প্রতিবেশীর বন্ধু হয়নি ভারত by জসিম উদ্দিন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ার ক্রয় করা নিয়ে ভারতের জোর চেষ্টাকে অন্য অনেক কিছুর মতো বাড়াবাড়ি মনে হয়েছে। ২০১৬ সালের মধ্যে কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের কাছে ডিএসইর সংরক্ষিত ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাধ্যবাধকতা ছিল। বিনিয়োগকারী না পাওয়ায় চলতি বছরের ৮ মার্চ পর্যন্ত সময় বর্ধিত করা হয়। চীন ও ভারতের নেতৃত্বে দুটো কনসোর্টিয়াম বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখায়। ডিএসইর শেয়ার বিক্রি নিয়ে ভারতের শেয়ারবাজার ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিক্রম লিমা ঢাকায় এসে ভারতের ‘বড় ভাই’সুলভ আচরণ প্রদর্শন করেন।
একটি পত্রিকা লিখেছে, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমানের সাথে বৈঠক করে শেয়ারবাজারের অংশীদার হতে তিনি নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করেছেন। তিনি কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) দিয়ে ডিএসই বোর্ডকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে চাইলেন। এই সময় তিনি এমনভাব ও ভাষার প্রয়োগ করেছেন, যেটা শোভন ছিল না। প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বৃহৎ এ দেশটির বিভিন্নপর্যায়ের কর্মকর্তাদের এমন ‘বড় ভাই’সুলভ আচরণ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের মানুষের মনে অনাস্থা সৃষ্টি করেছে। গোটা অঞ্চল ভারতীয় চাপাচাপির বিপক্ষে হাঁসফাঁস করছে। চীনের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উত্থান ‘বড় ভাই’সুলভ আচরণকে অকার্যকর করে দিচ্ছে। সর্বশেষ খবর হচ্ছে, চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে যথানিয়মে শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসইর বোর্ডসভা। সোমবার বিকেলে বোর্ডের এক সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ সপ্তাহের মধ্যে পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত বিএসইতে পাঠানো হবে। অনুমোদন পেলে চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রি শুরু হবে। ‘ছোট ভাই’য়ের সম্পদ যে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে কিনতে হবে, এমন চেতনা আমাদের প্রতিবেশীরা হারিয়ে ফেলেছে। চীনা কনসোর্টিয়াম ২৫ শতাংশ শেয়ার প্রতিটি ২২ টাকা করে কেনার আগ্রহ দেখায়। এর পাশাপাশি ৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কারিগরি সহায়তা দেয়ারও প্রস্তাব দেয়। অপর দিকে ভারতীয় কনসোর্টিয়াম মাত্র ১৫ টাকা দরে প্রায় একই সংখ্যক শেয়ার কেনার প্রস্তাব দেয়। কারিগরি সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হলেও অর্থের পরিমাণ কত হবে, ভারতীয় কোম্পানি সেটা উল্লেখ করেনি। দরপত্র খোলার পর স্বাভাবিক নিয়মে ডিএসই চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব গ্রহণ করে। কারণ, প্রতিটি শেয়ারে তারা সাত টাকা করে বেশি দেবে। একই সাথে ৩৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা প্রস্তাবও তাদের রয়েছে; কিন্তু ভারতীয় কনসোর্টিয়াম এ নিয়ে জবরদস্তি লবিং করার অবাঞ্ছিত কৌশল অবলম্বন করে। তারা সরকারের ভেতর থেকে চাপ প্রয়োগ করার অন্যায্য চেষ্টা চালায়। এমন বহু চাপানো লবিং সরকারের অভ্যন্তরে ভারতীয় মধ্যম ও নিচু পদের আমলারা করেছেন, যা অনেকবার দৃশ্যমান হয়েছে। কম দিয়ে কৃপণতা করে নিজেদের সঙ্কীর্ণমনা হিসেবে বাংলাদেশের কাছে ভারত উপস্থাপন হয়েছে। ভারতের নেতা ও আমলারা হীনম্মন্যতা দেখালেও সম্ভবত দেশটির সাধারণ মানুষ এমন অনুদার নন। ট্রানজিট-ট্রান্সশিপমেন্ট নেবে, ট্যাক্স-কর ও মাশুল দেবে না। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করবে, উপযুক্ত অর্থ খরচ করবে না। বাংলাদেশে পণ্য রফতানির স্পেশাল সুযোগ নেবে; কিন্তু বাংলাদেশী পণ্য আমদানিতে বাধা দেবে- এ ধরনের মানসিকতার পক্ষে ওকালতি করার জন্য বাংলাদেশে তাদের সমর্থকগোষ্ঠীও রয়েছে।
