাফা করেন। বঞ্চিত হয় শ্রমিকরা। শিশু নেই কোনো কারখানায়। কিন্তু বিভিন্ন কারখানায় মেশিন চালাচ্ছে যারা কিংবা বোতাম লাগাচ্ছে বা কারুকাজ করছে, তাদের অনেকের বয়স স্কুলে যাওয়ার। কাজ না করলে খাবে কী, এ কারণেই তারা কারখানায় যাচ্ছে দলে দলে। আবার তিনি ফিরে গেলেন ওবামার ভারত সফর প্রসঙ্গে। তিনি প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দু'বার ভারত সফর করেন। কিন্তু বাংলাদেশে আসেন না। কারণ ভারতে রয়েছে বিশাল মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী, যাদের কাছে পণ্য বিক্রি করার চমৎকার সুযোগ আছে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা আছে, সেটাই কাজে লাগাতে সচেষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশে এমন বড় বাজার নেই, তাই সফরের উৎসাহ নেই।
ভারতে সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং তাদের আদ্যোপান্ত খবর রাখেন জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। বিজেপি এবং তাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রদায়িক বিভাজনের রাজনীতি তার পছন্দ নয় মোটেই। তিনি ভারতকে সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবেই দেখতে চান। ধনী ও গরিবের জন্য যেমন ভিন্ন নিয়ম বা ব্যবস্থা চান না, তেমনি ধর্মের কারণেও বৈষম্য সমর্থন করেন না।
বাংলাদেশের তিন দিকে ভারত, আরেকদিকে সমুদ্র। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানের প্রাপ্য পানি রেখে দেওয়া নয়, বরং তিস্তা ও অন্যান্য যৌথ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ অব্যাহত রাখতে হবে। এটা কি জন্মভূমির প্রতি টান_ এ প্রশ্নে সহাস্যে বলেন, 'আমার তো হারানোর কিছু নেই।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কাজে আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। কোনো প্রকল্প শুরু থেকে অব্যাহত সহায়তা দিয়ে যেতে হবে।
রাত বাড়তে থাকে। পরদিন সকালে তাকে বিমান ধরতে হবে। বিদায় নেব কিনা, এমন ভাবনা কাজ করছিল। তিনি সম্ভবত সেটা বুঝতে পারলেন। বললেন, রাত নিয়ে ভাবনা নেই। বাংলাদেশ কি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট কষ্ট সহ্য করেনি? ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ লোক প্রাণ দিয়েছে। আর কত যন্ত্রণা সহ্য করবে? এ দেশ যারা পরিচালনা করছেন তাদের এ দেশের মানুষের সমস্যা ভাবতেই হবে। এখানে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আরও হতে পারত। নারীরা এগিয়ে আসছে। শিক্ষার প্রসার ঘটছে। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে আর্থ-সামাজিক অবস্থা আরও ভালো থাকত বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস। এখনও মুজিবের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। কীভাবে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে, সেটাই রাজনীতিকদের সামনে প্রধান কাজ। তিনি বলেন, জন্মভূমিতে এসেছি। রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল আপনাদের দুই প্রিয় কবি। আমার কাছে আরও একজন কবি প্রিয়_ মুজিব, বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ জেগে উঠবেই। এজন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে মানুষের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য। বাংলাদেশের তরুণরা স্বপ্ন দেখে। পাঁচটি সেমিনারে অনেক ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের চোখে-মুখে দেখেছি জ্যোতি। তাদের যদি আপনাদের নেতৃত্ব কাজে লাগাতে না পারে, তাহলে বাইরে চলে যাবে। ব্রেনড্রেন হবে। আমি বলব তরুণদের_ দেশে থাকুন, স্বপ্ন পূরণ হবেই। তাদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ।
বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই ছিল তার সফর। হরতাল-অবরোধ তার চলার পথে তেমন বিঘ্ন ঘটাতে পারেনি। কিন্তু উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করেছেন অনেকের মধ্যে। কোথায় চলেছে দেশ, সে প্রশ্ন শুনেছেন। এমনও শুনেছেন_ রাজনীতিকরা শুধু ঝগড়া করে। বিদেশিদের কাছেও এটা শুনেছেন। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে। তবে একান্তে ওইসব দেশের কূটনীতিকরা এটাও বলেন_ এরা যে ঝগড়া-কাজিয়া করে, সেটা বেশ ভালো। কারণ, তখন আমাদের ডাকে এবং সালিশ মানে। 'জন্মভূমিকে' এমন অবস্থায় দেখতে চান না বিশ্বখ্যাত বাঙালি অধ্যাপক জ্যোতি চট্টোপাধ্যায়। তার কাছে এটাই ইনহাস্ত ওয়াতানাম_ শয়নে স্বপনে নিশি জাগরণে এর সমৃদ্ধি ও কল্যাণই তার একান্ত কামনা।
সাংবাদিক
ajoydg@gmail.com

No comments

Powered by Blogger.