সরকারের একেবারে শীর্ষ উপদেষ্টাদের এমন মন্তব্য করতে দেখা গেছে, মাশুল চাওয়ায় তিনি রীতিমতো লজ্জা পেয়েছিলেন। এমন লজ্জার বিষয়টি আসলে কী, জাতি সেটা বুঝতে পারেনি। কারণ, লেনদেন হবে অর্থনৈতিক লাভালাভের ভিত্তিতে। ভূমি, বন্দর ও রাস্তাঘাট ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশকে কোনো ধরনের কর-মাশুল দেবে না ভারত। অন্য দিকে বাংলাদেশী পণ্য যাতে দেশটিতে সহজে প্রয়োগ করতে না পারে, সেজন্য মাশুল ও করের পাশাপাশি অশুল্ক নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়। পোশাক শিল্প ও পাট শিল্পে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা অথচ এ ক্ষেত্রে ভারত সহযোগী হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনাময় এসব খাতে দুর্যোগের কারণ হিসেবে প্রতিবেশী দেশের অবন্ধুসুলভ আচরণকেই দেখতে পান বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা। এ অঞ্চলে দুধ, ডিম ও গোশতের চাহিদা পূরণে বড় দেশটি বাংলাদেশের মতো ছোট দেশের সাথে সমন্বয় করে কাজ করতে পারত। সেখানে বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্প কোমর সোজা করে দাঁড়াতে না পারার জন্য ভারতের ডাম্পিংকে দায়ী করা হচ্ছে। ফল, সবজি ও মাছ ফরমালিন ও কার্বাইড দিয়ে বাংলাদেশের বাজার ছেয়ে ফেলা হয়। অনেকে এসব ব্যাপারে এমন ধারণা পোষণ করেন যে, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও খাওয়ার অনুপযুক্ত এসব খাদ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে ডাম্পিং করা হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের হাহাকারের সময় স্বাভাবিক দামে ভারতের কাছ থেকে এগুলো পাওয়া যায় না, বরং এমন সুযোগের অপব্যবহার করা হয় অতিমুনাফা লুটে নিতে। সঙ্কীর্ণ চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠতে পারলে চীনের কারণে আজ ভারতকে এতটা উদ্বিগ্ন হতে হতো না। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশের সাথে জোরজবরদস্তি করে জোট করার বাড়তি চেষ্টা চালাতে হতো না। বন্ধুত্বের কারণে প্রতিবেশীরা সব সময় ভারতের সাথেই থাকত। সেই বন্ধুত্বের নজির প্রতিবেশীরা পায়নি। বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় একজন শীর্ষ নেতা অপহৃত হওয়ার পর ভারতে তাকে পাওয়া গেছে। সেখানে একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সমবেদনা ও সহযোগিতা পাওয়ার বদলে তিনি হয়ে গেলেন আসামি। বাংলাদেশে বিচারালয়ে সাক্ষ্য দিতে এসে হাওয়া হয়ে যান সাক্ষীরা। তাদের পাওয়া যায় ভারতীয় কারাগারে। দেশটির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বাংলাদেশী নির্যাতিত মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় কোনো কাজে আসে না। এ দেশে সেভেন মার্ডার করে ঘাতকেরা আশ্রয় খোঁজে ভারতে গিয়ে। বাংলাদেশী তরুণদের জন্য সীমান্তে রয়েছে চোলাই মদের কারখানা।
সীমান্তের বাংলাদেশীরা পাখি শিকারের মতো বর্বরতার টার্গেট হন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিপুল অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে। কিন্তু ভারত এ দেশে মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য দাঁড়ায়নি। সার্বজনীন মানবাধিকার নিয়ে কথা বললে এ দেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হন না। বাড়তি হিসেবে সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়, তখন তারা রাজনৈতিক বিরোধীদের হেনস্তা করতে পারেন না। উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, হামলার শিকার যখন কোনো হিন্দু ধর্মাবলম্বী হন, তখন ভারতের বিপুল উৎসাহ ও তৎপরতা লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটে রাজনৈতিক কারণে। এ অবস্থায় গণতান্ত্রিক ভারতের মানবাধিকার কেন শুধু একটি সম্প্রদায়ের জন্য প্রযোজ্য হবে? অথচ সংখ্যালঘু নির্যাতনের ইস্যুটি যদি সামনে আনা হয়, তবে উপমহাদেশে ভারত সবার আগে এবং সর্বাধিক অভিযুক্ত হবে। দেশটিতে ক্ষমতাসীনেরা সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর ব্যাপকভাবে অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে আসছে। গো-রক্ষার জন্য ভারতে মুসলিম নাগরিক হত্যা করতে দ্বিধা করা হয় না। এসব ইস্যুতে মালদ্বীপ, পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে কোনো তৎপরতা দেখানোর সুযোগ পায় না। একইভাবে সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান ও অন্য ধর্মের মানুষেরা নানাভাবে ভারতে নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পর্ক বাড়ানোর আন্তরিক প্রয়াস ভারতের পক্ষ থেকে অন্তত গত ১০ বছরে দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষ দেখতে পেয়েছে যে, ভারত বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করে নিয়েছে। এই দলকে ক্ষমতায় রাখতে তারা অশোভন হস্তক্ষেপ করেছে। বাংলাদেশের মানুষ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি। ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংয়ের কার্যক্রম কোনোভাবে শোভন ও সঙ্গত ছিল না। নির্বাচনের কয়েক দিন আগে ২৪ ঘণ্টার এক সফরে দিল্লি থেকে একটি স্পেশাল ফ্লাইটে তিনি ঢাকায় আসেন। তিনি ক্ষমতাসীন নেত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠক করেন। ওইসব বৈঠকের পর তার বক্তব্য ছিলÑ ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে এ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হতেই হবে।’ তখন তিনি বলেছিলেন, বেশির ভাগ দল নির্বাচনে অংশ নিলেই হয়ে যাবে। প্রধান দল বিএনপি অংশ না নিলে সেটা বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে উপহাস করে তিনি বলেছিলেন, ‘কেউ যদি তাকে ওয়েবস্টার বা অন্য কোনো ডিকশনারি অনুযায়ী বোঝাতে চান, সেটা তিনি বুঝতে পারবেন না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশের নিজস্ব একটা ব্যবস্থা রয়েছে, কাজটি সেভাবে হবে। তিনি তখন সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের সাথেও একান্তে কথা বলেছিলেন। গোপনে কী কথা বলেছিলেন তার সাথে, এরশাদ পরে সেটা ফাঁস করে দেন। ওই নির্বাচনের অবস্থা সবাই জানেন। দিল্লি এমন একটা লোকদেখানো নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য চেয়েছে। অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। যেসব আসনে একাধিক প্রার্থী ছিলেন, সেখানেও ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো ছিল না। অনেক কেন্দ্রেই কোনো ভোটার উপস্থিত হননি। বাংলাদেশী মানুষের ভোটাধিকারের প্রতি এটি কেমন ধরনের শ্রদ্ধাবোধ ভারতের? এ প্রশ্নটি এ দেশের নাগরিকদের। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতের বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞরা এমন মন্তব্য করেছেন, সার্বভৌম বাংলাদেশের জনগণের জন্য সেটা সম্মানজনক হয়নি। তারা মন্তব্য করেছেন, দিল্লির রাডারের আওতায় আসা দেশটিকে আর রাডারের আওতার বাইরে যেতে দেয়া ঠিক হবে না। স্বাধীন দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে এভাবে কেউ বলতে পারে না। বাস্তবতা হচ্ছে, দড়িকে যত শক্ত করে টেনে বাঁধা হয়; সেটা একই ধরনের বেগে ছিঁড়ে দূরে সরে যায়। বাংলাদেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতকে বাধা মনে করে। তারা ভোট দেয়ার শক্তি অর্জন করলে সেটা ভারতের ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে দেয়াই স্বাভাবিক। উপমহাদেশে মানুষের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়নি ভারতের। এর প্রধান কারণ, দেশটি নিজের জন্য যা ভালো মনে করে, সেটা অন্যের জন্য ভালো মনে করে না। দেশটির সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণতান্ত্রিক ভিত্তি পেয়েছে। একইভাবে নির্বাচন কমিশনসহ বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী ভিত্তি পাক, সেটা ভারত চায় না। ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভারতীয় হাইকমিশনারের বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে দৃষ্টিকটু দৌড়ঝাঁপ সবাই দেখেছে।
শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপের ব্যাপারেও একই কথা বলা যায়। এসব প্রতিবেশী রাষ্ট্রে ভারত তাদের দারুণ গণতন্ত্র রফতানি করেনি। তারা বরাবর কোনো রাজনৈতিক দলের ঘাড়ে সওয়ার হতে চেয়েছেন। এর ফলে দেখা গেল প্রতিটি দেশ রাজনৈতিক গোলযোগে পড়েছে। নেপাল ও শ্রীলঙ্কা এই গোলযোগ থেকে দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞা দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। নেপাল ভারতীয় বলয় থেকে বের হওয়ার জন্য কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম করেছে। সর্বশেষ, একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সংবিধান প্রণয়ন করতে গিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনে তারা বিপর্যস্ত হয়। চীনারা তাদের জন্য একটি বিকল্প নিয়ে সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন দেশটিতে দিল্লির আগের প্রভাব নেই; কিন্তু গণতন্ত্র আছে। মালদ্বীপের জনগণের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে সেখানে ভারত নিজের মডেলে কোনো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলায় সাহায্য করেনি। অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের মতো সেখানেও তারা নিজেদের পছন্দের সরকার দেখতে চেয়েছে। ভঙ্গুর গণতন্ত্রচর্চার সুযোগে দেশটিতে এখন একনায়ক চেপে বসেছে। তার কিন্তু আবার জনভিত্তি রয়েছে। মূলত ভারত দেশটির জনগণকে বন্ধু বানাতে পারেনি, এই সুযোগ এই একনায়ক পাচ্ছে। এর পাশাপাশি চীনও এগিয়ে এসেছে তার সমর্থন নিয়ে। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনের সমর্থনে ভারত মহাসাগরে এখন চীনের ১১টি যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কাও ‘বেরিয়ে গেছে ভারতীয় রাডার থেকে’। রাজাপাকসে ক্ষমতা থেকে হটে গেলেও পরবর্তী সরকার দিল্লিকে সেভাবে সাপোর্ট করতে পারেনি। চীন যে দরজা ও জানালা খুলেছে, তার আলো-বাতাস নিয়ে শ্রীলঙ্কা একটি অবস্থান নিতে সক্ষম হয়েছে। দেখা গেল, গণতান্ত্রিক ভারত উপমহাদেশে ভিলেন হয়ে যাচ্ছে। অন্য দিকে ‘অগণতান্ত্রিক’ চীন নায়ক বা ত্রাতার ভূমিকায় আপনা থেকে উপস্থিত হচ্ছে। চূড়ান্ত পরিণামে গণতান্ত্রিক ভারত কোথাও তার স্বার্থ রক্ষা করতে পারছে না। নিজেদের জন্য ভালো হিসেবে পছন্দ করে নেয়া গণতন্ত্রকে বন্ধুদের দেশে ঈর্ষাবশত চর্চা করতে না দেয়াই কি এর মূল কারণ?
jjshim146@yahoo.com

No comments

Powered by Blogger.